2003 views

2 Answers

sms এর পূর্ণরূপ SHORT MESSAGE SERVICE

2003 views

একটু লবণ, শুকনা মরিচ পোড়া অথবা কাঁচা মরিচ এবং পিঁয়াজ সঙ্গে থাকলে একটু আচার খেয়ে মজা পান্তাভাত। বাংলাদেশ সহ পূর্ব এবং দক্ষিণ ভারতে এ খাবারের প্রচলন চলে আসছে প্রাচীন কাল থেকে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবারে। এখন ও কারো গরিবি হাল বোঝাতে বলা হয় ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়।’ এখনো পান্তা বুড়ির গল্প গ্রাম অঞ্চলে মানুষের মুখে মুখে।

১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে (১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর) ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, যেখানে সম-পরিমাণ গরম ভাতে থাকে মাত্র ৩.৪ মিলিগ্রাম। এছাড়া ১০০ গ্রাম পান্তাভাতে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৩৯ মিলিগ্রাম এবং ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৫০ মিলিগ্রাম, যেখানে সম-পরিমাণ গরম ভাতে ক্যালসিয়াম থাকে মাত্র ২১ মিলিগ্রাম। এছাড়া পান্তা ভাতে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে হয় ৩০৩ মিলিগ্রাম যেখানে সম-পরিমাণ গরম ভাতে সোডিয়াম থাকে ৪৭৫ মিলিগ্রাম। পান্তা ভাত ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২ এর ভালো উৎস। পান্তাভাত শর্করাসমৃদ্ধ জলীয় খাবার।

আমেরিকান পুষ্টিবিদ যিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের খাদ্যাভাস নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি মন্তব্য করেছেন যে দক্ষিণ ভারতের মানুষ আগের দিন রান্না করা ভাত রাতভর পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে খায় তা সর্ব্বোত্তম।

বহু ধরে দক্ষিণ ভারতের বহু মানুষের বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত কম আয়ের পরিবারের প্রধান খাদ্য পানিতে ভিজানো ভাত। তবে সেখানেও তথা কথিত আধুনিকতার হাওয়া লেগেছে। এ ব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। পানিতে ভিজানো ভাতের স্থান দখল করছে ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুড।

গবেষণায় দেখা যায় যে, আগের দিন রান্না করা রাতভর পানিতে ভিজিয়ে রাখা ভাতের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২। এ ভাতের মধ্যে রয়েছে অনেক উপকারি ব্যাকটেরিয়া যা খাদ্য হজম করতে সহায়তা করে এবং বহু রোগ প্রতিরোধ করে। এ ভাতে রয়েছে হাড় ও পেশি শক্তি বৃদ্ধির উপাদান এবং বার্ধক্য প্রতিরোধ ক্ষমতা। পুষ্টিবিদগণ পান্তা ভাতের আরো অনেক গুণাগুনের বিবরণ দিয়েছেন যেমন:

১. পান্তা ভাত খেলে শরীর হালকা থাকে এবং কাজে বেশি শক্তি পাওয়া যায়।

২. মানব দেহের জন্য উপকারি বহু ব্যাকটেরিয়া পান্তা ভাতের মধ্যে বেড়ে যায়।

৩. পেটের পীড়া ভাল হয় এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় রাখে।

৪. কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং শরীরে সজিবতা বিরাজ করে।

৫. রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।

৬. অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সবল হয় এবং মেজাজ ভাল থাকে।

৭. এলার্জি জনিত সমস্যা প্রশমিত হয় এবং ত্বক ভাল থাকে।

৮. সব রকম আলসার দূরীভূত হয়।

৯. শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

১০. মন মেজাজ ভাল রাখে।

আপনার প্রশ্নটি করার জন্য ধন্যবাদ।

2003 views