3 Answers
হস্তমৈথুনের মারাত্মক সব ক্ষতিকর দিক দেখে নিন – সতর্ক হন !! এর কারনে হওয়া সকল ক্ষতি এবং হারাম দিক সম্পর্কে জানুন!
হারাম!”
হাফিজ ইবনে কাথির (রাঃ) বলেছেন
ইমাম শাফী (রাঃ) সহ অনেক ইসলামীক
চিন্তাবিদ এই মর্মে (আয়াত মতে)
হস্তমৈথুন্য কে হারম বলেছেন
“হস্তমৈথুন্য আল্লাহর নির্দেশিত ওই
দুইটি (স্ত্রী এবং খরিদ করা নারী
কৃতদাসের সাথে মিলন) হালাল(বৈধ)
নিয়মের অর্ন্তভুক্ত নয়। তাই এটি
হারাম।”
একই সাথে তারা এই উপসংহারে
এসেছেন, “এবং যারা বিবাহের
মানে খুজে না পান তারা যেন পাপ
থেকে বিরত থাকেন – আল্লাহ তার
চারুতা দিয়ে তাদের বিবাহের
যোগ্য সম্পদশালী না করা পর্যন্ত”
আবদুল্লা বিন মাসউদ (রাদিহআল্লাহু
আনহু) বোখারী শরীফে উল্লেখ
করেছেন – নবী করিম (সঃ) বলেন, “ও
যুবক দল, তোমাদের মাঝে যে-ই বিবাহ
করেতে সামর্থবান হও তারা তা
(বিয়ে) করে ফেল। কারন বিয়ে করলে
তোমরা তোমাদের গোপন অঙ্গকে
পাপ থেকে রক্ষা করতে পারবে। আর
যারা বিয়ে করতে পারছোনা তারা
তা করার জন্য দ্রুত যোগ্যতা অর্জন কর –
কারন এটি তোমার রিরাংসা (lust)
ভংগ করে দিবে।” ( তথ্যসূত্র)
হাসান বিন আরফাহ্ মতে নবী করিম
(সঃ) বলেছেন, “সাত প্রকার মানুষের
দিকে আল্লাহ পাক রোজ কেয়ামতের
দিন তাকাবেন না। এমনকি তাদের
ক্ষমা করবেন না, তাদের জান্নাতে
যাবার অনুমুতি দেবেন না। তারা
হলেনঃ
১. যে ব্যাক্তি স্বমৈথুন্য/হস্তমৈথুন্য
করে।
২. যে ব্যাক্তি পায়ুপথে মিলন করে।
৩. যে ব্যাক্তির সাথে অন্যকাউকে
পায়ুপথে মিলন করতে দেয়।
৪. যে ব্যাক্তি সর্বদা মাতাল অবস্থায়
থাকে।
৫. যে ব্যাক্তি পিতামাতাকে
এমনভাবে আঘাত করে যাতে তারা
সাহায্য প্রার্থনা করে (অন্যত্র বলা
আছে পিতা-মাতা যদি “ওহ” শব্দ
করে।)।
৬. যে ব্যাক্তি প্রতিবেশির প্রতি এমন
অত্যাচার করে যাতে তারা অভিশাপ
দেয়।
৭. যে ব্যাক্তি তার প্রতিবেশীর
স্ত্রীর সাথে অবৈধ শাররীক মিলন
করে।
(সুত্রঃ ইবনে কাথি্র, সংখ্যা ৫, পৃষ্ঠা
৪৫৮)
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক কোরআনে বলেন, "হে নবী আপনি মোমেন বান্দদের বলুন, তারা যেন পরনারী থেকে চক্ষুকে নিম্নগামী করে এবং তাদের লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।" হাদিসে পাকে আল্লাহর রাসূল (স:) বলেন, যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থানের এবং যৌন অঙ্গের হেফাজত করবে আমি কেয়ামত দিবসে তার জিম্মাদারি গ্রহণ করবো। হস্তমৈথুন বা মাস্টারবেটিং মারাত্মক গুণাহের কাজ অব্যহত রাখলে মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নিশ্চিত নষ্ট হয়। নেমে আসে জীবনের চরম বিপর্যয় আর কঠিন কঠিন রোগ। সুতরাং সবাইকে খুব চিন্তা করে চলতে হবে।
আল্লাহ তা’আলার দেয়া এ সুন্দর যৌবনকালটাকে ক্ষয় করার জন্য যে ব্যক্তি তার স্বীয় লিঙ্গের পিছনে লেগে যায় এবং নিজ হাত দিয়ে এটা চর্চা করায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তার এ হাত পরকালে সাক্ষী দেবে যে, সে এ পাপ কোথায় কতবার করেছে- যা পবিত্র কালামে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “সেই দিন আমি তাদের মুখের উপর মোহর মেরে দেব, বরং তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে, আর তাদের পা সাক্ষ্য দেবে যা তারা অর্জন করত সে-সন্বন্ধে। ” -(আল- কুরআন, ৩৬:৬৫)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ “ যে ব্যক্তি স্বীয় জিহ্বা এবং লজ্জাস্থান জামিন হবে আমি তার জাহান্নামের জন্যে জামিন হবো।” -(বুখারি, মিশকাত) উক্ত হাদিস থেকে প্রমানিত হচ্ছে, মানব দেহের এ দু’টো অঙ্গ অত্যন্ত দুর্বল ও বিপদজনক। এ দু’টো অঙ্গের মাধ্যমে বিশেষ করে লজ্জাস্থানের মাধ্যমে পাপ করাতে শয়তানের জন্য খুব সুবিধা। এ দু’টো অঙ্গের মাধ্যমে বেশীরভাগ পাপ হয়ে থাকে। যদি কোন ব্যক্তি এ দু’টো অঙ্গের হেফাজত করে, বিশেষ করে যুবক অবস্iউমi লিঙ্গের হেফাজত করে অবয়িদ কোন প্রকারেই বীর্যপাত ঘটাতে চেষ্টা না করে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশের বিরাট সুযোগ পেয়ে যাবে। অন্যত্র সহীহ হাদীস থেকে আরও প্রমানিত হয়ঃ “(একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যুবকদের লক্ষ্য করে বলেন) হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে, তাদের বিবাহ করা উচিত। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর যে বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে না, তার উচিত (কামভাব দমনের জন্য) রোযা রাখা।” -(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেনঃ “তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তা’আলা নিজের দায়িত্ব মনে করেন। (১) ঐ খতদাতা ব্যক্তি, যে তার খতের মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করে। (২) সে বিবাহিত যুবক, যে চরিত্রের হিফাজতের উদ্দেশে বিবাহ করে। (৩) সে মুজাহিদ, যে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে।” -(হাসানঃ আত-তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত) হস্তমৈথুন এমনই একটি কাজ যার অর্থ নিজেকে কলুষিত করা। এটা একটা জঘন্য কলুষ বা পাপ বোধযুক্ত কাজ। হস্তমৈথুন এমনই গোপনীইয় পাপ যা মানুষ চোরের মত চুপিসারে করে এবং প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেনঃ “উত্তম চরিত্র হল পু্ন্য। আর যে কাজ তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে এবং লোকের কাছে প্রকাশ হওয়াকে তুমি পছন্দ কর না, তা হল পাপ।” -(মুসলিম, মিশকাত) অশালীন, অশোভনীয় ও অন্যায় কাজে মনে সঙ্কোচবোধ করার নাম হলো লজ্জা বা হায়া। যার লজ্জা নেই সে পারে হস্তমৈথুনে লিপ্ত হতে। লজ্জা বা হায়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ “লজ্জাশীলতা কল্যাণই বয়ে আনে । ” – [বুখারী ও মুসলিম] মুসলিমের এক বর্ণনায় এরূপ রয়েছেঃ “লজ্জাশীলতার পুরোটাই কল্যাণময়।