2 Answers
লালন সাঁইজি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন বাঙালি। তিনি ফকির লালন, লালন সাঁই, লালন শাহ, মহাত্মা লালন ইত্যাদি নামেও পরিচিত। তিনি একাধারে একজন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক। তিনি অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। লালনকে বাউল গানের অগ্রদূতদের অন্যতম একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর গানের মাধ্যমেই উনিশ শতকে বাউল গান বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাকে ‘বাউল সম্রাট’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। তিনি ছিলেন এমন মানবতাবাদী যিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিগত বিভেদ থেকে সরে এসে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক এই মনোভাব থেকেই তিনি তার গানগুলি রচনা করেছেন। তাঁর গান ও দর্শন যুগে যুগে প্রভাবিত করেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল, অ্যালেন গিন্সবার্গের মতো বহু খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীসহ অসংখ্য মানুষকে।
পীর একটি ফার্সি শব্দ যার অর্থ হল জ্ঞানবৃদ্ধ সহজ ভাষায় বয়জেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তি যা আরবীতে বলা হয় মুরশীদ। মুরশীদ শব্দের অর্থ হল পথপ্রদর্শক, যিনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করেন ও অপরকে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম মুরশীদ বা পথপ্রদর্শক। যে ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের বিধান মানে না বা শরীয়তের আবশ্যকীয় কোন বিধান পালন করে না, সে ব্যক্তি কিছুতেই পীর তথা মুরশীদ হতে পারে না। কারণ যার নিজের মাঝেই যখন শরীয়ত নেই, সে কিভাবে অন্যকে শরীয়তের উপর আমল করা প্রশিক্ষণ দিবে? তবে লালন সাঁইজির অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে তিনি পীরের মতই কিন্তু সেটার সাথে ধর্মীয় পীরের কোন সম্পর্ক নেই।
পীর শব্দটি প্রচলিত একটি ইসলামী পরিভাষা। পীর হতে হলে প্রথমত মুসলিম হতে হবে। লালন সাঁই মুসলিম ছিলেন কি না তা নিয়ে গবেষকদের মাঝে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। বস্তুত লালন সাঁইয়ের কবিতার বক্তব্যে এমন কিছু বিশ্বাসগত বিষয় রয়েছে যাতে তাকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করা যায় না। সারকথা লালন সাঁইকে পীর বলার অবকাশ নেই।