3 Answers
বাংলাদেশের হাট বাজারে পাওয়া যায় হরেক রকম ফলমূল। এনজাইম, মিনারেল, ভিটামিন, প্লান্ট ফাইটোকেমিকেলে ভরপুর ফল শরীরকে ভাল রাখতে সাহায্য করে। আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি আমাদের চারপাশে পাওয়া যায় এমন কিছু ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সুষম খাবার কি ?
যে খাদ্যে ভিটামিন, শর্করা, আমিষ, চর্বি, লবণ ও পানি এই ছয়টি উপাদান পরিমাণমতো ও সঠিক অনুপাতে থাকে তাকে আমরা সুষম খাবার বলি। আমরা জানি সুষম খাদ্যে ৬টি উপাদান থাকে ।
(১) আমিষ বা প্রোটিনঃ
প্রোটিন, শ্বেতসার আর স্নেহ পদার্থ আমাদের শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয় এবং এরা আমাদের শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে।
বাজারে ওষুধ আকারে বিভিন্ন খনিজ লবণ সমৃদ্ধ ও ভিটামিন ওষুধ কিনতে পাওয়া যায়। তবে আমাদের দেশীয় বিভিন্ন ফল ও শাকসবজি গ্রহণের মাধ্যমে এসব ভিটামিন ও খনিজ লবণ অতি সহজে, সুলভ মূল্যে গ্রহণ করাই বাঞ্ছনীয়। কারণ শাকসবজি ও ফলমূল সরাসরি গ্রহণ করলে শরীরের পুষ্টি ও উপকারিতা বেশি পাওয়া যায়।
(২) শর্করা বা শ্বেতসারঃ
শ্বেতসার বা শর্করা জাতীয় খাবার গুলো হচ্ছে চাল, আটা, ময়দা,আলু, গুড়, চিনি ইত্যাদি ।
(৩) স্নেহ বা তেলজাতীয় খাদ্য:
ঘি, মাখন, তেল, চর্বি ইত্যাদি চর্বি বা স্নেহজাতীয় খাবার ।
(৪) ভিটামিন:
আমাদের শরীরের স্বাভাবিক সুস্থতা রক্ষায় প্রয়োজন ভিটামিন। এই ভিটামিন আবার এ, বি, সি, ডি, কে এবং ই ইত্যাদি নামে পরিচিত। আর এসব ভিটামিন আমরা সহজেই সারাসরি গ্রহণ করতে পারি বিভিন্ন ফলমূল, শাকসবজি ও বিভিন্ন সুগন্ধি মসলাজাতীয় দ্রব্যের মাধ্যমে। দেশী ফলে এসব ভিটামিন প্রচুর রয়েছে। সাধারণ দেশীয় ফল, যেমন- কলা, পেঁপে, পেয়ারা, বেল, আম, জাম, কাঁঠাল প্রভৃতি বিটামিন সমৃদ্ধ ফল।
(৫) খনিজ লবণ:
ক্যালসিয়াম সর্বাধিক পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ লবণ। ক্যালসিয়াম আমাদের হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত ও শক্তিশালী করে, ক্ষয়রোধ করে এবং আর্থ্রারাইটিস, বাতজাতীয় রোগের সাথে লড়াই করে। গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দূর করার জন্য আয়রন আর একলামশিয়া বা খিচুনি প্রতিরোধের জন্য ক্যালসিয়ামের অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়াও আয়োডিন গলগণ্ড, দুর্বলতা, স্তন ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। কডলিভার অয়েল, বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, আয়োডিন মিশ্রিত খাবার লবণ হতে খুব সহজেই আয়োডিন পাওয়া যায়। কডলিভার অয়েলে আয়োডিন ছাড়াও আছে একটি মূল্যবান উপাদান ভিটামিন ‘এ’ যা অন্ধত্ব ও রাতকানা প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া আরো আছে ক্যালসিয়াম, যা শিশুদের হাড় ও দাঁত মজবুত করে।
(৬) পানি:
সব খাদ্যে কমবেশি পানি থাকে। খাদ্য গ্রহণ, পরিপাক ও শোষণ করতে পানির প্রয়োজন। পানি রক্ত তরল রাখে এবং মলমূত্রের সাথে দূষিত পদার্থ দেহ থেকে বের করে দেয়। মানুষের দেহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পানি। পানির অভাবে হজমে সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।
সংগ্রহ http://www.healthbarta.com/2014/10/09/1378/
যে খাদ্যে খাদ্যের ৬ টি উপাদান উপস্থিত তাই সুষম খাদ্য।আমিষ,শর্করা,স্নেহ,ভিটামিন,খনিজ এবং পানি আমিষ/মাছ,মাংস,ডিম শর্করা/ভাত,রুটি,আলু স্নেহ/তেল,চর্বি ভিটামিন/সবুজ শাক সবজি কচশাক খনিজ/কলিজ,ডিমের কুসুম এবং পানি
ভাত, রুটি, চিনি, গুড়, সুজি, আলু, হালুয়া, পায়েস, মৌসুমি ফল, তেল, ঘি, ডিম, মাখন, বাদাম, দুধ ও দুধের তৈরি খাবার, মাছ, মাংস, মটর, শিম, রঙ্গিন ফলমুল।