অমুসলিম মনীষীদের দৃষ্টিতে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)
◆অমুসলিম মনীষীদের দৃষ্টিতে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ):
১★টমাস কার্লাইলঃ আমি মোহাম্মদকে পছন্দ করি, ভন্ডামি থেকে তাঁর সম্পূর্ণ মুক্তির জন্য।
২★এডওয়ার্ড গিবনঃ মোহাম্মদের ধর্মমত স্বার্থকতার সন্দেহ থেকে মুক্ত আর কুরআন আল্লাহর অদ্বিতীয়ত্বের গৌরবময় সাক্ষ্য। মানবজাতির বিশ্বাসের উপর বিধি-সংগত আধিপত্য বিস্তার করা শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা অনুপ্রাণিত কোন নবীর পক্ষেই সম্ভব।
৩★এইচ জি ওয়েলসঃ মোহাম্মদ কোনো মানুষের ক্ষতি না করেই সেই আকর্ষণীয় বিশ্বাসগুলো মানবজাতিকে হৃদসংগম করেছিলেন। ইসলাম সৃষ্টি করেছিলো এমন এক সমাজ, যা আগের যেকোনো সমাজের তুলনায় নিষ্ঠুরতা ও সামাজিক অত্যাচার থেকে মুক্ত।
৪★মহাত্মা গান্ধীজীঃ অনুচরদের জীবনী থেকে আমি খোদার নবীর জীবনী অধ্যয়নে উপনীত হলাম। আমার বিশ্বাস জন্মালো যে, ঐ সময় যে জিনিসের মাধ্যমে ইসলামের আসন অর্জিত হয়েছিলো, তা তরবারি নয়। তা ছিলো নবীর সরলতা, সম্পূর্ণ অহম বিলাপ, চুক্তির প্রতি সম্মান, বন্ধু ও অনুসারীদের প্রতি গভীর অনুবাস এবং তাঁর নির্ভীকতা।
৫★গুরু নানকঃ মানুষ যে অবরিত অস্থির ও দোজখে যাবে, তার একমাত্র কারন হলো, মোহাম্মদ নবীর প্রতি ভালো কোনো শ্রদ্ধা নেই।
৬★প্রফেসর মন্টগোমারী ওয়াটঃ তিনি সৃষ্টি করেছিলেন সামাজিক নিরাপত্তার এমন এক নতুন পদ্ধতি ও সংগঠন, যার উভয়টিই ছিলো পূর্বেকার ব্যবস্থার উপর বিরাট উন্নতির সাধন।
৭★পন্ডিত জহেরু লাল নেহেরুঃ হযরত মোহাম্মদের প্রচারিত ধর্ম, তাঁর সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা এবং বৈপ্লবিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সাম্য ও ন্যায়নীতি পার্শ্ববর্তী রাজ্যের লোকদের অনুপ্রাণিত করে, তাদের কাছে এ নতুন ব্যবস্থা ছিলো মুক্তির দিশারী।
৮★নেপোলিয়ন বোনাপার্টঃ আমি প্রশংসা করি সৃষ্টিকর্তার এবং আমার শ্রদ্ধা রয়েছে পবিত্র নবী ও পাক কুরআনের প্রতি। কয়েক বছরের মধ্যেই মুসলমানরা অর্ধেক পৃথিবী জয় করেছিলো। মিথ্যা দেবতা বা শয়তানের কাছ থেকে তারা ছিনিয়ে নিয়েছিলো আরো অনেক আত্মাকে। তাই মোহাম্মদ এক মহান ব্যক্তিত্ব।
৯★জর্জ বার্নাডশঃ আমি সবসময়ই মোহাম্মদের ধর্ম সম্পর্কে, তাঁর আশ্চার্য জীবনী শক্তির কারনে উচ্চ শ্রদ্ধা পোষন করে এসেছি।
১০★আর বি সি ব্যাডলঃ মনে হয়, একথা জোর নিয়ে প্রকাশ করা আল্লাহরই ইচ্ছা ছিলো যে, মোহাম্মদ তাঁর শেষ নবী এবং ইসলাম তাঁর দেয়া শেষ ধর্ম।
১১★মেজর আর্থার ক্লাইন লিওনার্সঃ তিনি ছিলেন যেকোনো যুগ বা কালের গভীরতম খাঁটি ও স্থিরকারীদের অন্যতম। তিনি শুধু মহত্ নন, মানব ইতিহাসে এ যাবত্ যারা আবির্ভূত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে মহত্, সবচেয়ে নিখাঁদ। তিনি মহত্ শুধু নবী হিসেবেই নন, দেশপ্রেমিক এবং রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও।
১২★জন মিল্টনঃ মোহাম্মদ আবির্ভূত হলেন ষষ্ঠ শতাব্দীতে এবং পৌরলিকতাকে নিশ্চিহ্ন করলেন এশিয়া, আফ্রিকা, মিশরসহ পৃথিবীর অনেকাংশ থেকে, যার সর্বাংশেই আজ পর্যন্ত এক পবিত্র আল্লাহর উপাসনা প্রতিষ্ঠিত।
১৩★ফিলিপ কে হিট্রিঃ মোহাম্মদ তাঁর স্বল্প পরিসর জীবনে নগণ্য জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে এমন এক জাতি ও ধর্মের পত্তন করলেন, যার ভৌগোলিক প্রভাব খ্রিস্টান ও ইহুদিদের অতিক্রম করে গেলো। আজো মানবজাতির এক বিরাট অংশ সেই ধর্মের অনুসারী।
১৪★প্রফেসর ল্যামারটিনঃ দার্শনিক, সুবক্তা, স্বর্গীয় দূত, আইনবেত্তা, যোদ্ধা, আদর্শ বিজেতা, মানবিক রীতি-নীতির প্রবক্তা, বিশটি আঞ্চলিক প্রশাসন ও একটি আধ্যাত্মিক সামাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, এই ছিলেন মোহাম্মদ। মানুষের মহত্ত্বের পরিমাপ করা সম্ভব এমন সব মানদন্ডের বিচারেই আমরা যথার্থ এই প্রশ্ন করতে পারি, মোহাম্মদের চাইতে মহত্ কোনো ব্যক্তি আছে কি?
১৫★ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারঃ অনেক জাতির পৌত্তলিকতা ধ্বংস করার জন্য মহান প্রভুর স্বর্গীয় আয়োজনের অনুগ্রহে উত্থিত হয়েছিলো মোহাম্মদের ধর্ম।
১৬★মেজর জেনারেল ফার্লঙঃ আমাদের অবশ্যই একথা স্বীকার করতে হবে যে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম শাসক ও ইতিহাস স্রষ্টাদের তালিকায় এই নবীর স্থান উর্ধ্বে।
১৭★বার্ট্রাড রাসেলঃ শুধুমাত্র পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে আমাদের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ বলেই আমরা ৬৯৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে অন্ধকার যুগ বলে আখ্যায়িত করি। অথচ এই সময়েই ভারতীয় উপমহাদেশ হতে স্পেন পর্যন্ত বিশাল ভূভাগে গৌরবোজ্জ্বল ইসলামী সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
১৮★গ্যেটেঃ এটাই যদি ইসলাম হয়, তাহলে আমরা সকলেই কি ইসলামের অন্তর্ভূক্ত নই?
১৯★জন অস্টিনঃ এক বছরের কিছু বেশি সময় হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) মদীনায় শাসনকার্য পরিচালনা করেছিলেন, যা সমগ্র পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছিলো মহা আলোড়ন।
২০★টর আঁদ্রোঃ আমরা যদি হযরত মোহাম্মদের প্রতি সুবিচার করি, তাহলে একথা আমাদের জোর দিয়ে বলতে হবে যে, আমরা খ্রিস্টানরা সজ্ঞানভাবে বা অবচেতনভাবে স্বীকার করি, বাইবেলের স্বর্গীয় বাণীতে আমরা যে অদ্বিতীয় ও সুউচ্চ চরিত্রের দর্শন পাই, মোহাম্মদ সেই চরিত্র।
২১★এনি বেসান্তঃ আরবের নবী মোহাম্মদের জীবন-চরিত্র যিনি অধ্যয়ন করবেন, আর যাই করুন তিনি অবশ্যই সেই নবীকে ভালোবেসে ফেলবেন। মহান স্রষ্টার এ বার্তাবাহী জানতেন কিভাবে জীবনযাপন করতে হয় এবং কিভাবে তা মানুষকে শিক্ষা দিতে হয়। আমি যা বলছি, অনেকেই হয়তো তা জানেন। তবুও যখনই তাঁকে নিয়ে আলোচনা করি, তখনই আরবের সেই শক্তিমান শিক্ষকের প্রতি নতুন করে আবার শ্রদ্ধাবোধ ও অনুরক্তির সৃষ্টি হয়।
২২★এস সি বুকেটঃ মোহাম্মদ (সাঃ)-এর সামাজিক ও রাজনৈতিক আদর্শ ছিলো বিলীয়মান বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য থেকে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন, ব্যাপক, প্রাণ-প্রদীপত্ব ও উদ্যমশীল। তিনি খুবই সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন, কিন্তু তাই বলে তিনি কখনো সন্যাসী ছিলেন না।
২৩★আর ভি সি দয়ালঃ মোহাম্মদ (সাঃ) ধর্মের ইতিহাসে অদ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আছেন। কারন তিনি কোনো সন্যাসী বা দেবতা ছিলেন না, বরং অমায়িক চরিত্রের কারনে সকলের উপর তাঁর ছিলো বিস্ময়কর প্রভাব।
২৪★এন এন ব্রেঃ হজ্জ্ব অনুষ্ঠানের দ্বারা মোহাম্মদ যা করেছেন, তা নিছক এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনেক উর্ধ্বে। হজ্জ্বের মতো মহা সম্মেলন বিশ্বের সকল প্রান্তের মুসলমানদের ধ্যান-ধারণা ও আদান-প্রদানের যে স্থায়ী ব্যবস্থা করেছে, তার কাছে আজকের ইউরোপের সুসংবদ্ধ ও সুশৃংখল প্রচার ব্যবস্থা প্রায় মূল্যহীন।
২৫★লা ঝোঁকে ডি বোর্লেভিলাঃ মোহাম্মদ যে ধর্মীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, তা তাঁর সাথীদের মন-মেজাজ ও দেশের প্রচলিত রীতি-নীতির ক্ষেত্রে শুধু উপযুক্ত ছিলো না, বরং তা ছিলো এসবেরও অনেক উর্ধ্বে। মাত্র ৪০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ তাঁর ধর্মে আশ্রয় গ্রহণ করলো। সুতরাং এটা এমন একটা মতাদর্শ, যার কথা শুনতে হয় এবং যা স্বাভাবিকভাবেই হৃদয়ে প্রবেশ করে থাকে।
২৬★বিশপ বয়ড কার্পেন্টারঃ ভয় ও অজ্ঞানতার কুয়াশার মধ্য দিয়ে অনেকেই মোহাম্মদকে অবলোকন করেছেন এবং তাঁদের কাছে তিনি এমন ভয়ংকর যে, যার সম্পর্কে যেকোনো মন্দ কথাই উচ্চারণ করা যায়। কিন্তু এখন সেই সন্দেহের মেঘ দূরীভূত হয়েছে, ইসলামের মহান প্রবর্তককে এখন আমরা পরিষ্কার আলোকে অবলোকন করতে পারছি।
২৭★জন ডেভেনপোর্টঃ ইসলামের প্রথম অনুসারীরা ছিলেন মোহাম্মদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নিকট আত্মীয়। নবীর সত্যতার এটা একটা শক্তিশালী প্রমাণ। কারন, তাঁরা ব্যক্তি মোহাম্মদ ও নবী মোহাম্মদকে ঘনিষ্ঠভাবে জানতেন। নবুয়তেরও ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে, তাঁদের দৃষ্টি এড়াতো না।
২৮★এইচ এ আর গিবনঃ আজ এটা এক বিশ্বজনীন সত্য যে, মোহাম্মদ নারীদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেন।
২৯★মরিস গডফ্রেঃ মোহাম্মদ একজন রাসূল ছিলেন, এটা যেকোনো নিরপেক্ষ মানুষের কাছেও সুস্পষ্ট। তত্কালীন সময়ে তাঁকে ঘিরে মুসলমানদের যে সভা-সমাজ গড়ে উঠেছিলো, মুসলমানরা তাঁর আইন পালন করে সন্তুষ্ট ছিলো।
৩০★আর্থার গিলম্যানঃ মক্কা বিজয়কালে মক্কাবাসীদের অতীত দুর্ব্যবহার তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজিত করা উচিত ছিলো, কিন্তু তিনি তাঁর সেনাবাহিনীকে সকল রক্তপাত থেকে বিরত রাখেন। মাত্র ১০জন ব্যক্তিকে তাঁদের অতীতের জঘন্য অপরাধের জন্য দন্ড প্রদান করা হয়, এর মধ্যে ৪জন মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়। অন্যান্য বিজেতাদের তুলনায় এটা এক মহত্ দৃষ্টান্ত। ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেম আধিকার কালে খ্রিস্টান ক্রুসেডাররা ৭০০০০ মুসলিম নারী, শিশু ও অসহায়দের নির্মমভাবে হত্যা করে।
৩১★স্যার উইলিয়াম ম্যুরঃ হিজরীর ১৩ বছর আগে মক্কা প্রাণহীন অবস্থায় অবনত হয়ে পড়েছিলো। এই ১৩টি বছর মোহাম্মদ (সাঃ) সেখানে এনেছেন আমূল পরিবর্তন।
৩২★এম এন রায়ঃ মোহাম্মদ (সাঃ)-এর ধর্মের দারুন বিস্তার মানবজাতির ইতিহাসে স্থাপন করেছে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর এক অধ্যায়। নিজের প্রতিষ্ঠার জন্য সব ধর্ম প্রচারকই অদ্ভূত কোনো কান্ড কিংবা অলৌকিক কোনো ঘটনার সাহায্য গ্রহণ করে থাকেন। সেই দিক দিয়ে মোহাম্মদ (সাঃ) তাঁর পূর্বের ও পরের যেকোনো মনীষী অপেক্ষায় শ্রেষ্ঠ বলে পরিগণিত হবার যোগ্য। জগতে যত অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে, ইসলামের প্রসার তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
৩৩★মিসেস এনি বেসান্তঃ কত অসম্পূর্ণ সেই সব লোক, যারা নবী মোহাম্মদ (সাঃ)-কে আক্রমণ করে। অনেকেই তাঁর জীবন ইতিহাস জানে না। কত সহজ, কত বীরত্বব্যঞ্জক, পরিশেষে কত মহত্, ঐতিহাসিক মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
৩৪★স্যার পি সি রাম স্বামী আয়ারঃ ইসলামে নিম্নতম মর্যাদার লোকটিও উচ্চতম মর্যাদার লোকটির সমান। ছিন্ন বস্ত্র পরিহিত ভিখারি লোকটি নামাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে আর সুলতান তাকে অনুসরণ করছেন। মোহাম্মদ (সাঃ)-এর ধর্ম ব্যতীত আর কোনো ধর্মই ব্যবহারিক জীবনে এতটুকু উজ্জ্বল হয়ে উঠেনি। জাতির বাতীক, হীনতাবোধের বাতীক, সাদা-বাদামী-কালোর বাতীক থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমি তত্ত্বের আশ্রয় নিতে চাই না। খেদমত চাই ইসলামেই, শুধু এমন কোনো বাতীক নেই।
৩৫★প্রফেসর সাধু টি এল বাম্বনীঃ দুনিয়ার অন্যতম মহত্ত্ব বীর হিসেবে মোহাম্মদ (সাঃ)-কে আমি অভিবাদন জানাই। মোহাম্মদ (সাঃ) এক বিশ্ব শক্তি, মানবজাতির উন্নয়নে এক মহানুভব শক্তি। ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করেছিলো কর্ডোভার বৃহত্ বিশ্ববিদ্যালয়, যা সুদূর ইউরোপের বিভিন্ন অংশের শিক্ষার্থীকে আকর্ষণ করত, সেই সব শিক্ষার্থীদেরই একজন যথাসময়ে রোমের পোপ হয়েছিলেন।
৩৬★এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটনিকার সুবিজ্ঞ লেখকঃ পৃথিবীর সকল ধর্ম নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্য লাভ করেছেন হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)।
৩৭★ড্রেপারঃ হযরত ছিলেন সেই মানুষ, যিনি মানবসমাজের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছেন।
৩৮★গিবনঃ মোহাম্মদ (সাঃ)-এর মাধ্যমে ইসলামের অভ্যুত্থান পৃথিবীর ইতিহাসে সৃষ্টি করেছিলো এক বিরাট বিপ্লব, মনুষ্য সমাজে যার প্রভাব হয়েছিলো স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী।
৩৯★জোসেফ হেলঃ অতি অল্প সময়ের মধ্যে যিনি আরবের অমানুষগুলোকে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, শৌর্যে-বীর্যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করেছিলেন, তিনি মোহাম্মদ (সাঃ)।
৪০★জন ড্যাভেন পোর্টঃ এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, সমস্ত আইন প্রণয়নকারী ও বিজয়ীদের মধ্যে একজনও এমন নেই যে, যার জীবনী মোহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন চরিত্র থেকে অধিক বিস্তৃত ও সত্য। খেজুর আর পানি ছিলো তাঁর চিরাচরিত খাদ্য এবং দুধ ও মধু ছিলো তাঁর বিলাস বস্তু। সফরে বের হতেন যখন, তখন সামান্য খাদ্যের গ্রাস তিনি মুখে তুলতেন পরিচারকের সঙ্গে ভাগ করে।
৪১★লর্ড হেডলীঃ মোহাম্মদ (সাঃ)-এর ধর্মে আছে ঘোঁড়ামী থেকে স্বস্তি ও মুক্তি এবং এতে নেই কোনো অসহিষ্ণুতা। আমার মতে, তা হচ্ছে কৃতজ্ঞতা, বিশ্বাস ও প্রেমের ধর্ম, শান্তির ধর্ম।
৪২★টলস্টয়ঃ আমি মোহাম্মদ (সাঃ) থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাঁর আবির্ভাবের পূর্বে পৃথিবী ভ্রান্তির আধাঁরে নিমজ্জিত ছিলো। তিনি সেই আধাঁরে আলো হয়ে জ্বলে উঠেছিলেন। আমি বিশ্বাস করতে বাধ্য যে, মোহাম্মদ (সাঃ)-এর তাবলীগ ও হেদায়াত যথার্থ ছিলো। রাশিয়ার এই প্রখ্যাত ঔপন্যাসিকের মৃত্যুর পর পকেটে পাওয়া গিয়েছিলো প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর মহান বাণীসমূহের অনুবাদ 'সেইংস অব মোহাম্মদ'। এই বইখানির সংকলক স্যার আবদুল্লাহ্ সোহরাওয়ার্দী।
৪৩★ডি এস মারাগালিয়থঃ বিকৃত ও ঘৃণ্য লেখক মারাগালিয়থ আত্মতৃপ্তি লাভ করেছে এই বলে যে, মোহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনী লেখকদের সুদীর্ঘ ফিরিস্তি শেষ হওয়া অসম্ভব। ঐসব লেখকদের নামের পাশে নিজের নাম সংযোজিত করা একটি বিরাট সম্মানজনক কাজ।
৪৪★ক্যাডফ্রে হেগেলঃ যীশুকে যখন শুলে চড়ানো হলো, তখন তাঁর অনুসারীরা পালিয়ে গেলো। তাঁদের ধর্ম নেশা ছুটে যায়, নিজেদের মাননীয় নেতাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখে পলায়ন করলো। পক্ষান্তরে মোহাম্মদ (সাঃ)-এর অনুগামীরা তাদের উত্পীড়িত রাসূল (সাঃ)-এর চতুর্দিকে সমবেত হয়ে তাঁর হেফাজতের জন্য নিজেদের সর্বস্ব বিপদের মুখে নিক্ষেপ করে তাঁকে দুশমনের উপর জয়ী করেছিলো।
৪৫★হোমারটিনঃ দার্শনিক, বাগ্মী, ধর্ম প্রবর্তক, আইন প্রণেতা, সেনানায়ক, মতবাদ বিজয়ী, যুক্তিসঙ্গত ধর্ম মতের সংস্থাপক, মূর্তিবিহীন ধর্মমতের প্রবর্তক, ২০টি পার্থিব সাম্রাজ্য এবং ১টি ধর্ম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, এই ছিলেন মোহাম্মদ (সাঃ)। মানুষের মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব যাচাই করার জন্য যতগুলো মাপকাঠি রয়েছে, সেগুলো দিয়েও যাচাই করলে তাঁর চাইতে শ্রেষ্ঠ মানুষ আর আছে কি?
৪৬★মেজর এ জি লিয়নার্ডঃ পৃথিবীতে বাস করে যদি কোনো মানুষ আল্লাহকে দেখে থাকেন, বুঝে থাকেন, যদি কোনো মানুষ ভালো ও মহান উদ্দেশ্য নিয়ে স্রষ্টা ও সৃষ্টির সেবায় জীবন উত্সর্গ করে থাকেন, তাহলে এটা নিশ্চিত যে, আরবের নবী মোহাম্মদ (সাঃ)-ই সেই ব্যক্তি। তিনি গঠন করেছেন একটি মহান ব্যক্তিত্ব ও একটি সুবিশাল সাম্রাজ্য। তিনি ছিলেন সত্যের জনক। তিনি স্বয়ং ছিলেন সত্য, তাঁর নিজের কাছে, অনুসরণকারীদের কাছে, পরিচিতদের কাছে, কাফের-বেদুঈনসহ সকল মানুষের কাছে, সর্বোপরি মহান আল্লাহ্ তা'আলার কাছে।
৪৭★আলফ্রেড মার্টিনঃ মোহাম্মদ (সাঃ)-এর মতাদর্শ আরবের তত্কালীন সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন সাধনে যেভাবে সফলতা লাভ করেছিলো, দুনিয়ার আর কোনো ধর্মীয় ইতিহাসে তার তুলনা চলে না।
৪৮★স্মিথ বাসওয়ার্থঃ কুরআনের মধ্যে আবদ্ধ আধ্যাত্মিকতাপূর্ণ একটি সুচিন্তিত মস্তিষ্ক আল্লাহর প্রেমের নেশায় মগ্ন, কিন্তু তার সঙ্গে মানবিক দৌর্বল্যেরও যোগ আছে। এ দৌর্বল্য থেকে মুক্ত হবার দাবি তিনি কখনো করেননি এবং এটি হচ্ছে মোহাম্মদ (সাঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব।
৪৯★মাইকেল এইচ হার্টঃ আমি মনে করি জাগতিক এবং ধর্মের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণের প্রভাবই মোহাম্মদ (সাঃ)-কে মানব ইতিহাসে এক অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থাপন করেছে।
৫০★ডিনিসন রোজঃ তিনি কখনো মিথ্যা বলেননি বা প্রতারণা করেন নি। তিনি ছিলেন সহজ-সরল ও সত্যবাদী।
৫১★আবদুল মুত্তালিবঃ তাঁকে থাকতে দাও, এই ছেলেই বড় হয়ে এ জাতির নেতা হবে।
৫২★জন ডেভেন পোর্টঃ কোনো ধর্মনেতা বা বিজয়ীর জীবনীই বিস্তৃতি ও ঐতিহাসিকতার দিক দিয়ে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনীর সঙ্গে তুলিত হতে পারে না।
৫৩★মুয়িরঃ
সুদীর্ঘ কুড়ি বছর কাল
দিনের পর দিন
যারা করেছে তাঁকে অত্যাচারে
জর্জরিত
অম্লান বদনে তাঁদেরকে
ক্ষমা করার দৃশ্য দেখে
বিরুদ্ধভাবাপন্ন মুয়ির
বিস্ময়ের সঙ্গে বলেছে,
"এমন মহানুভব ক্ষমা
বিশ্ব কোনো দিন আর দেখে নি।"
৫৪★প্রফেসর ভেস্কট রত্নমঃ মোহাম্মদ (সাঃ)-এর চরিত্র ছিলো সম্পূর্ণ কলঙ্কহীন এবং কতক ক্ষেত্রে যীশু খৃস্টের চেয়েও উন্নত। মোহাম্মদ (সাঃ) কখনো নিজেকে ভগবানের সমান মনে করেন নি। তাঁর অনুসারীরা কখনো একবারের জন্যও বলে না যে, তিনি শুধু একজন মানুষের বেশি আরো কিছু ছিলেন। তাঁরা কখনো তাঁর উপর ঐশী সম্মান আরোপ করে না। শত্রুর প্রতি তিনি ছিলেন সদয়। আল্লাহর নবী মোহাম্মদ (সাঃ) অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে দুনিয়ায় অধিকতর মঙ্গল করে গেছেন।
৫৫★জন মিল্টনঃ অন্যান্য সকল বিশ্বাসের জরাজীর্ণ অবস্থার ও সৃষ্টিকে স্রষ্টার আসনে স্থাপন করার অভিজ্ঞতা লাভে ইসলাম যদিও যথেষ্ট প্রাচীন, তবুও তার অনুসারীরা কখনো তাদের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার লক্ষ্যকে মানুষের ইন্দ্রিয় ও কল্পনার স্তরে নামিয়ে আনে নি এবং কোনো দৃষ্টিগোচর মূর্তি দ্বারা উপাস্যের জ্ঞানালোকিত ভাবরূপকে কখনো কলঙ্কিত করেনি। তারা ঘোঁড়ামী ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত। আমি বিশ্বাস করি, এক আল্লাহ্ ও আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ হযরত মোহাম্মদ (সাঃ), এই হলো ইসলামীত্বের সহজ ও অপরিবর্তনীয় ঘোষণা।
৫৬★প্রফেসর এল ডি ভি জিনিয়েনীঃ কুরআন হতে পারেনা একজন উম্মী লোকের রচনা, যিনি তাঁর সমস্ত জীবন কাটিয়েছেন বিদ্যা ও ধর্মীয় লোকদের থেকে অনেক দূরে অসংস্কৃত এক সমাজের মধ্যে, সর্বশক্তিমান এক আল্লাহর সাহায্য না পাওয়া পর্যন্ত যিনি অলৌকিক ঘটনা সম্পাদনে অসামর্থ ছিলেন।
৫৭★গুস্তাভ ওয়েলঃ মোহাম্মদ (সাঃ) তাঁর জাতির সম্মুখে স্থাপন করলেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর চরিত্র ছিলো পবিত্র ও কলঙ্কহীন। তাঁর বাসগৃহ, পোশাক, খাদ্য, সবই ছিলো বিরল সাধারণত্বে বৈশিষ্ট্যময়। সকলের জন্য সব সময়ে তিনি ছিলেন সহজগম্য। অসুস্থদের দেখতে যেতেন তিনি। সকলের জন্য সহানুভূতিতে পূর্ণ থাকত তাঁর মন। তাঁর মন বদান্যতায় ও উদারতায় ছিলো সীমাহীন। সীমাহীন ছিলো মানব সম্প্রদায়ের কল্যাণের জন্য তাঁর উত্কন্ঠিত মনোযোগ। সকল অঞ্চল থেকে তাঁর জন্য অসংখ্য উপহার অবিরাম সমর্পিত হওয়া সত্ত্বেও নিজের কাছে রাখতেন খুবই সামান্য এবং সেটাকেও তিনি বিবেচনা করতেন রাষ্ট্রের সম্পত্তি হিসেবে।
৫৮★ষ্টানসীঃ তিনি মোহাম্মদ (সাঃ), কল্পনার অদ্ভূত শক্তিতে হৃদয়ের উচ্চতার অনুভূতির মাধুয্য ও বিশ্বস্ততায় ছিলেন বিশিষ্ট। শিশুদের প্রতি খুবই অনুরাগী ছিলেন তিনি। রাস্তায় দাঁড় করিয়ে তাদের ছোট্ট মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। জীবনে কখনো তিনি কাউকে আঘাত করেন নি। তিনি কোনো দিন কাউকে অভিশাপ দেন নি। তিনি বলতেন, "অভিশাপ দেয়ার জন্য আমি প্রেরিত হই নি, প্রেরিত হয়েছি মানবজাতির কল্যাণরূপে।" অসুস্থদের তিনি দেখতে যেতেন। কোনো শবযানের সম্মুখীন হলে তিনি অনুগমন করতেন। তাঁর খাদেমেরও খানার দাওয়াত গ্রহণ করতেন। তিনি সেলাই করতেন তাঁর নিজের পোশাক। ছাগলের দুগ্ধ দোহন করতেন। নিজের সেবা নিজেই করতেন। সহজভাবে বর্ণনা করতেন হাদীস। অন্য কারো হাত থেকে কখনো নিজের হাত আগে সরাতেন না। অন্য লোকটির ঘুরে দাঁড়ানোর আগে নিজে কখনো ঘুরে দাঁড়াতেন না। ধর্ম ও সাধুতার প্রচারক হিসেবে মোহাম্মদ (সাঃ) যে রকম শ্রেষ্ঠ ছিলেন, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও অনুরূপ শ্রেষ্ঠ ছিলেন।
(ধন্যবাদ)
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy