5 Answers
দীন-ই-ইলাহি চালু করেন সম্রাট আকবর।
অনেক বাছ-বিচারের পর ১৫৮২ সালে চল্লিশ বছর বয়সে ভারতের মহান অধিপতি আকবর আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ধর্ম প্রবর্তন করেন। এই ধর্মের নাম দেওয়া হয় দীন-ই-ইলাহী। যার অর্থ ঈশ্বরের ধর্ম।
আর আকবর নিজেকে ঘোষণা করেন খলীফাতুল্লাহ, অর্থাৎ ঈশ্বরের প্রতিনিধি। দীন-ই-ইলাহীর কালিমা ছিল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আকবর খলীফাতুল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মহান আকবর সেই আল্লাহরই প্রতিনিধি)।
সম্রাট জালালুদ্দিন মুহাম্মদ আকবর ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে দ্বীনে ইলাহি চালু করেছিলেন।তিনি ইসলাম,হিন্দু,জৈন, পারসি ও খ্রীষ্টান ধর্মের সংমিশ্রনে দ্বীনে ইলাহি তৈরী করেন।তার এ ধর্মের কালেমা ছিল"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আকবর খলিফাতুল্লাহ"।এ ধর্মে একজন আরেক জননের সাথে দেখা হলে সালামের পরিবর্তে একজন "আল্লাহু আকবর" বলতো জবাবে আরেকজন "জাল্লা জালালুহু" বলতেন।তাকে সিজদা দেওয়ার আইন করেন। তার এ কাজের বিরুধিতা করায় করারেন তৎকালিন মুজাদ্দিদে আল ভিসানি (র.) কে জেলে আটকানো হয়।তাকে যখন সম্রাটেরর দরবারে দাওয়াত দোওয়া হয়েছিল তখন দরবারের গেটটা নিচু করে বানানো হয়েছিল।যাতে কেউ প্রবেশ করলে মাথা নিচু করে ঢুকে, আর এটাই আকবর সিজদা হিসেবে ধরে নিতেন।ভিসানি (র) এটা দেখে মাথা নিচু না করে সম্রাটের দরবারে নিজের বাম পা আগে প্রবেশ করান।এ অপরাধেও তাকে জেলে বন্দি করা হয়।কয়েক মাস পর জেলের জেলার সাহেব সম্রাটের দরবারে চিঠি লেখেন "জাঁহাপনা! জেল তো হয় চোরের জন্য ডাকাতের জন্য কিন্তু মুজাদ্দিদে আল ভিসানি নামক যে লোকটাকে জেলের মধ্যে পাঠিয়েছেন তিনি আসার পরে এ জেলের যত চোর আর ডাকাত ছিল সব আল্লাহর ওলিতে পরিণত হয়ে গিয়েছে"।সম্রাট আকবরের সেকেন্দ্রায় কবর রয়েছে কেউ যিয়ারত করতে যায় না,মুজাদ্দিদে আল ভিসানি (র.) ওরফে খাজা মঈনুদ্দীন চিশতি (র.) এর দরবারে আজও হাজার হাজার মানুষ যিয়ারত করতে যায়।কারন,দ্বীনদার, ঈমানদার ব্যাক্তির মহব্বত আল্লাহ তায়ালা মানুষদের মধ্যে তৈরী করে দেয়।
দীন-ই-ইলাহি, (ফার্সি: دین الهی lit. "ঈশ্বরের ধর্ম")[১][২] উচ্চারনভেদে দ্বীন-এ এলাহী ১৫৮২ সালে সম্রাট আকবর প্রবর্তিত একটি ধর্ম। তিনি ধর্মীয় বিষয়ে গবেষণার জন্য ১৫৭৫ খ্রী আকবর ফতেপুর সিক্রিতে একটা উপাসনা ঘর তৈরী করেন। যা'ধর্ম সভা' নামে পরিচিত। সেখানে তিনি বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের কথা শুনতেন। অবশেষে সকল ধর্মের সারকথা নিয়ে তিনি নতুন একটি নিরপেক্ষ ধর্মমত প্রতিষ্ঠা করেন। এটিই 'দীন-ই-ইলাহি' (১৫৮২) নামে পরিচিত। তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা এই ধর্মমতকে ভালভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। অনেক ঐতিহসিক দীন-ই-ইলাহীকে নতুন ধর্ম বলতে অস্বীকার করেন। এই ধর্মমত সম্রাট আকবরকে বিতর্কিতও করে তুলেছিল। ফলশ্রুতিতে এই ধর্মমত তেমন প্রসার লাভ করতে পারেনি।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy