মাছ চাষ সম্পকে জানতে চাই?
2 Answers
সাধারনত মাছকে ভাল মানের ফিস ফিড খাওয়ালে মাছ দ্রুত বড় হয় । এছাড়া মাঝে মাঝে মাছের সাস্থ্য পরিক্ষা করানো উচিৎ এ জন্যে উপজেলা মৎস সম্পদ অধিদপ্তরে যোগাযোগ করুন ।
জেনে নিন মাছ চাষ বিস্তারিতঃ
মাছ চাষ কনটেন্টটিতে মাছ চাষ কীভাবে করা যায়, চাষ করার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে কিনা, এক বিঘা জমির উৎপাদন খরচ, এর পুষ্টিমান এবং সর্বোপরি এর মাধ্যমে কীভাবে বাড়তি আয় করা সম্ভব, সে বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
মাছ হচ্ছে প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস। কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন এবং পুষ্টি সরবরাহে মৎস্য সম্পদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। মাছ চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে, যেমন-একই পুকুরে নানা জাতের মাছ চাষ করা যায়, খাল ও ডোবায় মাছ চাষ করা যায়, আবার চৌবাচ্চায়ও মাছের চাষ করা যায়। সাধারণত মাছের জন্য পুকুরে খাবার উৎপাদনই হচ্ছে মাছ চাষ। এটি কৃষির মতই একটি চাষাবাদ পদ্ধতি। আবার কোন নির্দিষ্ট জলাশয়ে পরিকল্পিত উপায়ে স্বল্প পুঁজি, অল্প সময় ও লাগসই প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছের উৎপাদনকে মাছ চাষ বলে। মূলত বিভিন্ন নিয়ম মেনে প্রাকৃতিক উৎপাদনের চেয়ে অধিক মাছ উৎপাদনকেই মাছ চাষ বলা হয়।
চাষ উপযোগী মাছের গুণাগুণ ও উপকারিতা
আমাদের দেশের স্বাদু পানিতে ২৬০টিরও বেশি প্রজাতির মাছ আছে। এছাড়া খাড়ি অঞ্চলে ও লোনা পানিতে কয়েকশত প্রজাতির মাছ আছে। তবে চাষযোগ্য মাছগুলো হলো-রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস, সিলভারকার্প, মিররকার্প, গ্রাসকার্প, কমনকার্প, বিগহেড, রাজপুঁটি, নাইলোটিকা, বিদেশী মাগুর, থাই পাঙ্গাস প্রভৃতি। এসব মাছের কিছু গুণাগুণ আছে-
১. এসব মাছ খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
২. খাদ্য ও জায়গার জন্য একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না।
৩. পুকুরে বেশি সংখ্যায় চাষ করা যায়।
৪. পানির সব স্তর থেকে খাবার গ্রহণ করে, তাই পুকুরের পরিবেশ ভালো থাকে।
৫. এসব মাছ খেতে খুব সুস্বাদু।
৬. বাজারে এসব মাছের প্রচুর চাহিদা আছে।
৭. সহজে রোগাক্রান্ত হয় না।
বাজার সম্ভাবনা
আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় মাছ হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মাছের অনেক চাহিদা থাকার কারণে মাছ চাষ করে ভালো আয় করা সম্ভব। স্থানীয় হাট, বাজার ছাড়াও দূরবর্তী বাজারে মাছ বিক্রি করে লাভ করা সম্ভব। তাছাড়া বিদেশে মাছ রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিয়ে থাকে।
উৎপাদন কৌশল
পুকুরে মাছ চাষ
নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে পুকুরে মাছ চাষ করা যায় :
১. সনাতন পদ্ধতির মাছ চাষ : এ পদ্ধতিতে পুকুরের কোন ব্যবস্থাপনা ছাড়াই মাটি ও পানির উর্বরতায় পানিতে যে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয় মাছ তাই খেয়ে জীবন ধারণ করে। এক্ষেত্রে আলাদা কোন পরিচর্যা নিতে হয় না।
২. আধা-নিবিড় পদ্ধতির মাছ চাষ : এ পদ্ধতিতে নিয়মমতো পুকুর প্রস্ত্তত করে আংশিক সার ও খাদ্য সরবরাহ করে মাছের খাদ্য উৎপন্ন করতে হয়। পুকুরের বিভিন্ন স্তরে উৎপাদিত খাদ্যের সঠিক ব্যবহারের দিকে লক্ষ্য রেখে মাছের পোনা ছাড়তে হয়।
৩. নিবিড় পদ্ধতির মাছ চাষ : অল্প জায়গায়, অল্প সময়ে বেশি উৎপাদনের জন্য সার ব্যবাহার করে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে হয়।
৪. কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ : পুকুরের বিভিন্ন স্তরে উৎপন্ন খাবার সম্পূর্ণ ব্যবহার করার জন্য রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস, বিগহেড, সিলভারকার্প, কমনকার্প প্রভৃতি নানা প্রজাতির মাছ একত্রে চাষ করা যায়।
মাছ চাষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
পুকুর নির্বাচন
১. পুকুরটি খোলামেলা জায়গায় এবং বাড়ির আশেপাশে হতে হবে।
২. মাটির গুণাগুণ পুকুরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দো-আঁশ, এঁটেল দো-আঁশ ও এঁটেল মাটি পুকুরের জন্য ভালো।
৩. পুকুরের আয়তন কমপক্ষে ১০ শতাংশ হতে হবে। ৩০ শতাংশ থেকে ১ একর আকারের পুকুর মাছ চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
৪. পুকুরের গভীরতা ২-৩ মিটার রাখতে হবে।
৫. পুকুর পাড়ে বড় গাছ বা ঝোপ-ঝাড় থাকা যাবে না।
পুকুর প্রস্তুত
পোনা মাছ ছাড়ার আগে পুকুর তৈরি করে নিতে হবে। সাধারণত পুরনো পুকুরই তৈরি করে নেওয়া হয়। পুকুর প্রস্ত্ততির কাজটি পর্যায়ক্রমে নিম্নরূপে করতে হবে :
১ম ধাপ
জলজ আগাছা যেমন-কচুরিপানা, কলমি লতা, হেলেঞ্চা ইত্যাদি শেকড়সহ তুলে ফেলতে হবে।
২য় ধাপ
শোল, গজার, বোয়াল, টাকি ইত্যাদি রাক্ষুসে মাছ এবং অবাঞ্ছিত মাছ যেমন-মলা, ঢেলা, চান্দা, পুঁটি ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে ফেলতে হবে।
৩য় ধাপ
এরপর প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। পুকুরে পানি থাকলে ড্রামে বা বালতিতে গুলে ঠান্ডা করে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।
৪র্থ ধাপ
মাটি ও পানির গুণাগুণ বিবেচনায় রেখে চুন দেওয়ার এক সপ্তাহ পর জৈব সার দিতে হবে।
৫ম ধাপ
পুকুর শুকনা হলে পুকুরে সার, চুন, গোবর সব ছিটিয়ে দিয়ে লাঙ্গল দিয়ে চাষ করে পানি ঢুকাতে হবে।
৬ষ্ঠ ধাপ
পোনা মজুদের পূর্বে পুকুরে ক্ষতিকর পোকামাকড় থাকলে তা মেরে ফেলতে হবে।
৭ম ধাপ
পুকুরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মালে পোনা মজুদ করতে হবে। মৃত্যুর হার যেন কম থাকে সেজন্য পোনার আকার ৮-১২ সে.মি. হতে হবে।
৮ম ধাপ
এর পর নিয়মমত পুকুরে পোনা ছাড়তে হবে। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে, যেমন
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy