মাথার খুশকি দূর করার উপায়?
উআমার মাথায় সাদা সাদা খুশকি হয়েছে। যা আমি অনেক চেষ্টা করেও দূর করতে পারি নাই। আমি কিভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি?
6 Answers
খুসকি দুর করার ঘরোয়া উপায়ঃ
লেবু
দুই টেবিল-চামচ লেবুর রস মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করতে হবে। মিনিট খানেক অপেক্ষার পর অল্প পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে। খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত এইভাবে চুলে লেবু ব্যবহার করা যাবে।
আপেল সাইডার ভিনেগার
কুসুম গরম পানির সঙ্গে খানিকটা আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নিতে হবে। পুরো মিশ্রনের পরিমাণ নির্ভর করকে চুলের ঘনত্ব এবং দৈর্ঘ্যের উপর। পুরো চুল এই মিশ্রণে ভিজিয়ে কিছুক্ষণ আলতো হাতে মাথার ত্বকে ঘষে নিতে হবে। এরপর চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে গোসলের আট থেকে দশ ঘণ্টা আগে যেন চুলে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করা হয়।
তেল
মাথার ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে চুলের গোড়ায় খুব ভালোভাবে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করতে হবে। এতে চুলের গোড়ায় জমে থাকা খুশকি আলগা হয়ে আসবে।
অন্যদিকে চুলে নিয়মিত নারিকেল তেল ব্যবহার করলে ফাঙ্গাসের কারণে খুশকির প্রকোপ কমাতে সাহায্য করবে। তাছাড়া চুলে গোড়ায় ময়েশ্চারাইজ করে খুশকি এবং চুলকানি থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করবে নারিকেল তেল। মাথার ত্বকে তেল ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট পরে ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।
খুশকি দূর করার কয়েকটি উপায় ১।পুরানো তেতুল পানিতে গুলে নিন।গোলানো তেতুল চুলের গোড়ায় ভালো ভাবে লাগান।১০ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ২।খুশকি দূর করার জন্য মেথি ব্যবহার করতে পারেন।মেথি চুলের জন্য খুবই উপকারী।নারকেল তেল গরম করে এতে মেথির গুড়া মেশান।মিশ্রণটি সম্পূর্ণ চুলে লাগান।১ ঘন্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।সপ্তাহে দুই বার। ৩।মেথি রাতে ভিজিয়ে রাখুন।তারপর এটি থেতো করে চুলের গোড়ায় লাগান।৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।সপ্তাহে দুই তিন বার। এগুলো মানলেই আশা করি খুশকি আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।
পেঁয়াজের রস বা ওডিসি সেমপু ব্যবহার করতে পারেন। এগুলা ব্যবহার আপনার মাথা থেকে খুশকি দূর হবে।
খুশকির প্রতিকারের কিছু উপায় তুলে ধরা হলো:
জলপাই তেল
খুশকির সমস্যা দূর করতে জলপাই তেল বা অলিভ অয়েলের ব্যবহার নানা দেশে খুবই জনপ্রিয়। নিয়মিত জলপাই তেল ব্যবহারে খুশকি কমে। কারণ জলপাই তেল প্রাকৃতিকভাবেই ভালো ময়েশ্চারাইজার এবং ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে বা ত্বকের আর্দ্রতা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে।
কর্পূর ও নারকেল তেল
নারকেল তেল ও কর্পূরের তেল নানা ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ। আধা কাপ নারকেল তেলের মধ্যে এক চা-চামচ কর্পূরের তেল নিয়ে একটা বোতল বা পাত্রে রাখুন। খেয়াল রাখতে হবে যাতে বোতলের মুখ ভালো করে লাগানো থাকে বা পাত্রটির ঢাকনা ঠিকঠাক আটকানো থাকে, যাতে ভেতরে বাতাস না ঢোকে। শুষ্ক স্থানে এভাবে রাখা পাত্র থেকে কিছুটা তেল নিয়ে প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাথায় দিন। মিনিট দশেক ধরে ঘষে ঘষে চুলের গোড়ায় মাখুন। সকালে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে টানা দুই সপ্তাহ ব্যবহার করে উপকার পেলে ধীরে ধীরে এটা একদিন পর পর মাখুন বা আরও কমিয়ে দিন।
বেকিং সোডা
হালকা পানিতে মাথা ভিজিয়ে নিয়ে খানিকটা বেকিং সোডা পুরো মাথায় মেখে নিন। ভালো করে ঘষে ঘষে শ্যাম্পু না করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা মাথার খুলিতে থাকা ছত্রাক দমন করে প্রথমদিকে ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলতে পারে। কিন্তু অল্পদিনেই ত্বকে স্বাভাবিক তৈলাক্ত অবস্থা ফিরে আসবে। কিন্তু এ সময়ে আপনি খুশকি থেকে মুক্তি পাবেন।
লেবুর রস
দুই টেবিল-চামচ লেবুর রস নিয়ে পুরো মাথায় চুলের গোড়ায় ঘষে ঘষে মাখুন। পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এবার এক টেবিল-চামচ লেবুর রস নিয়ে এক কাপ পানিতে মেশান। লেবুর রস মেশানো পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন। খুশকি না কমা পর্যন্ত প্রতিদিন এভাবে লেবু চিকিৎসা চালিয়ে দেখতে পারেন।
ঘৃতকুমারী
খুশকি ভরা মাথায় ঘৃতকুমারীর রস মেখে নিলে দারুণ আরাম পাবেন। খুশকির জ্বালায় দিনরাত চুলকানো থেকে খানিকটা ছুটিও দেবে ঘৃতকুমারীর রসের শীতল আরাম। এই উদ্ভিদ রসের সমৃদ্ধ উপাদানগুলো আপনার ত্বকের অনেক সমস্যাই দূর করবে।
মেথি-তেল
সাধারণ নারকেল তেলের সঙ্গে মেথি মিশিয়ে কয়েকদিন বোতলে রেখে দিন। নিয়মিত এই মেথি মেশানো তেল মাখুন মাথায়। রাতে মেখে সকালে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহারে মাথার চুল ও ত্বক দুইই ভালো থাকবে। খুশকি থেকেও রেহাই পাবেন।
লবণ
প্রতিদিনই কাজে লাগা লবণের অনেক ব্যবহারই হয়তো আমরা জানি না। মাথায় হালকা করে লবণ ব্যবহার করে দেখুন। প্রাকৃতিক পরিষ্কারক হিসেবে লবণ খুশকি দূর করতে দারুণ কাজ করবে। হালকা করে লবণ ব্যবহার করে তারপর শ্যাম্পু করলে শ্যাম্পুর পুরো সুবিধা আপনি কাজে লাগাতে পারবেন। এ ছাড়া চুলকাতে থাকা খুশকি ভরা মাথায় লবণ-চিকিৎসা দারুণ প্রশান্তিও দেবে আপনাকে।
শ্যাম্পু:
১।হেড এন্ড শোল্ডার অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু
অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু হিসেবে হেড এন্ড শোল্ডার বাজারে ও গ্রাহকদের পছন্দের তালিকায় যে বেশ শক্তস্থান দখল করে নিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। চুলের ভিন্ন ভিন্ন বিষয় ও সমস্যার জন্য হেড এন্ড শোল্ডারের কয়েক রকমের শ্যাম্পু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সব কয়টিই খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
তবে হেড এন্ড শোল্ডার অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু, লেমন ফ্রেশ এই সবগুলো থেকে সবচাইতে বেশি সুনাম কুড়িয়েছে! খুশকি দূর করতে এর কার্যকারিতা ও শ্যাম্পু করার পর চুল ও স্ক্যাল্পে ফ্রেশ ভাব নিয়ে আসে এই শ্যাম্পুটি! নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই শ্যাম্পুটি বেশ ভালো ও চুলের জন্য ক্ষতিকরও না। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু চুল রুক্ষ করে ফেলে যা হেড এন্ড শোল্ডারের এই শ্যাম্পুটি করে না।
২। বায়োটিক বোটানিক্যালস্ বায়ো মার্গোসা অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু এন্ড কন্ডিশনার
এই শ্যাম্পুটি খুশকি তো দূর করেই, সাথে চুলকে করে ঝলমলে ও উজ্জ্বল। বায়োটিক মূলত এর আয়ুর্বেদিক ফর্মুলার জন্য বেশি পরিচিত। এই শ্যাম্পুটি তারা এমনভাবে তৈরি করেছে যে, ব্যবহারের পর মনে হবে চুলে কন্ডিশনার দেয়া হয়েছে। আর এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই বললেই চলে। কারণ এতে নামমাত্র পরিমাণে কেমিক্যাল রয়েছে। আপনি যদি এমন শ্যাম্পুর খোঁজে থাকেন, যা খুশকি দূর করবে ও চুলের জন্য তেমন ক্ষতিকরও হবে না , তাহলে এই শ্যাম্পুটি নির্দ্বিধায় বিবেচনায় আনতে পারেন।
মাথায় খুশকির সমস্যা এড়াতে কার্যকর কিছু টিপস --
১) মাথায় বেশি তেল ব্যবহার বন্ধ করুন।
২) শ্যাম্পু বদলে ফেলুন। খুশকিনাশক শ্যাম্পু যেমন- জেডিপিটি অর্থাৎ জিংক পাইরিথিওন যুক্ত শ্যাম্পু সপ্তাহে একদিন করে একমাস ব্যবহার করুন। উপকার না হলে ১ বা ২ ভাগ কিটোকোনাজলযুক্ত শ্যাম্পু আগের নিয়মে ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩) স্ক্যাল্প শুষ্ক প্রকৃতির হলে শ্যাম্পু করার আগের রাতে অথবা শ্যাম্পু করার দুই ঘন্টা আগে অলিভ ওয়েল লাগাতে পারেন।
৪) চুল সবসময় পরিষ্কার রাখুন। যারা সবসময় ঘরে থাকেন তারা একদিন পরপর শ্যাম্পু করতে পারেন। আর যারা বাইরে যান তাদের প্রতিদিন শ্যাম্পু করা উচিত।
৫) নারকেল তেল গরম করে তাতে লেবুর রস মিশিয়ে তুলো দিয়ে চেপে চেপে স্ক্যাল্পে লাগান। ঘন্টাখানেক পর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথায় জড়িয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এভাবে পরপর তিনবার করুন। তারপর তোয়ালে বরফ মেশানো ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে একই পদ্ধতিতে ৫ মিনিট রাখুন। এবার তোয়ালে খুলে চুলের গোড়ায় হেয়ার প্যাক লাগিয়ে ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন।
৬) মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে বেটে তাঁর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে চুলে লাগান। ২ ঘন্টা পর শ্যাম্পু করুন।
৭) চায়ের লিকার ঘন করে তাঁর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে চুলে আধা ঘন্টা লাগিয়ে রাখুন। তারপর ভালোভাবে শ্যাম্পু করুন।
৮) ১ কাপ ঘন টক দইয়ের সঙ্গে ১ কাপ পানি ভালোভাবে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। পরের দিন শ্যাম্পু করুন।
৯) একমুঠো নিমপাতা ৪ কাপ পানিতে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে ছেঁকে নিন। এই পানি দিয়ে মাথা ও চুল ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করুন এই পানি। এতে আপনার খুশকি অচিরেই দূর হবে।
১০) আমলকি পাউডার ও পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে স্ক্যাল্পে লাগান। ১ ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে ফেলুন।
১১) ২-৩ টি আমলকি পেস্ট করে নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে স্কাল্পে লাগিয়ে নিন। ১ ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার লাগালেই খুশকি দূর হয়ে যাবে।
১২) খুশকি ভরা মাথায় অ্যালোভেরা রস মেখে নিলে দারুণ আরাম পাবেন। খুশকির জ্বালায় দিনরাত চুলকানো থেকে খানিকটা ছুটিও দেবে অ্যালোভেরার রসের শীতল ছোঁয়া।
১৩) খুশকি হলে চিরুনি, ব্রাশ, তোয়ালে ও বালিশের কভার প্রতিদিন পরিষ্কার করুন। এসব জিনিস একে অন্যেরটা ব্যবহার করা উচিত নয়। চিকন দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন।
১৪) চুলে কালার করা হলে লেবুর রস ও টক দই ব্যবহার করবেন না। লেবুর রস ও টক দই সারারাত মাথায় লাগিয়ে রাখলে চুল ভালো থাকে এ কথা ভুল। এতে চুলের বেশি ক্ষতি হয়।
১৫) যারা বাসায় চুলের যত্ন নিতে পারেন না তারা ভালো কোন স্যালুনে গিয়ে মাসে অন্তত দু’বার হেয়ার ট্রিটমেন্ট বা হেয়ার স্পা কিংবা প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন। এতে চুল ঝরঝরে ও খুশকি মুক্ত থাকবে।
১৬) চুলের গোড়ায় মেহেদি জমে খুশকি হয়, তাই মেহেদির রস ব্যবহার করাই উত্তম।