কিশোর বয়সে প্রেম ভালোবাসা কতটুকু যথার্থ?
5 Answers
কিশোর বয়সে হোক যে বয়সেই হোক বিবাহের আগে প্রেম ভালবাসা জায়েয নাই । আসল কথা হল বাবা মায়ের বা মুরুব্বিদের শাসন না থাকে ছেলে মেয়েরা কত অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে তার কোন খেয়াল রাখেন না । ছেলে মেয়েদেরকে যদি ছোট থেকেই ধর্মীয় অনুশাসনের মাঝে আর শাসন, আদর স্নেহের মধ্যে তাদের মনে সর্বপ্রকার খারাপ কাজের প্রতি ঘ়্ণা স়ষ্টি করে বড় করতে থাকেন, তাহলে তারা অন্তত মুরুব্বিদের ভয়ে অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকবে ।
কিশোর বয়সে প্রেমে জড়িয়ে যাওয়া অনেক ক্ষতিকর। মানে মূলেই শেষ হয়ে যাওয়া। এর পরিত্রাণের একটা ই পথ তাহলো ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং প্রত্যেক গার্ডিয়ান তার অধীনস্থের উপর নজরদারী রাখা। পাশাপাশি নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া। আল্লাহর ভয় যতক্ষণ পর্যন্ত কারো অন্তরে প্রবেশ করানো না যাবে ততক্ষণ গুনাহ ও অন্যায় থেকে বিরত রাখা অসম্ভব। এমনকি কোন আইন দ্বারাও সম্ভাব নয়।
ইসলাম ধর্মে বিয়ের আগে প্রেম করা হারাম ।
“স্বাধীনভাবে লালসা পূরণ কিংবা
গোপনে লুকিয়ে প্রেমলীলা করবে
না” (সূরা আল মায়িদা: ৫)।
কিশোর বয়সে প্রেম মোটেও উচিত নয়।কারণ এ সময়টা এক দিকে যেমন জীবন গড়ার,তেমনি ভাঙারও।আর প্রেম এক্ষেএে এক নিয়ামক এর মত কাজ করে।আবেগতাড়িত করে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।তাই জীবনের এ সময়টায় ভালোমতো পড়াশোনা করা উচিত,যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহ কে ডাকা উচিত।কঠোর পরিশ্রম করে নিজের ক্যারিয়ারকে গড়ে তোলার গাঁথুনি দেয়া উচিত।আমাদের শ্রদ্ধেয় মা,বাবাওও তো আমাদেরকে এমনভাবেই দেখতে চান।আর উনাদের খুশির চেয়ে বড় কিছু কি হতে পারে একজন সন্তানের কাছে।
তাই আমার মতে,আবেগতাড়িত হয়ে এ বয়সে প্রেম অনুচিত।
ছেলে মেয়েদের মাঝে প্রেম ভালবাসা হারাম। সেটা কিশোর বয়সে হোক কিংবা যুবক বয়সে হোক। তবে কিশোর বয়সে প্রেমটা তাদের জন্য বেশি ক্ষতিকর। কারন এসময়টা হচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের বীজ বপনের সময়। এসময় স্বাস্থ্য, চরিত্র গঠনের সময়। অথচ এ সময়টা তারা প্রেমের আবেগে কাটিয়ে দেয়। ফলে ভবিষ্যৎ জীবন খুব একটা ভাল করতে পারে না। অনেকে ব্যর্থ হয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে অকালে মারা যায়। যাই হোক, এটা থেকে পরিত্রাণের উপায় সবসময় নিজেকে পড়াশুনার মাঝে ব্যস্ত রাখা। ভবিষ্যৎ জীবনের উচ্চ স্বপ্ন বা লক্ষ পূরণের জন্য কিশোর কিশোরীদের নিজেকে পড়াশুনায় ডুবিয়ে রাখতে হবে। সেই সাথে ধর্মীয় আইন কানুন মেনে চলতে হবে তাদেরকে। খারাপ বন্ধু বা বান্ধবী থেকে দূরে থাকতে হবে। কেননা এসময় অধিকাংশ ছেলে মেয়ে বন্ধু বা বান্ধবীদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়। এমনকি সহপাঠীরাই অনেকসময় এই কাজে সাহস যোগায়। তাই খারাপ সহপাঠী থেকে দূরে থাকতে হবে। এছাড়া টিভি বা সিনেমায় প্রেম ভালবাসা ঘটিত অনুষ্ঠান দেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। সবশেষে একটা কথা না বলেই পারছি না সেটা হল মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকতে হবে। কারন হাতে ফোন থাকলে প্রেমের আবেগটা বেশি জেগে উঠে।