3 Answers

Md Ariful Islam
বিএসসি(সিএসই), এমবিএ(মার্কেটিং)
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার Bissoy.com

গতিই জীবন, স্থিতিতে মৃত্যু

 ,

এ বিশ্বজগত স্থিতিশীল নয়। অনন্তকাল ধরে এটি তার আপন নিয়মে চলছে। যেদিন এর ব্যত্যয় ঘটবে সেদিন মহাপ্রলয় সংগঠিত হবে। এ বিশ্বজগতের মতো মানুষের জীবনও চলমান। এই চলমান জীবনে বেঁচে থাকতে হলে মানুষকে প্রতি পদে পদে সংগ্রাম করতে হয়। কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রাম মানুষকে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌছে দেয়। নদী যখন বয়ে চলে তখন তার বুকে ময়লা আবর্জনা জমে না। কিন্তু যদি নদীর গতি রোধ করা হয় তাহলে নদীটি ছোট হয়ে যেতে থাকে। এবং এক সময় এটি বিলীন হয়ে যায়। বিবর্তনবাদের জনক বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন বলেছেন- “প্রকৃতির জগতে যে অধিকতর যোগ্য সেই টিকে থাকবে।” অর্থঃ াৎ সকল বাধা বিপত্তিকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে যারা এগিয়ে যেতে পারে তারাই প্রকৃত পরিশ্রমী। তাদের হাতেই রয়েছে সাফল্যের চাবিকাঠি। আর যারা অলস, কর্মহীন তারা জড় পদার্থের মতো। এরা সমাজ সভ্যতার কোনো উপকারতো করেই না বরং গতিশীল জীবনকে ব্যাহত করে। কর্মহীন জীবন মৃত্যুরই নামান্তর। সুতরাং গতিশীলতা ছাড়া মানবজীবন যথার্থ পরিচয় বহন করে না। গতিশীলতাই মানুষের সকল কর্মকে সফল করে তোলে। মৃত্যু অবধি মানুষ এই গতিশীলতাকে পুঁজি করে জীবন পরিচালনা করে এবং সাফল্য লাভ করে।

শিক্ষা: ব্যক্তিজীবন ও জাতীয় জীবন উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতির চাবিকাঠি গতিময়তা। যে জাতি পরিশ্রমী সে জাতির উন্নতি অগ্রগতি কেউ রুখতে পারে না। তাই কর্মহীন জীবন কখনোই কাম্য হতে পারে না।

3489 views Answered

গতিই জীবন, স্থিতিতে মৃত্যু

মূলভাব : গতিশীলতা বা প্রবাহমানকতাই জীবনকে প্রাণবস্ত করে তোলে, আর স্থবিরতা আত্মার মৃত্যু ঘটায়।

সম্প্রসারিতভাব : এ জগৎ স্থিতিশীল নয়। অনন্তকাল ধরে এটি চলবে মহাকালের গতি যেদিন থেমে যাবে সেদিন ঘটবে মহাপ্রলয়। এ অনন্ত যাত্রা পথে আমাদের জীবনও তাই এবং ভবিষ্যতেও গতিশীল। গতিশীলতার মধ্যেই ফুটে ওঠে জীবনের লক্ষণ। সংগ্রাম মুখর আমাদের জীবন। জীবনে বেঁচে থাকতে হলে কাজের প্রয়োজন। কর্মই মানুষকে গতিশীল রাখে। কুঁড়ে এবং গোঁড়া ব্যক্তিরা সমাজে জীবন্মৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। কারণ তাদের আত্মার মৃত্যু অনেক আগেই ঘটে যায়। স্রোতস্বিনী নদীর জলে কারণে সেখানে শেওলা জমাতে পারে না। কিন্তু স্রোতহীন নদী শেওলায় ভরে যায় এবং এতে জল নষ্ট হয়ে ব্যহারের অযোগ্য হয়। তেমনি কর্মময় জীবনই হচ্ছে জীবন। কর্মহীন জীবন মৃত্যুর নামান্তর। এ পৃথিবী হচ্ছে এক বিরাট রণক্ষেত্র। সংগ্রাম করে, যুদ্ধ করে এখানে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়। ডারউন বলেছেন, ‘প্রকৃতির জগতে যে অধিকতর যোগ্য সেই টিকে থাকবে।’ অথাৎ পৃথিবীতে বাঁচতে হলে, টিকে থাকতে হলে সংগ্রাম করেই টিকে থাকতে হবে। দৃষ্টি রাখতে হবে সামনের দিকে, পেছনের দিকে নয়। চিন্তা, চেতনায় যারা অগ্রসর তারাই এগিয়ে যায় প্রগতির পথে। তারাই আনেন বিবর্তন, সৃষ্টি করে নব নব সভ্যতা। মানুষের কল্যাণের জন্য তারাই আবিষ্কার করে নতুন নতুন উপাদন। আর যারা কর্মহীন কুঁড়ে তারা জড় পদার্থের মত অচল। এরা কোন উপারেতো আসেই না বরং অপরের চলার গতিকে ব্যাহত করে। তাই এরা যেমন উপেক্ষিত তেমনি অবাঞ্চিত।

কর্মহীন জীবন কোন মানুষেরই কাম্য হতে পারে না। এতে করে মানুষ অচল ও অসাড় হয়ে পড়ে। কাজই মানুষের জীবনে আনবে গতি। যে গতিতে মানুষ জীবনের অর্থ খুঁজে পাবে।

3489 views Answered

গতিই জীবন, স্থিতিতে মৃূত্য

সৃষ্টিশীল যা কিছু দৃশ্যমান, তার সবকিছুই প্রবাহমান। চলমানতাই জীবনের বৈশিষ্ট্য, নিশ্চলতা মৃত্যু। স্থবিরতা ব্যক্তি ও সমাজজীবনকে যেমন স্তিমিত করে দেয়, জাতীয় জীবনকেও করে বিপর্যস্ত। ঐশ্বর্যমণ্ডিত ও সমৃদ্ধ জাতীয়-জীবনে তাই গতিশীলতার কোনো বিকল্প নেই।

নদীর গৌরব তার স্রোতধারার মধ্যে, স্রোতই নদীকে গতিশীলতা দান করে, তার বুকে ভরে দেয় পূর্ণতার সার্থকতা। সব জঞ্জাল, মালিন্য আর ক্লেদাক্ত আবর্জনা নদীর দুরন্ত গতিধারায় ভেসে চলে যায়। নদীর বহমান ধারায় প্রতি মুহূর্তে জলরাশি নিত্য-নতুন, কোনো পঙ্কিল বাধা তার জলকে মলিন করে তুলতে পারে না। সব মালিন্য ধৌত করে নদী আন বেগে চির-চঞ্চল, উৎস থেকে মোহনার পূর্ণতার অভিমুখে নিত্য ধাবমান। এই নদীই তার গৌরব হারায় যখন কোনো কারণে তার বেগ মন্দীভূত হয়ে পড়ে, তার স্রোতধারা রুদ্ধ হয়ে যায়, তার গতি স্থির হয়ে যায়। তখন তার বুক শৈবাল বা আবর্জনায় ভরে ওঠে। তদ্রুপ, ব্যক্তিগত তথা সামাজিক জীবনে কোনো ব্যক্তি যদি স্থবির হয় তবে তার জীবনে উন্নতির আশা অবাস্তব কল্পনা ছাড়া তার কিছুই নয়। নদীর মতোই জাতিয় জীবনের পূর্ণতাও নির্ভর করে তার চলমানতার ওপর।

অগ্রগমনই জাতির বিকাশোন্মুখের পরিচায়ক। যে জাতির স্বাভাবিক চলনধর্ম আছে, সে জাতিই নবীন সভ্যতাকে সহজে আত্মসাৎ করতে পেরেছে। সংকীর্ণ আচার-বিচার-সংস্কার সে গতিপ্রবাহকে রুদ্ধ করতে পারে না, সচলতার বেগেই সব বাধাকে অনায়াসে সে অতিক্রম করে যায়। স্বচ্ছন্দ ও নির্বাধ গতিতে এগোতে না পারলে জাতির আত্মবিকাশ ব্যাহত হয়। পদে পদে শাস্ত্রের অনুশাসন ও দেশাচারের বাধা-নিষেধ স্বতঃস্ফূর্ত বহমান জীবনধারাকে স্তব্ধ করে। চলমানতা হারিয়ে ফেলার অর্থই হল জাতির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সফল সম্ভাবনার অপমৃত্যু। জীবনে উন্নতির চাবিকাঠি হল সংস্কারমুক্ত হয়ে গতিময়-জীবনের দিকে অগ্রসর হওয়া। যে জাতি যতদিন উন্নয়নকামী ও কর্মঠ থাকে, ততদিন কোনোরূপ কুসংস্কার তার গতি রোধ করতে পারে না। কিন্তু সে-জাতি যদি তার পুরাতন ঐতিহ্যকে বুকে ধরে অগ্রগতির পথে না এগোয় তবে স্রোতহীন নদীর মতোই শত সংস্কার এসে তাকে ঘিরে ফেলে। ফলে ধীরে ধীরে সে এ-ধরা থেকে লয়প্রাপ্ত হয়। একইভাবে ব্যক্তিজীবনেও গতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সংগ্রামে-সংঘাতের মধ্য দিয়ে জীবনের শ্রেষ্ঠ ফসলটি তুলে নেওয়া যায়। কর্মবীর মানুষই সৌভাগ্যের স্বর্ণশীর্ষে হয় আসীন। বিপরীতপক্ষে যারা অলস, কর্মবিমুখ, জীবনের চলার পথ যাদের রুদ্ধ, স্থির, তাদের পদে পদে বরণ করে নিতে হয় পরাজয়, জীবনভর তাকে হতাশায়, নিরাশায় দীর্ঘশ্বাসের সেতু রচনা করতে হয়।

যে জাতির জীবনধারা অচল, অসার সে জাতির অপমৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। গতিশীল জীবন প্রবাহই জাতীয় জীবনকে করে জীবন্ত ও উজ্জ্বল।

3489 views Answered

Related Questions

Next steps