আমি একবার তওবা করে বিরত থাকতে পারি নি বলে কি তওবার দরজা চির বন্ধ হয়ে গেছে..?
আমি আমার ভাবীর সাথে দীর্ঘ ৫ বছর যাবত মাসে ১/২ বার করে শারীরিক সম্পর্ক করে আসছি। গতমাসে অামি তওবা করি দৃঢ় ভাবে এমন কাজ করবো না আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু গতকালকে আবারও মিলিত হয়েছি আর আমার মনে হয় যতদিন না আমি বিয়ে করি এটা থেকে ফিরতে পারবো না। আমার বয়স মাত্র ১৬ বছর (১০ম শ্রেনীর ছাত্র)। আমার প্রশ্ন হলো.. আমি যদি এভাবে আরোও ৩/৪ বছর অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকি আর পরে কখনো পুনরায় তওবা আর ক্ষমা চেয়ে আল্লাহর নিকট কাদি এবং সে অনুযায়ী চলতে পারি তাহলে কি আল্লাহ আমাকে মাফ করবেন (সম্ভবনা আছে)...?
আমি জানি যে আল্লাহ ইচ্ছা করলে সব গুনাহ মাফ করে দেন তবে আমি একবার তওবা করে বিরত থাকতে পারি নি বলে কি তওবার দরজা চির বন্ধ হয়ে গেছে..?
# বিজ্ঞ কেউ উত্তর দিবেন, এটা একটি ধর্মীয় বিষয় তাই পয়েন্ট কে বড় করে দেখবেন না প্লিজ। আমার জন্য একটু সময় নিয়ে উত্তর দিবেন জানা থাকলে আজীবন চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।
3 Answers
আপনি একবার তওবা করেছেন আর এমন কাজ করবেন না।কিন্তু আপনি করলেন।এতে আপনার ওয়াদা থাকলো না।এখন থেকেই আপনি ঠিক হয়ে যান।আর এইসব কাজ থেকে দূরে থাকুন।আপনি যদি মনে করেন আর দুই বছর আমি এভাবে অন্যায় করে যাবো আর পরে আল্লাহর কাছে তওবা করবো তাহলে এটা সম্পূর্ণ ভুল।কারণ কার মৃত্যু কখন হয় তা কেউ বলতে পারেনা।আমি আপনাকে দয়া করে বলছি যত শীগ্রই পারেন এখান থেকে মুক্ত হন আল্লাহর পথে চলুন।
তওবা অর্থ বিরত থাকা, আপনি ডে খারাপ কাজগুলো করছেন একাজ ভবিষ্যৎকালে না করার অঙ্গীকার করা।
আপনি বলছেন ৩/৪ বছর পর খারাপ কাজ ছেরে দিবেন, আপনিকি গ্যারান্টি দিতে পারেন ৩/৪ বছর বেচে থাকবেন?
যদি না পরেন, এখনই সঠিকভাবে তওবা করুন।
তওবা করার মানে নিচে দেওয়া হল।
১. সংশ্লিষ্ট গুনাহের কাজটিকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা।
২. কৃত অপরাধের কারণে লজ্জিত হওয়া।
৩. ভবিষ্যতে পুনরায় উক্ত অপরাধে লিপ্ত হবে না এ কথার ওপর দৃঢ় অঙ্গীকার করা।
৪. কোন অন্যায় কাজট যদি মানুষের অধিকার সংশ্লিষ্ট হয়, তবে উক্ত অধিকার তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। যেমন কাউকে মনে কষ্ট দিলে ক্ষমা চাইতে হবে, পাওনাদারের টাকা পরিশোধ করতে হবে, কারো হক নষ্ট করলে সেটা তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে।
উপরক্ত শর্তগুলি স্বঠিকভাবে পালন করার পরই তওবা কবুল হবার আশা করা যায়
আপনার জন্য আফসোস! আফসোস!! আফসোস!!!
প্রতিটি মানুষের অন্তরের খবর আল্লাহ জানে। আপনি বুঝাতে চাচ্ছেন আপনি ড্রাইভার তাই গাড়ির স্টাডিং ধরেছেন নদীর দিকে, আর পড়তেছেন- লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সোবহানা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জোয়ালেমীন.....
বলুন তো গাড়ি কি নদীতে যাবে নাকি রাস্তায় থাকবে???
উত্তরঃ যত দোয়া ই পড়েন না কেনো গাড়ি কিন্ত নদীতেই যাবে, আল্লাহ আপনাকে রক্ষা বা ক্ষমা করবেনা, কারণ আপনি জেনেই গাড়ির স্টাডিং নদীর দিকে ধরেছেন। এর থেকে বাচার চেষ্টা করছেন না, ঠিক এইখানেও একই, আপনি জেনেই অপরাধ করতেছেন, আরো 3 বছর করবেন, তারপর ক্ষমা চেয়ে নিবেন, এটা আল্লাহর গজব ছাড়া কিছুই নয়।
আপনি আগামীকাল বেচে থাকবেন কিনা, সেটার ই গ্যারান্টি নাই অথচ 3/4 বছর!!!!
দাদা অসুস্থ তাই নাতি তাড়াতাড়ি করে দাদার ঔষধ আনতে গেলো বাজারে, ঔষধ নিয়ে ফেরার পথে গাড়ি এক্সিডেন্টে নাতি পিষ্ট হয়ে মারা গেলো, নাতির বয়স 16 বছর!
অথচ দাদার বয়স ছিল 90 বছর, কি হলো??
নাতি 16 বছর বয়সেই অনেক গুনাহ করেছে কিন্তু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আগেই চির বিদায়.........
আল্লাহ্ বলেনঃ
"তোমরা যেখানে যে অবস্থায়ই থাকো না কেনো, মৃত্যু তোমাদের ধরবেই।
যতো মজবুত কিল্লার মধ্যেই তোমরা অবস্থান করো না কেনো।" (সূরা নিসাঃ ৭৮)
"যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে, হে আমার পালণকর্তা ! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে ) প্রেরণ করুন।" (সূরা আল-মুমিনুনঃ ৯৯)
"কোনো প্রাণীই জানে না কোথায় এবং কিভাবে তার মৃত্যু হবে।" (সূরা লোকমানঃ ৩৪)
যে কোন সময় মৃত্যু অবশ্যই আসবেই এই চিরসত্য বিষয়ে কেউ দ্বিমত প্রকাশ করেনি বা মৃত্যুকে কেউ অস্বীকার করেনি। এই মৃত্যু কখন কোথায় কীভাবে আসবে তা কেউ জানে না। যে কোনো মুহূর্তে মৃত্যুর ডাক এসে যেতে পারে। শিশু- যুবক-বৃদ্ধ সবার তরে এ বাস্তবতা চিরসত্য, মৃত্যুর সমন কোনো অনুমতি চেয়ে এবং সময়সূচি বলে দিয়ে আসবে না। মানুষ পাপাচারে ডুবে আছে আল্লাহর ক্ষমার আসায় আল্লাহ ক্ষমাশীল, কিন্তু এই খামখেয়ালী পনার কারণে কোটি কোটি মানুষ জাহান্নামী হয়ে যাচ্ছে। কারণ ঐ ক্ষমা চাওয়ার আগেই চির বিদায়.......
যে আল্লাহ আপনাকে যৌবন দিয়েছে সেই যৌবন সম্পর্কে কেয়ামতের ময়দানে জবাবদিহি করতে হবে, আফসোস সেদিন কিছুই করার থাকবেনা।
আল্লাহ আপনাকে যৌবন না দিলে এই জেনার কাজে লিপ্ত হতে পারতেন না।
এখনো সময় আছে আজকেই জেনা থেকে
বেরিয়ে আসুন তওয়া করুন, নতুবা আপনার
দরজাও আল্লাহর কাছে যে কোন সময় রুদ্ধ
হয়ে যাবে, আল্লাহ আপনাকে হিদায়াত দান
করুন, আমিন।