একা নামাজ পড়ার সময় কি একামত দেয়া জরুরী?
একা নামাজ পড়ার সময় কি একামত দেয়া জরুরী? কোন কোন ভুল ত্রুটি হলে সাহু সিজদাহ্ দিতে হয়? আর সাহু সিজদাহ্ দেয়ার নিয়ম কী?
1 Answers
একাকী সালাত আদায় করলে তিনি ইক্বামত দিতে পারবেন।
হযরত আলী (রাঃ) বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি নির্জন মরুভূমির দিকে যাত্রা করে, এবং পথিমধ্যে নামাযের ওয়াক্ত হয়ে যায়,তাহলে সে চাইলে আযান-ইক্বামত দিয়ে নামায পড়তে পারবে,আর চাইলে সে শুধুমাত্র ইকামত দিয়েও নামায পড়তে পারবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহঃ ২২৮৪)।
একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তির জন্য আযান ইক্বামত দিয়ে নামায পড়া উত্তম। যাতে করে তার নামাযটা জামাতের সূরতে হয়ে যায়। (হালবি কাবিরিঃ ৩৭২,বাদায়ে সানায়েঃ ১/৩৭৭, মাবসুতঃ ১/১৩৩)।
মুসাফির এবং ঘরে নামায আদায়কারী মুক্বিমের জন্য আযান-ইক্বামত মুস্তাহাব। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াঃ ১/৫৩)।
সুতরাং একাকি ঘরে নামায আদায়কারী ব্যক্তির জন্য আযান-ইক্বামত দিয়ে নামায পড়া উত্তম। কিন্তু যদি মহল্লায় একবার আযান-ইক্বামত হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তীতে কোনো মুক্বিমর ব্যক্তি আযান-ইক্বামত ব্যতীত নামায পড়লে সে নামায মাকরুহ হবে না। কেননা মহল্লায় একবার আযান হয়ে গেলে আযানের সুন্নত আদায় হয়ে যায়। (কিতাবুন নাওয়াযিলঃ ৩/২৯৮)।
নামাযে ভুল হয়ে গেলে বা নির্ধারিত কোনো রোকন আদায় করতে না পারলে কিংবা অতিরিক্ত করে ফেললে তা বিশুদ্ধ করতে সিজদা দিতে হয়। আর এটিই হলো সাহু সিজদা।
নামাযে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য কেবল সাহু সিজদা দেয়া ওয়াজিব। যদি কোনো ফরয তরক হয় তবে সাহু সিজদায় নামায শুদ্ধ হবে না। পুনরায় নামায পড়ে নিতে হবে।
তিনটি কারণে নামাযে সাহু সিজদা দিতে হয়ঃ
১। নামায বৃদ্ধি হওয়া। যেমন, কোন রুকূ বা সিজদা বা বসা ইত্যাদি বৃদ্ধি হওয়া।
২। হ্রাস হওয়া। কোন রুকন বা ওয়াজিব কম হওয়া।
৩। সন্দেহ হওয়া। কত রাকাত পড়েছে তিন না চার এব্যাপারে সংশয় হওয়া।
► যে ব্যক্তি নামাযের কোনো ওয়াজিব কাজ ইচ্ছা করে ছেড়ে দেয়, সে গুনাহগার হবে। তার নামায নষ্ট হয়ে যাবে। পুনরায় আদায় করতে হবে। এর শূন্যতা সিজদায়ে সাহু দ্বারা পূর্ণ হবে না।
► যে ব্যক্তি নামাযের কোনো ওয়াজিব কাজ ভুলক্রমে ছেড়ে দেয়, তার জন্য সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৩৮৬, আবু দাউদ, হাদিস : ৮৭৪)।
► যদি ফরজের প্রথম দুই রাকাত বা যেকোনো এক রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়তে ভুলে যায়, একইভাবে নফল ও বিতরের যেকোনো রাকাতে ভুলক্রমে সুরা ফাতেহা পড়া না হয়, তখন সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। (মুসলিম, হাদিস : ৮৯৩)।
► যদি ফরজের প্রথম দুই রাকাতে কেরাত পড়া ভুলে যায় এবং শেষ দুই রাকাতে তা পড়ে, তাহলেও ভুলের সিজদা দিতে হবে। (মুসলিম, হাদিস : ৮৯৫, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১/৪০৯)।
► ফরজের দুই রাকাত বা এক রাকাতে কেরাত মেলাতে ভুলে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (নাসায়ি, হাদিস : ১২৪৩)।
► যদি তিন বা চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজে প্রথম বৈঠক ভুলে যায়, তাহলে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৮৮২)।
► যদি তাশাহুদ পড়তে ভুলে যায়, তাহলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (নাসায়ি, হাদিস : ১২৪৩)।
► যদি বিতর নামাজে তৃতীয় রাকাতে রুকুর আগে কুনুত (দোয়া) পড়তে ভুলে যায়, তখন সাহু সিজদা দিতে হবে। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি, হাদিস : ৪০৪২)।
► যদি প্রথম বৈঠকে তাশাহুদের সঙ্গে দরুদ ইত্যাদি পড়ে ফেলে, তাহলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (মুসলিম, হাদিস : ৮৯৫)।
সাহু সিজদা আদায়ের পদ্ধতি : হানাফি মাজহাব মতে, সাহু সিজদা আদায় করার পদ্ধতি হলো, যার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে সে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পড়া শেষ করে ডান দিকে এক সালাম ফেরাবে। তারপর তাকবির বলে নামাজের মতো দুটি সিজদা করে বসে যাবে এবং তাশাহুদ, দরুদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৮১৮৮, বুখারি, হাদিস : ১১৫০, ১১৫৩)।
উল্লেখ্য যে অন্য মাজহাবে সাহু সিজদা আদায় করার ভিন্ন পদ্ধতি আছে।
তাদের মতে সিজদায়ে সাহু কখনো সালামের আগে কখনো সালামের পর করতে হয়।
সালামের পূর্বে সাহু সিজদা দু‘ক্ষেত্রে করতে হয়:
প্রথম: সালাতে যদি কোন ওয়াজিব হ্রাস হয়। দ্বিতীয়: সালাতে যদি সন্দেহ হয় এবং দু‘টি দিকের কোনটিই প্রাধান্য না পায়, তবে সালামের পূর্বে সাহু সিজদা করবে।
সালামের পর দু‘ক্ষেত্রে সাহু সিজদা করতে হয়:
প্রথম: যদি সালাতে বৃদ্ধি হয়ে যায়।
দ্বিতীয়: যদি সন্দেহ হয় এবং যে কোন একটি দিক অনুমানের ভিত্তিতে প্রাধান্য লাভ করে, তবে সালামের পর সাহু সিজদা করবে।