শ্বশুর বাড়ির লোকজন মূল্যায়ন করছে না, আমার স্ত্রীও তাদের সুরে সুর মেলাচ্ছে, মনে খুব কষ্ট হচ্ছে।?
আমার বয়স 26 বছর আমি বিবাহিত। আমার সংসার জীবনের বয়স দেড় বছর প্রায়। এখন পর্যন্ত আমার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আমাকে কিংবা আমার ফ্যামিলির কাউকে তাদের বাড়িতে একবারের জন্যও নিমন্ত্রণ করেনি। ( বিশেষ দ্রষ্টব্য, আমার বউ এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ সময় বাবার বাড়িতেই থাকে আমি মাঝেমধ্যে তাদের বাসায় আসা যাওয়া করি)
অবস্থাটা এরকম যে আমি যদি আমার বউয়ের সাথে দেখা করার জন্য তাদের বাসায় যাই বেশিক্ষণ বসে থাকি, আমার শাশুড়ি বিরক্ত হয়। আসলে বিয়ের আগে আমাদের অবস্থা মোটামুটি ভালো ছিল। করণা ভাইরাসের কারণে আমার এবং আমার বাবার উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায় তাই আমরা তাই আমরা ফ্লাট বাসা বাদ দিয়ে একটি কম টাকা ভাড়ার বাসায় উঠে।
এমনকি একদিন আমার শাশুড়ি আমার সাথে তর্কাতর্কি মধ্যে কথাটা বলেই ফেলল যে বিয়ের আগে ফ্লাট বাসা দেখিয়ে এখন টিনের ঘরে ভাড়া থাক তোমরা। কথাটা আমার বউও আমাকে একদিন বলেছিল। আবার আমি মাঝেমধ্যে ওদের বাসায় যখন যাই তখন আমাকে জামাই তো দূরের কথা সামান্য পাশের বাসার মেহমান কে মানুষ যেভাবে সম্মান করে সেটুকুও করে না।
বাসায় কোন অতিথি আসলে মানুষ কি করে তারা নিজেরা যা খায় তার থেকে কিছুটা ভালো মানের খাবার তার সামনে দেয়। আল্লাহর কসম আমি খাবারের লোভে কথাটা বলছি না। কষ্টে বলছি। এমনও হয়েছে আমি দের বাসায় দুপুরবলা খাওয়ার সময় উপস্থিত হয়েছিলাম ওদের খাওয়া-দাওয়া হয়ে গিয়েছিল। আমার শাশুড়ি আমার বউকে বলে জিজ্ঞাসা করে দেখ ভাত খাবে কিনা। আমি আসলে ঐদিন খুব ক্ষুধার্ত ছিলাম। কিন্তু আমার শাশুড়ির বিরক্তি ভাব দেখে আমি মনে কষ্ট নিয়ে বললাম না আমি ভাত খেয়ে এসেছি।
এ নিয়ে আমার স্ত্রী কখনও কোনো প্রতিবাদ করেনি বরং আমি এসব নিয়ে কখনো আক্ষেপ প্রকাশ করলে আমাকে বলে তোমার দৃষ্টি খারাপ। তুমি শুধু দোষ খুঁজে বেড়াও। এসব তোমার মনের মিথ্যা কল্পনা। অথচ আমি ভালোভাবে বুঝি যে কোনটা ভাল আর কোনটা মন্দ। শাশুড়ি আর তার মা সব সময় আমার বউকে আমার বিরুদ্ধে চলা শেখাচ্ছে আমার পছন্দের প্রত্যেকটা জিনিস যাতে ওর অপছন্দ হয় তারা সেই চেষ্টাটাই করে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে শ্যালিকার জন্মদিন পালন করে হয়েছে।
তাতে আমাকে দাওয়াত করেছিল কিন্তু আমি গিয়ে শুনলাম তারা নাকি কেক কাটার আয়োজন করবে না কারণ তাদের কাছে টাকা পয়সা কম আছে যাক ভালো কথা। পরে পাশের বাসায় আমার স্টুডেন্ট এর কাছে শুনতে পেলাম আমি আসার পরে ওরা কেক কেটেছে। অথচ তার এক টুকরা আমার কপালে জুটলো না।
এমনকি পরদিন আমি জিজ্ঞাসা করলে বলে না কই কেক কাটে নি তো। ডাস্টবিনে আমি কনফেকশনারী দোকানের প্যাকেট দেখেছি। বউকে পরে জিজ্ঞাসা করলাম ও বলল কেক এনেছিল বাট সাইজটা ছোট হওয়ায় আম্মু তোমাকে বলতে মানা করেছে। পার্সোনালি আমি কেক পছন্দ করিনা। এখানে প্রশ্ন টাতো খাওয়ার না প্রশ্নটা হচ্ছে মনের টানের। বাসায় ফিরে আমি যখন একা একা বিষয়টা ভাবছি তখন আমার চোখের কোনে পানি এসে গেছিল। এই ভেবে আমি এতোটা তুচ্ছ যে এক টুকরা কেক খাওয়ার যোগ্য হলাম না। ছিছি। আবার কয়েকদিন আগে আমার বউ আমাকে ফোন করে বলে আজ দুপুরে আমাদের বাসায় খেতে এসো, নানু আর মামা মামি এসেছে তাই ভাল রান্না হয়েছে। ভাবলাম আমার জন্য তো কখনো ভাল রান্না হয় না অন্যের জন্য রান্না করে সেখানে আমাকে ডাকা হচ্ছে তো সেখানে কেন আমি যাব , যাইনি আমি। তাও নাকি আমার দোষ হয়েছে আমাকে ডাকলেও আমি জানিনা আর এজন্যই নাকি আমাকে আর কখনো ডাকবে না ভুল করেও। এখন আমি আমার নিজের কথা বলি আমার ছোটবেলা থেকে একটা প্রতিজ্ঞা ছিল যে আমি আমার শ্বশুরবাড়ির বিষয় নিয়ে বউকে কখনো খোটা দেবো না।
কারণ ছোটবেলায় আমি দেখতাম আমার বাবা আমার মাকে নানাবাড়ি বিষয় নিয়ে অনেক জ্বালাতন করত মা কষ্ট পেতো।
তাই আমি এ বিষয়গুলো বুঝি। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তো তা না।
ও যদি আমার কষ্টটা একটু বোঝতো তাহলে আমার কোন কষ্ট থাকত না। কষ্টটা তখনই উথলে ওঠে যখন আপন মানুষটি আমার কষ্ট বোঝে না। উল্টা আমাকে অবজ্ঞা করে অবহেলা করে।
2 Answers
আপনার তো প্রয়োজন নেই শ্বশুর বাড়ী যাওয়ার। আপনার স্ত্রীকে বোঝান যেন সে আপনার সাথে থাকে আর যদি না থাকে সার্মথ্য থাকলে তালাক দিয়ে দিন। সার্মথ্য না থাকলে তাকে তার মত চলতে দিন। সময় সবার এক রকম থাকে না সব সময়। আপনার ও সময় ফিরবে। তখন আপনার স্ত্রীকে সব কথার জবাব দিতে পারবেন।তখন তাকে তালাক দিয়ে দেবেন। শ্বশুর বাড়ী থেকে কিছু আশা না করাই শ্রেয়।
(আমার বিষয়ে আপনাকে কিছু বলি আমার বিয়ে হয়েছে ১.৫ বছর। একদিন আমার শ্বাশুড়ি আমার বাবার সাথে উচ্চ গলায় কথা বলেছিলো। সেদিন থেকে আমি আমার শ্বশুর বাড়ী যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তারপর থেকে স্ত্রীর বাড়ি থেকে আসা কোন খাবার, পোশাক, টাকা যাবতীয় যা আমার স্ত্রী তার বাসা থেকে আনে তা আমি ছুয়েও দেখি নাই। আর বলে দিয়েছি যতদিন আমার বাবার কাছ থেকে আমার শ্বাশুড়ি ক্ষমা না চাইবে আমি তাদের দেয়া কোন জিনিস ছুয়েও দেখবো না। তাদের বাড়ি যাওয়া তো দুরের কথা।
আমি নিজে একজন বেকার মানুষ। সামান্য টিউশনি করিয়ে নিজের পকেট খরচটা চালাই কিন্তু শ্বশুর বাড়ী থেকে কোন আশা রাখি না। স্ত্রীকে বলেছি ভিক্ষা করে খাবো তবুও তোমার বাসা থেকে এক চুল পরিমান কোন জিনিস নেব না যতদিন তোমার মা আমার বাবার কাছে ক্ষমা না চাবে।)
ধন্যবাদ প্রশ্ন করার জন্য।আপনার উক্ত সমস্যার শুধু মাত্র দুইটি বিষয় নিয়ে কথা বলবো , ডিভোর্স ও বিয়ে উঠিয়ে নিয়ে আসা, এর মধ্যে আপনি আপনার যেটা পছন্দ হয় সেটি গ্রহন করবেন।
যদি আপনার সামর্থ থাকে তাহলে আপনি তাকে ডিভোর্স দিন। কেনো না এভাবে কারো সংসার চলে না আর এভাবে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক হয় না বা থাকে না। তবে যেহেতু আপনাদের আয় এর অবস্থা খুবেই খারাপ এবং আপনারা এখন টিনের চালা বাসাতে আছেন সেক্ষেত্রে হয়তো দেন মোহর দিয়ে তাকে তালাক দেওয়া আপনার পক্ষে তা সম্ভব হবে না। সুতারাং আপনি আপনার স্ত্রীকে আপনার বাসা নিয়ে আসেন এবং সংসার করুন ।আপনার বর্তমানে আয় এর কোন উপায় না থাকলে ছোট হলেও যেকোন একটি উপায় বের করুন ইনকাম এর জন্য।
আমার মনে হয় না আপনার ইনকাম বা আপনার আয় নিয়ে হেল্প করবে আপনার শশুর বাসার লোকে রা।কাজেই আপনার সমস্যা আপনি ই সমাধান করার চেষ্টা করুন
আপনার শশুর বাসা যাওয়ার কোণ দরকার নেই।তাদের বাসা আর যাবেন না। আপনি আপনার পরিবারের সদস্যের সাথে আলোচনা করুন এবং তাদের সব কিছু খুলে বলুন। যে আপনার শশুর বাসার লোকেরা আপনার সাথে এ এ রকম ব্যবহার করে।
আপনি আপনার বাবা কে জানিয়ে দিন যে আপনি বিয়ে করে বউ বাসা নিয়ে আসবেন। যদিও আপনাদের ঘর নেই বা ঘড় নিতে হলে টাকার দরকার বা ভাড়া বেরে যাবে। এ ব্যপারে আপনি আপনার বাবার সাথে আলোচনা করুন।
আপনি আপনার বাবার মাধ্যমে আপনার শশুর বাসায় জানিয়ে দিন বা আপনি আপনার স্ত্রীর মাধ্যমে তাদের বাসায় জানিয়ে দিন যে আপনি তাকে আপনার বাসা নিয়ে আসবেন।যদি সে আপনার টিনের বাসা দেখে না আসে বা সে যদি আপনার সাথে সংসার করতে না চায় । তাহলে তাকে বলেন পুরুষ ডিভোর্স দিতে অন্যথায় আপনি নিজে থেকে ডিভোর্স দিতে যাবেন না কারন এতে আপনার টাকা লাগবে অনেক যা মোহরের। যদি সে নিজেই পুরুষ তালাক দেয় তাহলে আপনি কোণ কিছু দিতে শিকার হবেন না এবং বলবেন আমি বউ চাই তালাক না।
এর পরেও সে আপনার বাসা না আসলে আপনি তাদের বুঝাইয়ে বলেন ,আপনার বাবার মাধ্যমে বা আরো লোক লাগান আপনার বা আপানার স্ত্রীর দুলাভাই আপন কারো সাথে এ নিয়ে আলোচনা করেন দেখুন তারা আপনাকে কি সাজেশন দেয়।
সুতারাং আপনি যদি সংসার করতেই চান তাহলে অবশ্যই আপনার স্ত্রীকে আপনার বাসা নিয়ে আসুন ।সেখানে আপনার স্ত্রী থাকলে আপনার শাশুড়ি মা ওনার মেয়েকে আপনার সংসার করতে দিবে না যা আপনার কথা সুনে বুঝলাম।
আসলে একজন মেয়ের মা-রাই পারে তার মেয়ের সংসার রক্ষা করতে এবং মেয়ের সংসার নষ্ট করতে।
দেখুন আপনার শাশুরি মা যদি ওনি আপনার স্ত্রীকে বুঝাইতো আপনার সংসার করার ব্যপারে তাহলে হয়তো আজ আপনাকে অনলাইনে এই বিষয়ে পরামর্শের জন্য প্রশ্ন করতে হতো না।
যাই হোক আপনি তাদের সাথে ফাইনাল আলাপ করুন এবং এটা জানিয়ে দেন যে সে আপনার সাথে সংসার করবে কিনা আর আপনার শাশুড়ি তার মেয়েকে আপনার সাথে পাঠাবে কিনা।
মনে রাখবেন আপনার স্ত্রী আপনাকে ভালোবাসলে বা আপনার সাথে সংসার করতে চাইলে আপনার ভাঙ্গা টিনের চালাতেও সংসার করতে চাইবে বা করবে। আর যদি সে আপনাকে ভালো না বাসে বা আপনার সাথে সংসার করতে না চায় বা তার স্বামী সংসারে ম মন না চায় তাহলে তার পক্ষে হাজার ফ্লাট বাসাও তার হয়তো হবে না।
কাজেই আমার কথা গুলো ভেবে দেখবেন এবং তা কার্যকর করার চেষ্টা করেন আসা করি সফল হবেন। আসা করি বুঝতে পারছেন।