5 Answers
ভাবনাটা ভেবে দেখো সবে
ধনী যদি হও ভবে, তবে তুমি যেও ফের
দরিদ্র মানুষের বাড়িতে,
আন্তরিকতার সাথে সমাদর পাবে ঢের,
আপ্লুত হবে তুমি অতিথী আপ্যায়নে চকিতে!
আর যদি হও তুমি দরিদ্র অসহায়
নিজেকে রাখিও দূরে সরিয়ে,
কেন যাবে আছে যেথা অনাদর, অবহেলা
যেও না ধনীদের সীমানাটা মাড়িয়ে।
দরিদ্র বধু ওই পরেছে সোনার হার;
ভাবে সবে পিতলের গহনা!
সোনার পানিতে ধুয়ে রূপোর অলঙ্কার;
দেখে সবে, পরে যবে, ধনীর দুলালী ওই অহনা!
সবাই সমান হলে উভয়েরই মান বাঁচে
পাবে না কেউ মনে বেদনা,
শান্তির ঘ্রাণে থাকে সুখ সুখ অনুভূতি,
ধনীর স্বজন হতে অহেতুক কর কেন সাধনা!
এ জগতে জানো আগে নিজেকে;
যে পথে মান বাঁচে সেই পখ ধর,
সুখের সংজ্ঞা নিয়ে কেন কর মাতামাতি
অতীত মন্থন করে আগামীর জীবনটা গড়।
কাজী কাদের নেওয়াজ শিক্ষকের মর্যাদা --- বাদশাহ আলমগীর- কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলভী দিল্লির। একদা প্রভাতে গিয়া দেখেন বাদশাহ- শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে, শিক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধুলি ধুয়ে মুছে সব করিছেন সাফ্ সঞ্চারি অঙ্গুলি। শিক মৌলভী ভাবিলেন আজি নিস্তার নাহি, যায় বুঝি তার সবি। দিল্লিপতির পুত্রের করে লইয়াছে পানি চরণের পরে, স্পর্ধার কাজ হেন অপরাধ কে করেছে কোন্ কালে! ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিল তার ভালে। হঠাৎ কি ভাবি উঠি কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি, শিক আমি শ্রেষ্ঠ সবার দিল্লির পতি সে তো কোন্ ছার, ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল, বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল। যায় যাবে প্রাণ তাহে, প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে। তার পরদিন প্রাতে বাদশাহর দূত শিককে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে। খাস কামরাতে যবে শিককে ডাকি বাদশা কহেন, “শুনুন জনাব তবে, পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে? বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা, নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা” শিক কন-“জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়, কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?” বাদশাহ্ কহেন, “সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রালন, পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ওচরণ। নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে ধুয়ে দিল না’ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।” উচ্ছ্বাস ভরে শিক আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে- “আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির, সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।”
------- ------ ----- নোলক----- ----- -----
আল মাহমুদ
আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।
নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তুমার কাছে?
-হাত দিও না আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।
বললো কেঁদে তিতাস নদী হরিণবেড়ের বাঁকে
শাদা পালক বকরা যেথায় পাখ ছাড়িয়ে থাকে।
জল ছাড়িয়ে দল হারিয়ে গেলাম বনের দিক
সবুজ বনের হরিৎ টিয়ে করে রে ঝিকমিক
বনের কাছে এই মিনতি, ফিরিয়ে দেবে ভাই,
আমার মায়ের গয়না নিয়ে ঘরেক যেতে চাই।
কোথায় পাবো তোমার মায়ের হারিয়ে যাওয়া ধন
আমরা তো সব পাখপাখালি বনের সাধারণ।
সবুজ চুলে ফুল পিন্দেছি নোলক পরি না তো।
ফুলের গন্ধ চাও যদি নাও, হাত পাতো হাত পাতো-
বলে পাহাড় দেখায় তাহার আহার ভরা বুক।
হাজার হরিণ পাতার ফাঁকে বাঁকিয়ে রাখে মুখ।
এলিয়ে খোঁপা রাত্রি এলেন, ফের বাড়ালাম পা
আমার মায়ের গয়না ছাড়া ঘরকে যাবো না
* * * * * * * * * *
অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি ,
খেজুরপাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি।
সাইমুম-ঝড়ে, পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক' নুয়ে,
ঊর্ধ্বের যারা - পড়ছে তাহারা, তুমি ছিলে খাড়া ভূঁয়ে।
শত প্রলোভন বিলাস বাসনা ঐশ্বর্যের মদ ,
করেছে সালাম দূর হতে সব ছুঁইতে পারেনি পদ।
সবারে ঊর্ধ্বে তুলিয়া ধরিয়া তুমি ছিলে সব নিচে,
বুকে করে সবে বেড়া করি পার, আপনি রহিলে পিছে।
* * * * * * * * * *
(কবিতার নাম -)
.
"উমর ফারুক"
- কাজী নজরুল ইসলাম
ভুল কখনো কখনো আমি বড্ড ভুল করি, যা করার আমার একান্ত কর্তব্য , তা না করে ভুল করি | যখন আমি ভুল বুঝতে পারি তখন দুঃখ করেও ভুল করি | আমি নিজেকে না জেনে , অপরকে জানার জন্য উত্সুক হয়ে ভুল করি | ভুল করি , আত্ম সমালোচনা না করে , অন্যের সমালোচনা করে | আকাশ কুসুম কল্পনা করেও ভুল করি | লোভ করে ভুল করি | দেখে ভুল করি , না দেখে ভুল করি | বলে ভুল করি , না বলায় ভুল করি | জেনে ভুল করি , না জেনে ভুল করি | লিখে ভুল করি , না লিখে ভুল করি | উপকার করে ভুল করি , উপকৃত হয়ে ভুল করি | আবার , ভালোবেসেও ভুল করি ||