3 Answers
স্বামী ও স্ত্রী'র ব্লাড গ্রুপ একই হলে কোনো
সমস্যা নেই/ হবে না।
.
দুজনেরই পজিটিভ বা দুজনেরই নেগেটিভ হলে
কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
শুধুমাত্র স্ত্রীর নেগেটিভ এবং স্বামীর পজেটিভ
হলে প্রথম সন্তান সুস্থ হয় তবে ২য় সন্তানের জন্ম
হওয়ার সময় অসুবিধা হয়/ মৃত ও হতে পারে।
আল্লাহ চাইলে সবই সম্ভব এবং কোন প্রকার ক্ষতি ছাড়া. প্রশ্নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আগে প্রথমে আমাদের ব্লাড গ্রুপ সম্পর্কে কিছু কথা জানা দরকার। প্রধানত ব্লাড গ্রুপ কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একটা হল ABO system (A, B, AB & O), আরেকটা হল Rh factor {Rh positive (+ve) & Rh negative(- ve)}. অর্থ্যাৎ Rh factor ঠিক করবে ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হবে না নেগেটিভ হবে। ব্লাড গ্রুপগুলো হলঃ A+ve, A-ve, B+ve, B-ve, AB+ve, AB-ve O+ve, O-ve. জেনে নেয়া যাক, যদি অন্য গ্রুপের ব্লাড কারো শরীরে দেওয়া হয় তাহলে কী হবে? কেন টেস্ট করাবেন? যখন কোন Rh নেগেটিভ গ্রুপের ব্যক্তিকে Rh পজেটিভ গ্রুপের ব্লাড দেয়া হয় তখন প্রথমবারে সাধারণত কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু এর বিরুদ্ধে রোগীর শরীরে এন্টিবডি তৈরী হবে। ফলে রোগী যদি আবার কখনও পজেটিভ ব্লাড শরীরের নেয় তাহলে তার ব্লাড cell গুলো ভেঙ্গে যাবে, এবং মারাত্মক সমস্যা দেখা দেবে। যেমন জ্বর, কিডনি ফেইলিউর, হঠাৎ মৃত্যু ইত্যাদি। এই সমস্যাকে মেডিকেল টার্ম এ বলা হয় ABO incompatibility। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ কী রকম হওয়া দরকার? যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ বা নেগেটিভ যে কোন একটি হলেই হবে। কিন্তু স্বামীর ব্লাডগ্রুপ যদি পজেটিভ হয়, তাহলে স্ত্রীকেও পজেটিভ ব্লাড গ্রুপের একজন হতে হবে। কোনভাবেই স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হওয়া চলবে না। অর্থাৎ একজন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের নারী কেবলই একজন নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের পুরুষকে বিয়ে করাই নিরাপদ। যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হয় আর স্ত্রীর ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ হয় তাহলে কী সমস্যা হবে? রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে কোন সমস্যা হয় না। তবে ভিন্ন ব্লাড গ্রুপে স্ত্রী যদি নেগেটিভ হয় আর স্বামী যদি পজিটিভ হয়, তাহলে সন্তান জন্মের সময়ে ‘লিথাল জিন’ বা ‘মারন জিন’ নামে একটি জিন তৈরি হয় যা পরবর্তীতে জাইগোট তৈরিতে বাঁধা দেয় বা জাইগোট মেরে ফেলে। সে ক্ষেত্রে মৃত বাচ্চার জন্ম হয়। যদি স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজেটিভ হয় তাহলে সাধারনত বাচ্চার ব্লাডগ্রুপও পজেটিভ হবে।
স্বামী স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে নানা
ধরনের শারীরিক সমস্যা হতে পারে এমনকি
ভবিষ্যত সন্তানেরও সমস্যা হতে পারে। আসুন
বৈজ্ঞানিক কিছু বিশ্লেষণে জেনে নিই।
আমাদের শরীরে রক্তের গ্রুপ দুটি প্রক্রিয়ায়
নির্ণীত হয়ে থাকে। প্রথমটিকে বলা হয় ABO
System. যা মূলত রক্তের গ্রুপ যেমন : A, B, AB,
O। দ্বিতীয়টি হল Rh factor বা রেসাস
ফ্যাক্টর। এখানে দুটি ভাগ রয়েছে Rh+বা আর
এইচ পজেটিভ এবং Rh- বা আর এইচ
নেগেটিভ। রক্তের ABO System এর সাথে
রেসাস ফ্যাক্টর যুক্ত হয়ে রক্তের গ্রুপ
নির্ণীত হয়। অর্থাৎ এর মাধ্যমেই রক্তের গ্রুপ
পজেটিভ নেগেটিভ হয়ে থাকে।
এক্ষেত্রে এক ব্যক্তির রক্ত অন্য একটি
গ্রুপের ব্যক্তির শরীরে গেলে
প্রাথমিকভাবে শরীরে একটি অ্যান্টিবডি
তৈরি হবে। এরপরে আবার যখন ব্যক্তিটির
শরীরে অন্য গ্রপের রক্ত প্রবেশ করে তাহলে
ভয়াবহ কিছু হতে পারে। এতে রক্তের রক্ত
কোষ ভেঙ্গে ব্যক্তিটির মৃত্যুও হতে পারে।
একে বলা হয় ABO Incompatibility। তাই কারও
রক্ত যদি পজিটিভ হয়ে থাকে তবে তাকে
পজিটিভ রক্তই দেয়া হয় আর নেগেটিভ হলে
নেগেটিভ রক্ত দেয়া হয়।
স্বামী স্ত্রীর রক্ত কেমন হওয়া উচিত :
স্বামীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হলে স্ত্রীর
রক্তের গ্রুপ পজেটিভ নেগেটিভ যেকোনো
একটি হলেই হবে। তবে স্বামীর রক্তের গ্রুপ
যদি পজেটিভ হয় তবে স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ
অবশ্যই পজেটিভ হতে হবে।
রক্তের গ্রুপ এক হলে যে সমস্যা দেখা
দিতে পারে : স্বামীর রক্তের গ্রুপ পজেটিভ
আর স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হলে
শরীরে লিথাল জিন বা মারণ জিন নামে
একটি জিন তৈরি হয় যা তাদের মিলনে সৃষ্টি
জাইগোটকে মেরে ফেলে। ফলে অনেক
ক্ষেত্রেই মৃত বাচ্চার জন্ম হয়। স্বামীর
রক্তের গ্রুপ পজেটিভ হলে সন্তানের রক্তের
গ্রুপও পজিটিভ হয়ে থাকে। স্বামীর রক্তের
গ্রুপ পজেটিভ আর স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ
নেগেটিভ হয়ে থাকলে স্ত্রী পজেটিভ
গ্রুপের একটি ফিটাস বা ভ্রুণ ধারণ করে
থাকে। ডেলিভারীর সময়ে পজেটিভ
ফিটাসের ব্লাড, প্লাসেন্টাল ব্যারিয়ার বা
ভ্রুণফুল displacement ঘটবে। এর ফলে স্ত্রীর
শরীরে নতুন ব্লাড গ্রুপের একটি আর এইচ
এন্টিবডি তৈরি হবে। এটি প্রথম সন্তানের
জন্মের সময়ে কোনো সমস্যা তৈরি করবে না।
কিন্তু দ্বিতীয়বার সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে
পূর্বের সন্তান জন্মের সময়ে তৈরি হওয়া
আরএইচ এন্টিবডি শরীরের ভ্রুণের
প্লাসেন্টাল ব্যারিয়ারকে ভেঙ্গে ফেলতে
পারে। এর ফলে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের সময়ে
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কিংবা মৃত সন্তানের
জন্ম হতে পারে। একে মেডিকেলের ভাষায়
আরএইচ incompaltibity বলা হয়।
.
তবে এগুলো শুধুই সম্ভাবনার কথা। এগুলো হুবহু ফলে যাওয়া আবশ্যক কিছু নয়। তাই আল্লাহ চাহে তো সমস্যা নাও হতে পারে।