সামনে আসছে ঈদ। ঈদের ছুটিতে কেউবা যাবেন নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ি, আবার কেউবা যাবেন সাগর-পাহাড়-ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আনন্দভ্রমণে। কিন্তু অনেকেরই গাড়িতে বা বাসে ভ্রমণ করলে বমি বা বমির ভাব হয়, মাথা ঘোরে বা মাথা ব্যথা করে। এ কারণে ভ্রমণের আনন্দটি মাটি হয়ে যায়। এই বিরক্তিকর সমস্যার জন্য অনেকে গাড়িতে বা বাসে চড়তেই ভয় পান। একে ‘মোশন সিকনেস’ বলে। গতি ও জড়তার ফলে মস্তিষ্কে সমন্বয়হীনতার কারণে এটি হয়ে থাকে। যাঁরা এই বিরক্তিকর সমস্যায় আক্রান্ত, তাঁদের ভ্রমণটাকে আনন্দপূর্ণ করতে কিছু পরামর্শ। * গাড়ি/বাসের সামনের দিকে বসুন, চেষ্টা করুন জানালার পাশে বসতে। বাইরে দৃষ্টি প্রসারিত করুন। রাতের বেলায় ভ্রমণে চোখ বুজে থাকুন। ভ্রমণের আগে অবশ্যই রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাবেন। *যাত্রার আগে অতিরিক্ত খাবার বা গুরুপাক খাবার খাবেন না। যাত্রাপথে বাইরের খাবার অথবা বারবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। * ভ্রমণের সময় ধূমপান করবেন না। আদা বা লেবুর চা খেতে পারেন। আদা, মৌরি ও লবঙ্গ চিবোতে পারেন। * চলন্ত অবস্থায় বই পড়া, মোবাইলে গেম খেলা বা নেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এর ফলে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। * মনকে শান্ত রাখুন, ভ্রমণের সময় ভুলে যান আপনি মোশন সিকনেসের বিরক্তিকর সমস্যায় আক্রান্ত। মনকে প্রফুল্ল রাখতে গান শুনতে পারেন। সমস্যা বেশি হলে বমি নিরোধক ট্যাবলেট যেমন Stemetil 5mg অথবা Maclixine, প্রভৃতি ভ্রমণের আগের রাতে ১টি এবং যাত্রার ৩০ মিনিট আগে ১টি সেবন করতে পারেন। অথবা ভ্রমণের 40 মিনিট আগে Joytrip ট্যাবলেট চুষে খেলেও ভ্রমণে বমি থেকে মুক্তি মিলতে পারে।  একজন এমবিবিএস ডাক্তারের পরামর্শ ফুল কোর্স ঔষধ সেবন করলেও এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
3146 views

2 Answers

 বাস বা ট্রেন ধরণের বাহনে উঠলে বমিভাব দূর করার খুবই সাধারণ কিন্তু কার্যকরী উপায়গুলো…


১) বাহনে উঠার আগে কি খাওয়া উচিত এবং উচিত নয় সেদিকে নজর দিন। অতিরিক্ত সফট ড্রিংকস, ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার একেবারেই খাবেন না। যারা এই সমস্যায় ভোগেন তারা প্রয়োজনে কিছু না খেয়েই বাহনে উঠুন। অনেক দূরের পথ হলে হালকা শুকনো কিছু খেয়ে নিন।


২) অতিরিক্ত ঘ্রাণ বা সুগন্ধযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। বাহন চলাকালীন সময়ে কিছু খেতে চাইলে শুকনো চিপস ধরণের খাবার অল্প পরিমাণে খাবেন। পানি পান করবেন।


৩) বাহন যেদিক মুখ করে সামনে এগুচ্ছে তার উলটো দিকে কখনোই বসবেন না। এতে উলটো মোশনের কারণে বমিভাব প্রবল হয়। বাহন যেদিকে এগুচ্ছেন সেদিক মুখ করে বসুন।


৪) বাসে বসার ক্ষেত্রে পেছনের দিকের সিটে বসার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। পেছনের দিকে ঝাঁকুনি বেশী লাগে যা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


৫) যতোটা সম্ভব চলার পথের সমতলে নজর রাখুন। বাইরের দৃশ্য দেখায় মনোযোগ দিন। নিচের দিকে বা উপরের দিকে তাকিয়ে বসে থাকলেও বমিভাব ও অস্বস্তি হয়।


৬) যাদের মোশন সিকনেস রয়েছে তারা বাহনে উঠে চলার সময় কোনো বই পড়া বা মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপে কিছু দেখার চেষ্টা করবেন না। এতে আরও অস্বস্তি হতে থাকবে।


৭) বদ্ধ স্থানে আরও বেশী সমস্যা হয়। তাই বাস বা ট্রেনে উঠলে জানালার পাশে বসে তাজা বাতাস গ্রহন করতে পারলে এই বমিভাব আপনা থেকেই কেটে যায়। বিমানের জন্য বা বড় ফিক্সড জানালার এসি বাসের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।


৮) চলার পথে অন্যান্য যাত্রীদের কাউকে অসুস্থ হয়ে বমি করতে দেখলে অবস্থা আরও বেশী খারাপ হয়ে যায়, তাই যাত্রীদের দিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে বাইরের দিকে মনোযোগ দিন অথবা চোখ বন্ধ করে গান শুনতে থাকুন।


৯) ঘুমিয়ে পড়া হচ্ছে সবচাইতে বুদ্ধিমানের কাজ। ঘুমিয়ে পড়তে পারেন এই অস্বস্তিকর অনুভূতি থেকে বাঁচতে। ভালো কাজে দেবে।


১০) বমিভাব দূর করার জন্য বাহনে উঠার আগেই এই জাতীয় ঔষধ খেয়ে নিতে পারেন। যদি আপনার খুব অল্প দূরত্বের জন্য এবং ঘন ঘন এই সমস্যা হতে থাকে তাহলে সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খাবেন।  

3146 views

আমার দাদি বাড়ি ঘুরে আসলাম।গ্রামের নাম হলো রণশিয়া,পীরগঞ্জ।

3146 views

Related Questions