4 Answers
তালাক দিয়ে দিয়েছেন তা তো হয়েই গেছে এই তালাক বাতিলের আর কোনো সুযোগ নাই।এখন আপনারা আবার দুজনে এক সঙ্গে ঘর করতে চান,তাহলে আপনাদের আবার বিয়ে করতে হবে।
হুট করে তালাক দেন কেন ভাই। জীবনের এতো বড় একটা সিদ্ধান্ত নেবার আগে সাতবার ভাববেন। এখন ৩ মাস অপেক্ষা করতেই হবে।তারপর আবার বিবাহ করতে হবে।
তালাক কেন সবচেয়ে ঘৃনিত হালাল
ইসলামে ত্যাজ্যপু্ত্র নেই । হিন্দুধর্মে আছে কেননা ইহা অতি অমানবিক । এতে পু্ত্র-কন্যারা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে যায় । যা কুরআনে বর্নিত মিরাস বা ওয়ারেশ বিরোধী ।
তবে ইসলামে তালাক (ত্যাজ্য স্ত্রী) বৈধ । জায়েজ হলেও এটি সবচেয়ে ঘৃনিত হালাল কাজ । মানে এর চেয়ে ঘৃনিত আর হালাল কিছু নেই ।
তাহলে স্বামী-স্ত্রী মিল না হলে কি করবে ?
বহিস্কার করবে । প্রয়োজনে আজীবন বহিস্কার করবেও তবুও তালাক নয় । কেননা তালাক (ত্যাজ্য স্ত্রী ) হালাল হলেও এটি এতোই অমানবিক যে হারামকে হার মানায় । যেমন : আলী(রা) বর্নিত তালাকে আল্লাহর আরশও কেপে উঠে ।
কেন তালাক নয় ?
আপনি সম্পর্কের শেষ চান । মানে স্ত্রীকে আর চান না । তাহলে তাকে বহিস্কার করুন । আপনার সাথে মিল দিতে আসলে তাকে জুতা দিয়ে পিঠান ।তবুও তালাক নয় । তালাক অনেকটা ত্যজ্যপুত্রের ন্যায় বর্জনীয় । কেননা এতে স্ত্রী সর্ম্পকের সাথে সম্পত্তির ওয়ারিশ থেকেও বঞ্চিত হয়ে যায় । যা কুরআন বিরোধী । কারন কুরআন তো স্ত্রীকে ওয়ারিশ দেয়ার কথা বলে । আবার স্ত্রী গরীব হলে তাকে রাস্তায় নামতে হবে । নিজের সন্তানের মতো স্ত্রীও কুরআনে বর্নিত সম্পত্তির ওয়ারিশ ।
কুরআনে স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর অধিকার :
১/৪ ভাগ, যদি কোন সন্তান না থাকে।
১/৮ ভাগ, যদি সন্তান থাকে।
হ্যা আপনি যদি সম্পত্তি দিয়ে তারপর তালাক দেন । তাহলে তা অনেকাংশেই মানবিক হয়ে যায় । তারপরও সর্ম্পকের হক্ব নষ্ট করলেন ।
বি:দ্র : যেহেতু পুরুষরা তালাক দেওয়া ছাড়াই আরেকটি বিয়ে করতে পারে তাহলে তালাক দিয়ে আল্লাহর আরশ কাপানোর দরকার কি ?
তালাক দেওয়ার আগে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন আপনার স্ত্রী ঠকল(ক্ষতি হলো) কিনা ?
হ্যা । ইসলামে কারো অপকার করা বা ঠকানো হারাম ।
ধরেন আপনি একটি মেয়েকে বিয়ে করলেন । তারপর মিল না হওয়ায় তালাক দিলেন । তাহলে মেয়েটির দুটি ক্ষতি হলো ।
একটি হলো । তার স্ট্যাটাস নিচে নেমে গেলো । মেয়েদের একটি বিয়ে ভেঙ্গে গেলে আরেকটি কঠিন । আপনাকে বিয়ে না করে যদি আরেকজনকে করতো তবে হয়তো মেয়েটি এতো লসের মধ্যে পড়তো না । হয়তো আপনার অমানবিকতার কারনেই মেয়েটির এতো ক্ষতি হলো ।
অপরটি হলো মেয়েটি সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ন বর্জিত হলো অনেকটা হিন্দুধর্মের কুপ্রথা ত্যজ্যপুত্রের ন্যায় । যা জঘন্য । মানবতা বিরোধী ।
হ্যা ।তারপরেও ইসলামে তালাককে বৈধ রাখা হয়েছে বিশেষ কারনে । ধরেন :আপনার স্ত্রী তালাক চাচ্ছে ।অথবা খুন, ব্যভিচার কিংবা গুরুতর অপরাধ করেছে ।
অথবা ব্যাপরটি এমন দাড়ালো যে তালাক হলে উভয় পক্ষ রাজি ও উভয় পক্ষের লাভ । তাই তালাকের অপশনটি রাখা হয়েছে । তারমানে কুরআনে তালাক বৈধ করেছে মানুষের উপকারের জন্যে কোন মেয়ের জীবন নষ্ট করার জন্যে নয় । তাই তালাক দেওয়ার আগে ভাবুন