আপনি কি এমন কোনো হাদিস দেখাতে পারবেন- যেখানে জন্মদিন পালন করা যাবে না বলে হাদিস আছে।
2549 views

1 Answers

বর্তমানে জন্মদিন পালন বলতে বুঝায় মাসের যে তারিখটিতে কোন ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেছে বছর ঘুরে সে তারিখটি আবার ফিরে আসলে সেটাই তার জন্মের দিন তথা জন্মদিন। সেদিনে আত্মীয়-সজন বন্ধু-বান্ধক নিয়ে আনন্দ উল্লাস করা হয়, আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠান বা উৎসবের। এতে আমন্ত্রিত মেহমানদের আপ্যায়ন করা হয়ে থাকে। মেহমানরা তাকে জন্মদিনের শুভকামনা জানান এবং তার ভবিষ্যত জীবন যেন আরো সুন্দর ও বর্ণীল হয় এ দোয়া করেন ।সইেসাথে তারজন্য উপহার সামগ্রীও দিয়ে থাকেন। মোটকথা জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠান পালন ও আনন্দ-উৎসব উৎযাপন করাকে জন্মদিন বলে আখ্যায়িত করা হয়।

ইসলামে জন্মদিন বা জন্মদিন পালন বলতে কিছু নেই। বছরের যে দিনটিতে কেউ জন্ম গ্রহণ করেছে, সেই দিনকে তার জন্য বিশেষ কোন দিন মনে করা বা এই উপলক্ষ্যে আনন্দ-ফুর্তি করা অথবা কোন আমল করার বিষয়ে কুরআন-সুন্নায় কোন ভিত্তি পাওয়া যায়না। খাইরুল কুরূনেও (সাহাবী ও তাবেঈন রাযি. এর স্বর্ণযুগ) জন্মদিন পালনের কোন অস্তিত্ব ছিল না। যদি জন্মদিন বলতে ইসলামে কোন কিছু থাকত তাহলে হাদীস ও ইতিহাসের কিতাব গুলোতে সাহাবী ও তাবাঈন রাযি. এর জন্মদিন পালনের কোন না কোন ঘটনা থাকত। অথচ তাদের জন্মদিন পালনের কোন প্রমাণ কোন সূত্রেই পাওয়া যায়না।এমন কি জন্মদিনের বিশেষ কোন গুরুত্বই তাদের কাছে ছিল না।এর প্রমাণ মেলে তাদের জীবনির দিকে দৃষ্টিপাত করলে। সাহাবা ও তাবেঈন রাযি.এর জীবনির দিকে লক্ষ্য করলে স্পষ্ট হয় যে, তারা কোন সনে জন্মগ্রহণ করেছেন তা কারো কারোটা জানা গেলেও কোন মাসের কোন তারিখে জন্ম করেছেন তা জানা খুবই দুস্কর। এমনকি আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আওয়াল মাসের কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেছেন এটা নিশ্চিত ভাবে জানা না থাকায় সীরাতপ্রণেতাদের মধ্যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। আমাদের মাঝে অতি প্রাসিদ্ধ বারই রবিউল আউয়া্লও সর্ব সম্মত মত নয়।


ইসলামে জন্মদিন পালন গুরুত্ববহন করলে কমপক্ষে সে সময় সাহাবিদের সন্তান সন্তুতি জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের জন্মতারিখ সংরক্ষিত থাকত। তারা জন্মদিন ঘটা করে পালন করতেন। অথচ জন্মদিন পালন তো দূরের কথা তাদের জন্মতারিখই সংরক্ষণ করা হয়নি। এটা যতি পালনীয় বিষয় হতো বা গুরুত্ব বহন করত তাহলে অবশ্যই তারা তদাদের সন্তানদের জন্ম তারিখ সংরক্ষণ করতেন। এর মাধ্যমে এ কথা প্রমাণিত হয় জন্মদিন বলতে বর্তমানে যা বুঝায় ইসলামে এর কোন অস্তিত্বই ছিল না।


আসুন এবার দেখা যাক জন্মদিন পালনের বিষয়টি কিভাবে বা কাদের থেকে এসেছে। আমাদের দেশে যেভাবে কেক কেটে জন্মদিন পালন করা হচ্ছে।এর উৎপত্তি আমাদের দেশে না,পশ্চিমাদেশে।ধারণা কারা হয়,খৃস্টের জন্মের বহু পূর্ব থেকে জন্মদিন উৎসব হিসেবে পালন কারা হত।পেগান সংস্কৃতির লোকেরা অদৃশ্য আত্মাকে ভয় পেত-বিশেষভাবে জন্ম দিনে।তাদের প্রায় সকলেরই বিশ্বাস ছিল যে,এই অদৃশ্য আত্মারা আরো বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে যখন কোন ব্যক্তি তাদের দৈনন্দিন জীবনে কোন পরিবর্তন আসে।যেমন, বছর বয়স বাড়া ।তাই ছিল ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে উৎযাপন,যারা হাঁসি-তামাশা করে সে ব্যক্তির চার পাশ ঘিরে রাখত যাতে খারাপ আত্না তার কোন ক্ষতি করতে না পারে। উপহারের পরিবর্তে,পরের বারের জন্মদিনটা যেন শুভ ও মঙ্গলময় হয় সকলে সেই কামনাই করতেন।


আর জন্মদিন সম্পর্কে যতটুকু জানা যায় এর সূচনা কনো মুসলিম থেকে হয়নি। বরং হয়েছে ফেরাউন থেকে। বাইবেলের বুক অব জেনেসিসে এসেছে, “ তৃতীয় দিনটা ছিল ফেরাউনের জন্ম দিন। ফেরাউন তার সব দাসদের জন্য ভোজের আযোজন করলেন। সেই সময়ে ফেরাউন রুটিওয়ালা ও দ্রাক্ষারস পরিবেশককে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেন”। (আদি পুস্তক,৪০:২০)আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব তিন হাজার পঞ্চাশ থেকে চার হাজার বছর পূর্বের এ ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যসূএ:  এখানে দেখুন


2549 views

Related Questions