3276 views

2 Answers

অধ্যাপক  হচ্ছে অধিকাংশ দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য মাধ্যমিক পরবর্তী শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবিদের পদ। 
 

অধ্যাপকগণ মূল গবেষণা পরিচালনা করেন এবং সাধারনত যে বিষয়ে গবেষণা করেন সেই বিষয়ে নিম্ন স্নাতক, স্নাতক বা প্রফেশনাল কোর্স সমূহে শিক্ষা দিয়ে থাকেন। যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক বিদ্যালয় আছে সেখানে অধ্যাপকগণ ছাত্রদের মেন্টর এবং সুপারভাইজার হিসেবে স্নাতক স্তরের ছাত্রদের থিসিসের (তত্ত্বীয়) গবেষণা পরিচালনা করেন। অধ্যাপকগণ সাধারণত Ph.D (ডক্টর অভ ফিলোসফি) ডিগ্রিধারী হয়ে থাকেন। কিছু কিছু অধ্যাপক মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা প্রফেশনাল ডিগ্রিধারী যেমন M.D. (ডক্টর অভ মেডিসিন) হয়ে থাকেন।

3276 views

অধ্যাপনা Professorship

এই Professorship শব্দটি মূলত ল্যাটিন শব্দ Profess থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ দৃঢ়কণ্ঠে ঘােষণা করা। এখানে ঘােষণা বলতে জ্ঞানচর্চার এবং সে সম্পর্কিত সত্য প্রচারকেই বােঝান হয়। মূলত উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষকতা পেশাকে বােঝাতে এই অধ্যাপনা শব্দটি ব্যবহৃত হয়। যেখানে পেশাধারী মৌলিক ধরনের উচ্চপর্যায়ের গবেষণায় নিয়ােজিত থাকেন। এসব গবেষণা থেকে পাওয়া জ্ঞানকে প্রথাগতভাবে বলা যায় প্রাতিষ্ঠানিকতা এবং তা দৃঢ়চিত্তে প্রচার করার কাজকেই বলে অধ্যাপনা।

বলাইবাহুল্য যে, এই অধ্যাপনা পেশাটি সমাজের একটি অতি উচ্চ পর্যায়ের ও সম্মানজনক পেশা হিসাবে সারা পৃথিবীতে সমাদৃত। অধ্যাপনা পেশার মূল কাজ তিনটি। প্রথমত, শিক্ষকতা করা ও দ্বিতীয়ত, গবেষণা করা এবং তৃতীয়ত, সামাজিক উন্নয়ন তথা মানব কল্যাণে মৌলিক অবদান রাখা। অবশ্য এই তিনটি কর্ম পরস্পর পরস্পরের সাথে পরিপূরকভাবে সংযুক্ত। সাধারণত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে অধ্যাপনা শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এখানে তেমন পার্থক্য নেই। পার্থক্য হচ্ছে যে শিক্ষকতা পেশায় নিয়ােজিত ব্যক্তি কোন পর্যায়ে শিক্ষাদান করছেন। মূলত নিম্ন-স্নাতক (Under-graduate) এবং স্নাতকোত্তর (post-graduate) পর্যায়ে শিক্ষাদানরত ব্যক্তিকেই বলে অধ্যাপক। তবে এক্ষেত্রে শিক্ষাদানরত সবাইকেই অধ্যাপক বলা হয় না। কেবলমাত্র এদের মধ্যে পদোন্নতি পেয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত পদকেই বলে অধ্যাপক যা কতগুলাে ধাপ অতিক্রম করে আসতে হয়।

পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের বিশ্ববিদ্যায়গুলাের নিয়ম ও প্রচলন অনুযায়ী অধ্যাপনার পদটি মূলত তিনটি সর্বোচ্চ তিনটি পদের সর্বোচ্চ অবস্থান। এ পদ তিনটি হলাে - প্রথমত, সহকারি অধ্যাপক (Assisitant Professor) দ্বিতীয়ত, সহযােগী অধ্যাপক (Associate professor) তৃতীয়ত, অধ্যাপক (Professor) এখানে সহকারী পদটির পূর্বে আরও একটি পদ আছে। যদিও এই পদটি প্রকৃত অর্থে অধ্যাপনার আওতাভুক্ত নয়। তবুও যেহেতু এই পদটিই প্রাথমিকভাবে অতিক্রম করা হয় তাই এটিকে অনেকেই প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করতে ইচ্ছুক। এই পদটিকে বলে প্রভাষক (Lecturer Instructor)। আমাদের দেশে এই পদটিকেও অধ্যাপনার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই পদের ব্যক্তির (প্রভাষক) প্রধান কাজই হলাে পাঠদান করা। যেহেতু এই প্রভাষকদের গবেষণা সম্পর্কে ধারণা নেই (সাধারণত ধরে নেয়া হয়) তাই তারা কর্মে নিযুক্ত হন না। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ক্ষেত্রে

অধ্যাপক পদ লাভ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তির গবেষণার দক্ষতা ও অবদানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আর সে কারণেই ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি গ্রহণ করতে হয়। এই ডিগ্রিটিই হলাে Ph.D. । এই ডিগ্রিটি বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যেমন : Ph.D. D. Sc. D. Lit. M. D. D. Eng. ইত্যাদি। এ প্রসঙ্গে ইতিপূর্বে ব্যাপক আলােচনা করা হয়েছে। অতএব মনে রাখতে হবে যে, অধ্যাপনা পদটি লাভ করতে হলে এসব ডিগ্রি অর্জন করা বাঞ্ছনীয়। কেননা এই ডিগ্রিগুলাে অর্জন করলে ব্যক্তি একজন স্বাতন্ত্র্য গবেষক হিসাবে কাজ করার মতাে ক্ষমতা লাভ করেন। এছাড়া এই ডিগ্রিধারী ব্যক্তি অধ্যাপনা পেশার জন্য প্রয়ােজনীয় যাবতীয় মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, পেশাগত, সামাজিক ইত্যাদি দিক থেকে যােগ্যতা অর্জন করে থাকে। এছাড়া ব্যক্তির মধ্যে সৃজনশীলতাও বিকাশ লাভ করেন। ফলে তা উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষকতা ও গবেষণা করার জন্য ব্যক্তিকে উপযুক্ত করে তােলে। এসব কারণেই উপরােল্লিখিত ডিগ্রিগুলাের কোনাে একটি লাভ না করলে সাধারণত অধ্যাপক পদবি দেয়া হবে না।

অবশ্য এ ক্ষেত্রে কমবেশি ব্যতিক্রম আছে। উল্লেখ্য যে, অধ্যাপক পেশাটি একটি অতি উচ্চমানের পেশাগত উপাধি। এই উপাধিটি সে কারণেই ব্যক্তির নামের সামনে সাথে ব্যবহার করা হয়। আর একবার যদি কেউ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই পদবি অর্জন করে তাহলে সে তা সারাজীবন তার নামের সাথে মর্যাদার সাথে ব্যবহার করতে পারেন। এখানে ব্যক্তি পেশার নিয়ােজিত থাক বা না থাক সে তার নামের সামনে উপাধিটি লিখতে বা বলতে পারবেন। বলাই বাহুল্য যে, এটি একটি আমৃত্যু ব্যবহার উপযােগী পদবি।

3276 views