সবাই প্রশ্নটি দেখুন?
আমি ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার চেষ্টা করি , সময় পেলে কোরান তেলাওয়াত করি । মুভি দেখি এবং গান শুনি । আগে সব মুভিই দেখতাম কিন্তু এখন দেখার পরিমানটা কমেছে আগে প্রায় ১০০-১৫০ গান ফোনে থাকতো কিন্তু এখন ১০-১২ টা ।
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে , আমি নামাজ ও পড়ি অপরদিকে
গান & মুভি ও দেখি । এ সমপর্কে ইসলাম এর মতামত কি ।
4 Answers
নামাজ সকল প্রকার অশ্লীল কাজ থেকে দূরে রাখে বা ফিরিয়ে আনে যদি তার নামাজ,নামাজ হয় বা তার নামাজ কবুল হয়! আশ্লীল মুভি ও অশ্লীল গান এগুলো ইসলামে হারাম! ভালো ইসলামিক মুভি ও গজল দেখতে পারেন!
আশা করি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন!!!
রফিক মিয়া গ্রামের একজন খেটে খাওয়া মানুষ। বয়সে মুরব্বি। দাড়িগুলো একদম সাদা। তেমন পড়ালেখাও নাই। দৈনন্দিন কাজের ফাকে ফাকে সমাজের অন্য দশ জন মুরব্বির মত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, রমজানে রোজা রাখেন আর টুকিটাকি ধর্মীয় কাজ করেন যা তিনি বংশানুক্রমে জেনে আসছেন।
একদিন দুপরে বিশ্রাম কালে রফিক মিয়া তার মেয়েকে বললেনঃ মা একটা ওয়াজ লাগাওতো একটু শুনি। মেয়ে সাদিয়া নামাজের গরত্ব সম্পর্কিত একটা ওয়াজ চালু করল। রফিক মিয়া মনোযোগ সহকারে শুনতে লাগলেন। ওয়াজের এক পর্যায়ে হুজুর সূরা আনকাবুতের এই আয়াতটি বললেনঃ ( হে নবী) তোমার প্রতি নাযিলকৃত কিতাব পাঠ কর, নামায কায়েম কর। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। ইহা আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ যিকর। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর। (সূরা আনকাবুত ৪৫)
কথাগুলো শুনে রফিক মিয়া থমকে গেলেন। তিনি ভাবনায় পড়ে গেলেন। মনে মনে বললেনঃ তাহলে কি যারা খারাপ কাজে লিপ্ত তাদের নামাজ হয় না? কথাটি যদি সত্য হয় আর সত্য হবে না কেন, ইহাতো স্বয়ং আল্লাহর কথা। তাহলে তো সমাজের বেশীর ভাগ লোকেরই নামাজ হয় না। কারন বেশীর ভাগ মানুষই খারাপ কাজে লিপ্ত।
রফিক মিয়ার মনে তুফান শুরু হল। তিনি ঠিক করলেন স্থানীয় ইমাম মুফতী সিদ্দিক সাহেবকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করবেন। আছরের পর রফিক মিয়া ইমাম সাহেবকে বললেনঃ ইমাম সাব, আপনার কি সময় আছে? আমার কিছু কথা ছিল।
মুফতী সাহেব বললেনঃ হা রফিক ভাই, সময় আছে। বলুন ,
রফিক মিয়াঃ আচ্ছা মুফতী সাব, যারা অশ্লীল ও খারাপ কাজ করে তাদের কি নামাজ কবুল হয় ?
প্রশ্ন শুনে মুফতি সাহেব একটু অবাক হলেন তিনি বললেনঃ রফিক ভাই, হঠাৎ করে এমন প্রশ্ন ?
রফিক মিয়াঃ না, আমি এক আলেমের মুখে শুনলাম, আল্লাহ বলেছেনঃ নামাজ সকল অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে।
মুফতী সাহেবঃ হা, ঠিকই শুনেছেন।
রফিক মিয়াঃ তাহলে দেখুন, আমাদের মসজিদে যারা নামাজ পড়ে আমার চোখে দেখা প্রায় সকলেই তো খারাপ কাজে লিপ্ত। যেমন দেখুন বয়সের ভারে দাড়ি পাকা বুড়োরা পর্যন্ত মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে গিয়ে টেলিভিশনে বেপর্দা মেয়ের রংডং দেখতেছে, এটা কি অশ্লীল কাজ নয়? এরপর জমীনের আইল ঠেলা, লাগামহীন গালিগালাজ, এসব কি খারাপ কাজ নয়? তাহলে কি ধরে নেব এদের নামায কবুল হয়নি ?
মুফতী সাহেব বললেনঃ রফিক ভাই, আপনি কি জানেন আমরা নামাজ কেন পড়ি?
রফিক মিয়া বললঃ কুরআনে আল্লাহ নামাজের কথা বলেছে্ন, তাই পড়ি। তবে কোথায় বলেছে তাতো জানি না।
মুফতী সাহেবঃ আচ্ছা রফিক ভাই, ধরুন আমাদের মসজিদে যদি ১০০ জন মুসল্লি নামাজ পড়ে তাদের মধ্যে কত জন জানে নামাজের ভিতরে ও বাহিরে ফরজ কয়টি?
রফিক মিয়া: তাতো মনে হয় অর্ধেকেরও বেশী জানে না!
মুফতী সাহেবঃ আচ্ছা ধরে নিলাম অর্ধেক। তাহলে এবার বলুন বাকী অর্দ্ধেকের কতজনে শুদ্ধ করে কুরআন পড়তে পারে?
রফিক মিয়া : আমার তো মনে হয় ২/৪ জন জানে এমনকি আমিও তো জানি না ।
মুফতী সাহেবঃ ধরে নিলাম ২৫ জনে জানে। আচ্ছা এবার বলুন নামজের ভিতরে যে সূরা পড়ে তার অর্থ কত জনে জানে?
রফিক মিয়া : আমার তো মনে হয় আপনি ছাড়া আর কেউ জানে না ।
মুফতী সাহেবঃ আচ্ছা ধরে নিন ২৫ জনের মধ্যে ১০ জন জানে , বলুনতো এই ১০ জনের মধ্যে কত জনে সব চিন্তা ছেড়ে মন দিয়ে নামায পড়ে ।
রফিক মিয়া : এটা কি করে সম্ভব, নামাজে দাড়ালেই তো কত কথা মনে আসে।
মুফতী সাহেবঃ এবার বলুন ১০০ জনের মধ্যে কত জন নামাজ পড়ে?
রফিক মিয়া : ঈমাম সাব ১০০ জনের কেন আমারতো মনে হয় ১০০০ জনের মাঝে দু একজনের নামাজ হয় কিনা সন্দেহ।
মুফতী সাহেবঃ এবার নিজেই বুঝুন কেন নামাজ পড়ার পরেও লোকজন অশ্লীল কাজে ও পাপে লিপ্ত থাকে ।
রফিক মিয়া : ঈমাম সাব তাহলে তো নামাজ পড়া দেখতেছি অনেক কষ্ট?
মুফতী সাহেবঃ হা রহিম ভাই, এই কথাও আল্লাহ কুরআনে বলেছেনঃ তোমরা ধৈর্য্যর সাথে নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর। অবশ্য তা (নামায আর ধৈর্য) খুবই কঠিন। তবে বিনয়ীদের জন্য (তা সম্ভব)। (সূরা বাক্কারাহ ৪৫)
আমরা যা আলোচনা করলাম জেনে বুঝে সেই দোষগুলো নিয়ে যারা নামাজ পড়ে তাদের প্রতি আল্লাহর লানত। আল্লাহ তায়া’লা বলেনঃ ধ্বংস সেসব নামাযীর জন্য, যারা নামাযে উদাসীন, যারা লোক-দেখানোর জন্য (নামায) করে। আর প্রয়োজনীয় গৃহস্তালী বস্তু সমূহ উদার দেয় না। (সূরা মাউন - ৪,৫,৬)
রফিক ভাই, শুনেনঃ আমাদের সমাজের মানুষগুলো নামায সম্বন্ধে জানবে তো দূরের কথা তারা কিভাবে নিজেদের মুসলমান দাবী করে তাও জানে না। তারা তো নিজের মত করে ইসলামকে বানিয়ে নিয়েছে। অথচ এ জন্য যে পরকালে কিছুই পাবে না এ সম্পর্কে সে একদম বে-খবর। যদি মানুষগুলো আল্লাহর জন্য নামায পড়ত তাহলে আগে শিখে নিত।
বর্তমানে লোকজন ইসলাম সম্বন্ধে এতই উদাসীন যে, ড্রাইবার হতে হলে ড্রাইবিং শিখতে হবে এটা জানে, ডাক্তার হতে হলে ডাক্তারি শিখতে হয়, খেলোয়াড় হতে হলে খেলা শিখতে হয় এসবই তারা জানে। তবে মুসলীম হতে হলে
ইসলামে যেকোনো প্রকার নাচ,গান,শোন/দেখা হারাম।আপনি গান শোনার বদলে গজল,ওয়াজ শুনতে পারেন এতে ইমান ও বৃদ্ধি পাবে।আপনি যদি আল্লাহর ভয়ে গান শোনা বাদ দেন,আল্লাহ নিশ্চই এরফলে ভাল প্রতিদান দিবেন
গান শুনা, মুভি দেখা গুনাহের কাজ অার অপর দিকে নামাজ ইসলামের একটি খুটি। সাধারন ভাবে দেখলে আপনে নামাজ পড়তেছেন সাওয়াব পাবেন আর গান শুনতেছেন গুনাহ হবে। অর্থ্যাৎ আপনে গুনাহ এবং সাওয়াবের কাজ একসাথে করতেছেন। কিন্তু গভীর ভাবে দেখলেঃ পবিত্র কোরআনে আছে "নিশ্চয় নামাজ সকল প্রকার খারাব কাজ থেকে দূরে রাখে।" আপনে নামাজ পড়তেছেন আবার গুনাহ করতেছেন তার মানে কি কোরআনের আয়াত মিথ্যা!!!? নায়ুজুবিল্লাহ, এর ব্যাখায় বিশেষঞ্জগণ বলেছেন আপনার নামাজ হয়ত শুদ্ধ হচ্ছে না। হয়ত মনোযোগ দিয়ে ভক্তি সহকারে নামাজ পড়েন না বা নামাজের ফরজ/ওয়াজিবগুলো ঠিক আদায় হচ্ছে না। বিস্তারিত লিখার সময় নেই। তবে আপনার ক্ষেত্রে সুখবর হল আপনে গানা/মুভি দেখা আস্তে আস্তে কমিয়ে দিচ্ছেন। তার মানে আপনার নামাজ হয়ত আগের চেয়ে বেশি শুদ্ধ এবং আল্লাহর কাছে বেশি কবুল হচ্ছে। আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে নামাজের নিয়ম কানুন জেনে নামাজ আদায় করুন আল্লাহ চাইলে আপনে হয়ত সকল গুনাহের কাজ ছেড়ে দিতে পারবেন।