1 Answers
সিফাত ও মাজেদা ভাবী তথা সমগ্র সমাজকে সুদ ও ঘুষের কবল থেকে রক্ষা করতে ইসলাম কার্যকরী ব্যবস্থা রেখেছে। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষকে ক্ষতিকর সকল বিষয় থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা ইসলামে রয়েছে। সুদ, ঘুষও তা থেকে বাদ যায় না। কঠোরভাবে সুদ নিষিদ্ধ করে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- 'মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো' [সূরা আলে-ইমরান: ১৩০]। সুদ প্রতিরোধের জন্য সুদ কারবারিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করে আল্লাহ বলেছেন- 'মুমিনগণ! যদি তোমরা সত্যিই মুমিন হয়ে থাক, তাহলে আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে তা পরিত্যাগ করো। আর যদি তোমরা তা পরিত্যাগ না কর তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও।' ঘুষ নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, বলুন মুহাম্মদ! হারাম ও অপবিত্র জীবিকা সমান নয়। যদিও হারামের আধিক্য তোমাদের বিস্মিত করে। কাজেই হে বুদ্ধিমানগণ, আল্লাহকে ভয় করো' -[সূরা আল-মায়িদা: ১০০]। আর রাসুলুল্লাহ (স) বলেন- 'যার হাতে আমার জীবন তাঁর কসম! ব্যক্তি যা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করবে কিয়ামতের দিন সে তা নিয়েই উপস্থিত হবে। যদি গাধা গ্রহণ করে থাকে গাধা চিৎকার করতে থাকবে। যদি গাভী গ্রহণ করে থাকে গাভী চিৎকার করতে থাকবে।' রাসুলুল্লাহ (স) একদিকে ঘুষ গ্রহীতার জন্য এ লজ্জাজনক পরিণতি বর্ণনা করেছেন অপরদিকে সুদের ধ্বংসাত্মক পথ থেকে মুমিনদের বিরত রাখতে সুদ ও সুদ সংশ্লিষ্ট লোকদের ধ্বংস কামনা করেছেন। তারপরও সুদ ও ঘুষের মতো ইসলাম ও মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধে কেউ লিপ্ত হলে ইসলাম তাকে চিরস্থায়ী জাহান্নামে নিক্ষেপ করার অঙ্গীকার করেছে। সুতরাং বলা যায়, সমাজকে সুদ ও ঘুষের কবল থেকে মুক্ত করতে ইসলামে এ দুটি অনাচারকে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।