2 Answers

মুসলমানদের কাছে সৃষ্টিকর্তা হলেন এক ও অদ্বিতীয় সত্বা। সকল সৃষ্টিকে একজন স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কেউ সৃষ্টি করেনি। বরং তিনি নিজেকে ব্যতীত বাকী সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন। আর সেই স্রষ্টা হচ্ছেন, মহান আল্লাহ তাআলা।

কুরআনের বানীঃ বলুন, তিনি আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। তিনি কাউকেও জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি। (সুরা ইখলাস: ১, ৩)।

মহান আল্লাহ তাআলা যিনি সৃষ্ট হননি। এবং যার সন্তান সন্ততি নেই। কেননা, যে সৃষ্ট হয়েছে সে এক সময় মৃত্যুবরণ করবে এবং অন্যেরা তার উত্তরাধিকারী হবে। আর আল্লাহ তাআলা মৃত্যুবরণও করবেন না এবং তার কোন উত্তরাধিকারীও হবে না। তিনি কারো সন্তান নন এবং তার সমতুল্য কেউই নেই।

তিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, তার সন্তান হবে কিরূপে? অথচ তার তো কোন স্ত্রী নেই। তিনিই তো সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক বস্তু সম্বন্ধে তিনিই সবিশেষ অবহিত। (সূরা আনআম: ১০১)।

আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? প্রশ্নটা এখানেই শেষ হয়ে যায় না। এরপর আল্লাহর সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করেছে, এরপর তাকে কে, তারপর তাকে কে? তারপর তাকে কে? এভাবে প্রশ্ন চলতে থাকবে; কোনদিন শেষ হবে না। আসলে সকল কিছুর অস্তিত্বের জন্য এমন একজন থাকা চাই যাকে কেউ সৃষ্টি করেনি, যিনি চিরঞ্জীব। স্রষ্টা আর সৃষ্টির মৌলিক পার্থক্য এটিই।

স্রষ্টা তাকেই বলে যাকে কেউ সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তিনিই সৃষ্টি করেন।

এক ব্যক্তির ঠিক এই প্রশ্নের জবাবে প্রখ্যাত দাঈ ডাক্তার জাকির নায়েক চমৎকার উত্তর দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, এ প্রশ্নের উত্তর আমি আরেকটি প্রশ্নের মাধ্যমে দিই। ধরুণ জন নামের এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য। তিনি একটি সন্তান জন্ম দিলেন। আপনি কি বলতে পারবেন, ওই সন্তানটি ছেলে না মেয়ে?

ডা. জাকির নায়েক কয়েকবার জিজ্ঞেস করার পরও উত্তর পেলেন না। তখন তিনি বললেন, এখানে বাস্তবতা হলো, জন একজন পুরুষ, সে কিভাবে সন্তান জন্ম দেবে? তাই এমন প্রশ্ন করাও বোকামি যে, তার বাচ্চাটি ছেলে না মেয়ে! তদ্রুপ কেউ যদি প্রশ্ন করে, ‘আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন’ তাহলে বলবো, এটা অযৌক্তিক প্রশ্ন।

কেউ সৃষ্টিকর্তাকে সৃষ্টি করতে পারে না, যদি সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি হয়ে থাকেন, তাহলে বুঝতে হবে তিনি সৃষ্টিকর্তা নন।

আল্লাহ তাআলার সংজ্ঞা আল্লাহ নিজেই সূরা ইখলাসে দিয়েছেন এভাবে: বলুন, আল্লাহ এক, তিনি অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।

একজন সত্যিকার মাবূদের চারটি বৈশিষ্ট্য এ সূরাতে আলোচনা করা হয়েছে। এ চারটি বৈশিষ্ট্য যে মা‘বূদের মাঝে পাওয়া যাবে তিনিই একমাত্র যাবতীয় ইবাদত পাওয়ার হকদার। এ চারটি বৈশিষ্ট্য একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারো বা কোন কিছুর মাঝে পাওয়া যায় না।

এ প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, মানুষ প্রশ্ন করতেই থাকবে, করতেই থাকবে। এক পর্যায়ে বলবে, এ সৃষ্টিগুলোকেতো আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? যে ব্যক্তি এমন কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হবে সে যেন বলে, আমি আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনলাম।


1824 views

প্রথমত উত্তর হলো আল্লাহ তায়ালা নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছেন।


২য় হলো: আপনি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছেন, আপনি যদি আপনার সৃষ্টি রহস্য বুঝতে পারেন তবে আল্লাহর সৃষ্টি রহস্যও বুঝতে পারবেন।

1824 views

Related Questions