বোর্ড পরিক্ষার খাতায় মার্কস বাড়ানোর জন্য লেখার কোনো টিপস আছে?
3 Answers
উত্তরপত্র হাতে পাওয়ার পর নির্দেশাবলি অনুযায়ী রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড, কেন্দ্রের নাম, বিভাগ ইত্যাদি সাবধানে পূরণ করবে। সবকিছু ঠিকমতো পূরণ করা হয়ে গেলে প্রশ্নের জন্য অপেক্ষা করবে। উত্তরপত্রে কোনোরূপ ভুল হয়ে গেলে তা তৎক্ষণাৎ কক্ষ পরিদর্শককে জানাবে, এজন্য অযথা উত্তেজিত হবে না। প্রশ্নপত্র হাতে পেলে পুরোটা একবার পড়ে নাও। তারপর ধীরে সুস্থে উত্তর লেখা শুরু করো। কোনো প্রশ্ন কমন না পড়লে ঘাবড়ে যেও না। যে প্রশ্নটার উত্তর পারো সেটা দিয়ে শুরু করো। প্রথমদিকের প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি ভালোভাবে লিখতে পারো তাহলে পরীক্ষক খাতায় ভালো নম্বর দেবেন। কিন্তু লেখার শুরুতেই যদি তাকে হতাশ করো কি ঘটতে পারো সেটা বুঝতেই পারছ। প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে যদি তুমি একদম অজ্ঞাত থাক তাহলে বানিয়ে উত্তর লেখার চেষ্টা করবে না। এতে পরীক্ষক তোমার ওপর বিরক্ত হবেন। লেখা শেষ হলে সবগুলো আবার রিভিশন দিবে। রিভিশন দেয়ার জন্য কমপক্ষে পনের মিনিট সময় হাতে রাখবে। গাণিতিক প্রশ্নের ক্ষেত্রে যদি উত্তর ঠিকমতো করতে না পার তাহলে একটি প্রশ্নের উত্তরে দীর্ঘ সময় না নিয়ে এই প্রশ্নটি রেখে অন্য প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে। অনেকে সারাদিন পড়াশুনা করেও ভালো ফলাফল করতে পারে না। আবার অল্প পড়েও বুদ্ধিমত্তার সঠিক প্রয়োগে অনেক ভালো ফলাফল করে। কোন অধ্যায়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কোন অধ্যায়গুলো অপেক্ষাকৃত সহজ সেগুলোর সূক্ষ্ণ বিচার বিশ্লেষণ করে এবং ভালো কলেজগুলোর প্রশ্নপত্রগুলো ঘেঁটে নিজের মতো করে একটি সাজেশন তৈরি করে পড়ো। এতে কম পরিশ্রমেও অপেক্ষাকৃত ভালো ফলাফল করতে পারবে।
পরীক্ষার প্রয়োজনীয় পরামর্শ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্যে সাধারণ টিপস-১ এসএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্টের জন্যে চাই সঠিক প্রস্তুতি। তাই এখন প্রতিটি বিষয় ভালো করে রিভিশন দিতে হবে। এর সাথে সাথে তোমাদেরকে পরীক্ষা দেওয়ার নিয়মকানুন সম্পর্কে জানিয়ে দিতে চাই। যা জানলে কিছু বাড়তি নম্বর পেতে সাহায্য করবে। … পরীক্ষার খাতা পরীক্ষার হলে তোমার খাতাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা মনে রাখবে। তোমার জানা যাবতীয় বিষয় ওই খাতায় প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে দিতে হবে। তাই পরীক্ষার খাতার বিষয়ে খুবই যত্নশীল হতে হবে। প্রথম পাতায় রোল নম্বর, রেজি.নম্বর, বিষয় কোডের বৃত্ত সঠিকভাবে ভরাট করবে। নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় সেট কোডের বৃত্ত অবশ্যই সঠিকভাবে ভরাট করতে হবে। খাতার কোথাও যেন কালির দাগ না পড়ে। হাতের লেখা সুন্দর হাতের লেখা একটি সম্পদ। আবার হাতের লেখা সুন্দর হলেও যদি স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন না হয় তবে নম্বরও কম ওঠে। তাই শব্দের এবং লাইনের মধ্যে ফাঁক রেখে পরিচ্ছন্ন করে লিখতে হবে। যাতে সহজে পড়া যায়। কোনো শব্দ, লাইন বা অনুচ্ছেদ কেটে দিতে হলে হিজিবিজি করে নয় এক টানে পরিষ্কার করে কাটতে হবে। ভুল শব্দ বা বাক্যাংশের ওপর লিখে সংশোধন করলে খাতাটি নোংরা হয়ে ওঠে তাই এটি কখনই করবে না। এক্ষেত্রে কেটে দিয়ে ওপরে বা পাশে ঠিক শব্দ বসাবে। প্রশ্ন নির্বাচন ও উত্তর প্রশ্ন পাওয়ার পর বাছাইয়ের কাজটি সঠিকভাবে করা জরুরি। কোন প্রশ্নের উত্তর লিখবে আর কোন প্রশ্নটা বাদ দিলে সুবিধা তা তোমাকে প্রথমেই নির্বাচন করতে হবে। যেসব প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়, জানা থাকলে সে ধরনের প্রশ্ন নির্বাচন করা উচিত। একই ধরনের প্রশ্ন হলে, যেটি ভালো জানা সেটি প্রথমে লিখবে। বেখেয়ালে কোনো প্রশ্ন বাদ রেখে এলে কি না, অথবা প্রশ্নের ভেতরের ছোট অংশগুলোর উত্তর দেওয়া বাদ গেল কি না সে বিষয়ে খুবই সাবধান থাকবে। সময়ের দাম সময় ধরে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিবে। প্রতিটি বিষয়ের বড় প্রশ্ন ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জন্যে কতটুকু সময় দিতে পারবে, তার হিসাব আগে থেকেই করে নেবে। কোনো প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে জানা থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই লিখে শেষ করবে এতে করে যে সময় বাঁচবে তা অন্য প্রশ্নের উত্তরে কাজে লাগবে। দেখা গেল একটি প্রশ্নের উত্তরদানে অনেক বেশি সময় খরচ করে ফেললে পরে সময়ের অভাবে দু-একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে না বা দায়সারাভাবে উত্তর দিলে। এতে বেশ ক্ষতি হয়। বেশি সময় দিয়ে কোনো প্রশ্নের দু-এক নম্বর বাড়তি জুটলেও সময়ের অভাবে পাঁচ-ছয় নম্বর নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ভালোজানা প্রশ্নের উত্তরদানে সময় বাঁচাতে পারলে, সে সময়টি এক্ষেত্রে কাজে দিবে। সঠিকভাবে প্রশ্নের নম্বর দেওয়া প্রশ্নের নম্বরটি বাঁ দিকে নির্ভুলভাবে অবশ্যই বসাবে। একটি প্রশ্নের মধ্যে নানা অংশ থাকতে পারে। পৃথক প্রশ্নের উত্তর পৃথক অনুচ্ছেদে লেখা উচিত। আবার অনেক প্রশ্নেই (ক), (খ) অংশ থাকে। এক্ষেত্রে সেভাবে (ক), (খ) নম্বর লিখে তবেই উত্তর দেবে। যেমন : ১নং প্রশ্নের ‘ক’ এর উত্তর। ঠিক বানান উত্তরের সময় বানান অনেকেই ভুল করে। কাজেই সতর্কতা দরকার। যেসব বানান সচরাচর ভুল হয় সেগুলো বেশি করে অনুশীলন দরকার। বিখ্যাত আর পরিচিত নামের বানান যেন ঠিক থাকে। কবিদের নামের বানান ভুল করলে পরীক্ষক বিরক্ত হবেন। এতে তোমার নম্বরও কমে যেতে পারে। তোমার পাঠ্যবইয়ের গদ্য, সহপাঠের নাম এবং লেখকের নাম যেন ভুল না হয়।
লেখার প্রেজেন্টেশনটা ঠিকভাবে করা উচিত।
এখানে প্রেজেন্টশন বলতে বিভিন্ন কালির ব্যবহার
বা ডিজাইনকে বোঝানো হয় নি, বরং পরীক্ষার
খাতাটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হওয়া প্রয়োজন। খাতার বাম
পাশে এবং উপরে মার্জিন থাকাও আবশ্যক।”
------শুধু খাতা ভরিয়ে লেখা নয়:-------
শারমিন জাহান বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী সঠিক
উত্তর না জেনেই শুধু খাতা ভরিয়ে লিখে ফেলে।
তারা মনে করে শিক্ষকরা না পড়েই নাম্বার দেন।
তাদের এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। শিক্ষকরা নাম্বার
প্রদানের ক্ষেত্রে খুব সচেতন। তাই প্রতিটি
শিক্ষার্থীর উচিত স্পেসিফিকভাবে প্রশ্নের উত্তর
দেওয়া। অর্থাৎ অযাথা খুব বড় লেখার কথা চেষ্টা না
করে, প্রয়োজনীয় অংশটুকুই লেখা উচিত।”
-------ইংরেজি ব্যবহারে হতে হবে
সচেতন:----+-
শারমিন জাহান ইংরেজি ব্যবহার প্রসঙ্গে বলেন,
“দুঃখজনক হলেও সত্য অনেক শিক্ষার্থীর ইংরেজি
ভাষার উপর দক্ষতা খুব কম। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে
ইংরেজি মাধ্যমে মানিয়ে নিতে তাদের কষ্ট হয়।
একজন ছাত্র বা ছাত্রীর ইংরেজিতে দুর্বলতা
থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই তা ঠিক করার
চেষ্টা করতে হবে। কারণ পরীক্ষার খাতায়
অতিরিক্ত ভুল বানান এবং ভুল গ্রামারের ব্যবহার
শিক্ষককে নেতিবাচক করে দেয়। তখন ভালো
নাম্বার পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে যায়।”
প্রশ্নের মান বণ্টন এবং প্রশ্ন
------বুঝে উত্তর দিতে হবে:-----
শারমিন জাহান বলেন প্রশ্ন ঠিকভাবে পড়ার গুরুত্ব
উল্লেখ করে বলেন, “কোন প্রশ্নের উত্তর
দেওয়ার আগে প্রশ্নের মান বণ্টন দেখতে
হবে এবং বুঝে শুনে উত্তর দিতে হবে। অনেক
সময় প্রশ্ন কিছুটা পরিবর্তন হয়ে বা ঘুরিয়ে আসতে
পারে। সেক্ষেত্রে ঘাবড়ে গেলে চলবে না।
কারণ শিক্ষক ক্লাসে যা পড়িয়েছিলেন প্রশ্ন তার
মধ্য থেকেই এসেছে। তাই মাথা ঠাণ্ডা করে প্রশ্ন
পড়তে হবে। এরপর উত্তর দিতে হবে।”
-----নিজের ভাষায় লিখতে হবে------:
শারমিন জাহান বলেন বলেন, “হুবুহু কিছু মুখস্থ করা
ভালো নয়। আবার সব প্রশ্নের উত্তর এক বইতে
ভালো নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই প্রয়োজনে
বিভিন্ন বই পড়তে হবে এবং প্রশ্নের উত্তর
অবশ্যই নিজের ভাষায় লিখতে হবে। তবে নিজের
ভাষা মানে এই নয় যে, খাতায় কাল্পনিক কিছু উপস্থাপন
করতে হবে। বইয়ের কথাগুলো সাবলীল ভাষায়
উল্লেখ করাতেই একজন শিক্ষার্থীর সার্থকতা।”
----+কোটেশন, গ্রাফ দিতে হবে
নিখুঁতভাবে:-----
শারমিন জাহান কোটেশান এবং গ্রাফ ব্যবহার
প্রসঙ্গে বলেন, “সব বিষয়ে কোটেশন বা
গ্রাফের প্রয়োজন হয় না। তবে যে সব বিষয়ে
কোটেশন এবং গ্রাফ আছে, সেগুলো খুব
সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। কারণ ভুল
কোটেশন বা গ্রাফ শিক্ষককে অসন্তুষ্ট করে
এবং শিক্ষার্থী সম্পর্কে খারাপ ধারণা দেয়। তাই এ
ব্যাপারে হতে হবে সচেতন।”