ফোন না বাজলেও অনেক সময় মনে হয় আমার ফোনটির রিং বাজছে বা ভাইব্রেশন হচ্ছে মাঝে মাঝে কেন এমনটি মনে হয়?
3 Answers
এটা কোন সমস্যা নয়। এটা হয় আপনার মনের আশঙ্কার কারণে। ধরুন, আপনি জিন-ভূত খুব ভয় পান। তাই আপনি যখন রাস্তায় হাঁটেন তখন মনে হয় যে, আমার পেছনে পেছনে কে যেন আসছে। এ ব্যাপারটাও এরকম। আপনি হয়ত বেশি ধারণা করেন, এই বুঝি কল আসল। তাই এমনটা হয়।
ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনি একা নন- আপনার মতো আরো অনেকই আছেন যাদের এই সমস্যা দেখা দিয়েছে অ্যামেরিকায় জর্জিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক এবং দার্শনিক ড. রবার্ট রোজেনবার্গার বলছেন, হ্যালুসিনেশন বা বিভ্রমের কারণে এরকমটা হয়ে থাকে। আর উদ্বেগ উৎকণ্ঠা থেকেই এরকমটা হয় যা খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা। তিনি বলেন, প্রযুক্তি যেমন এই বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে, তেমনি পরিবর্তন ঘটাচ্ছে মানুষের মস্তিষ্কেও। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের ওপর প্রযুক্তির কি ধরনের প্রভাব পড়ছে – তার ওপর একটি গবেষণা করেছেন রবার্ট রোজেনবার্গার। তিনি বলছেন, মানুষের মধ্যে এমন একটা মনোভাবের তৈরি হয়েছে যে এখনই ইমেইল কিম্বা এসএমএসের জবাব দিতে মরিয়া হয়ে থাকে আর সেকারণেই মনে হয় যে ফোনটা বেজে উঠেছে। তিনি বলেন, “এটাকে বলা হয় ফ্যান্টম ভাইব্রেশন। আপনার হয়তো মনে হলো যে প্যান্টের পকেটে ফোনটা কেঁপে ওঠেছে। তখন আপনি পকেট থেকে ফোনটা বের করে দেখলেন যে আপনাকে আসলেই কেউ কল করেছে কীনা বা এসএমএস পাঠিয়েছে কীনা। দেখলেন যে না কেউ ফোন করেনি। কোনো এসএমএসও আসেনি। আর কিছুই না, এটা হচ্ছে হ্যালুসিনেশন বা বিভ্রম।” বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো এরকম সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই বলছেন, ফোন আসেনি কিন্তু তাদের মনে হয়েছে যে ফোনটা কেঁপে উঠেছে।” কি কারণে এরকমটা হচ্ছে এই প্রশ্নের জবাবে দার্শনিক রবার্ট রোজেনবার্গার বলেছেন, এই কারণগুলোকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। “কেউ কেউ বলছেন, প্রযুক্তি বিশেষ করে টেলিফোনের মতো প্রযুক্তি আমাদের মস্তিষ্ককেই বদলে দিচ্ছে। সেখানে এমন একটা বিক্রিয়া হচ্ছে যে ফোন না আসলেও তারা মনে করে যে হয়তো ফোন এসেছিলো। আরেকটা থিউরি হচ্ছে – আধুনিক কালে আমরা এতো বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি যে আমাদের এরকম মনে হয়।” বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে টেলিফোন, ইমেইল, টেক্সট মেসেজ – এধরনের প্রযুক্তি কারণে। মানুষের ধারণা সেখানে সবসময়ই কিছু না কিছু ঘটছে। সেই ধারণা থেকে আমরা মুখিয়ে থাকি যে কখন সেসবের উত্তর দিবো। সেই মন-মানসিকতার প্রভাব পড়েছে আমাদের শরীরেও। সেকারণে নিজেদের শরীরেও আমরা এই কম্পন অনুভব করছি।
আমারও হয়েছিল। রিংটোন বদলে ফেলুন। যখন মনে হবে রিং হচ্ছে, তখন মনোযোগ দিবেন আসেলেই রিং হচ্ছে কিনা। কিছু দিন পর ঠিক হয়ে যাবে।