1 Answers
চোখের সাধারণ সমস্যা চোখের সাধারণ সমস্যা কনটেন্টটিতে চোখে কোনো কিছু পড়া, সদ্যজাত শিশুর চোখের প্রদাহ, চোখ লাল হওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, ট্যারা চোখ, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, সেবাদান কেন্দ্র সন্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। চোখ মানুষের একটি অমূল্য সম্পদ এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ। চোখের অনেক ছোট এবং সাধারণ অসুখ থেকে বড় জটিলতার সৃষ্টি হয় এমন কি অন্ধত্বেরও সৃষ্টি হতে পারে। যদি প্রাথমিক অবস্থায় চোখের এই সব সাধারণ রোগ বা সমস্যাগুলোর সঠিক চিকিৎসা বা যত্ন নেওয়া যায় তাহলে অন্ধত্বের হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। চোখে কোন কিছু পড়া আমাদের খালি চোখে অহরহ বাহিরের কিছু না কিছু পড়ে থাকে যেমন- বালি ধূলিকণা, কীটপতঙ্গ, বাঁশ, ইট, কাঠের টুকরা ইত্যাদি। এগুলি আমাদের চোখে দারুন ভাবে পীড়া দেয়। যদি তাড়াতাড়ি বের না করা যায় তাহলে কর্ণিয়ায় ঘসা লেগে তা মারাত্মক ক্ষতি করে। এমনকি চোখ অন্ধও হয়ে যেতে পারে। লক্ষণ চোখ খচ খচ করে পানি পড়ে। রোগী তাকাতে পারে না, চোখ বন্ধ রাখলে আরাম পায়। চোখ লাল হয় এবং চোখের ভিতরে কিছু পাওয়া যায়। চিকিৎসা চোখে ঘষা দেওয়া যাবে না। সহজ ভাবে কিছু পড়ে থাকলে তুলা দিয়ে আলতো ভাবে তুলে নিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের জীবাণুনাশক মলম ও প্যাড দিয়ে ব্যান্ডেজ দিয়ে একদিন অপেক্ষা করতে হবে। কিছু ফুটে বা লেগে থাকলে চক্ষু হাসপাতালে রেফার করতে হবে। সদ্যজাত শিশুর চোখের প্রদাহ সদ্য প্রসুত শিশুর জন্মের ২১ দিনের মধ্যে চোখের (কনজাংটিভার) সংক্রমন ও প্রদাহ হলে তাকে অপথলমিয়া নিওনেটারাম বলে। ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দিয়ে সংক্রমন হতে পারে। এসব সংক্রমন সাধারণত মায়ের প্রসব পথ থেকে আসে। লক্ষণ চোখের পাতা ফুলে যায় প্রচুর ময়লা/ পুঁজ দিয়ে দুই পাতা লেগে থাকে মা বলেন জন্মের পর থেকেই পুঁজ পড়ছে শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে করণীয় সাধারণত চেখের কোনায় হালকা ভাবে মালিশ করলে এটা ভাল হয়ে যায়। ঘন্টায় ঘন্টায় চোখ পরিষ্কার করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতাল বা চক্ষু চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে। জটিলতা কর্ণিয়ায় ঘা, কর্ণিয়া ছিদ্র হয়ে চোখ অন্ধ হতে পারে। চোখ লাল হওয়া কনজাংটিভার ভিতরে অবস্থিত ছোট ছোট রক্ত নালী থেকে রক্ত বেরিয়ে আসলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। দুটি কারনে চোখ লাল হয় ১.কনজাংটিভায় রক্তক্ষরণ ২.চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ ১.কনজাংটিভায় রক্তক্ষরণ সমস্যা বা রোগের কারণ চোখে আঘাত জোরে কাশি (হুপিং কাশি) অতিরিক্ত ভারী জিনিস তোলা অতিরিক্ত বমি রক্তের রোগ ডায়াবেটিস উচ্চ রক্তচাপ কনজাংটিভার প্রদাহ ঔষধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি কারণে রক্ত ক্ষরণ হয়ে চোখ লাল হয়। রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ চোখ লাল হয়ে যায় সাধারণত কোন ব্যাথা থাকে না (আঘাত ছাড়া) দৃষ্টির তেমন কোন অসুবিধা হয় না ২/১ সপ্তাহের মধ্যে এই রক্ত আপনা আপনিই দূর হয়ে যায়। চিকিৎসা যেহেতু দৃষ্টির কোন অসুবিধ হয় না তাই চোখের চিকিৎসার তেমন প্রয়োজন হয় না। ২.চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ লক্ষণ চোখ লাল হয়ে যায় আঘাত বা দুর্ঘটনার ইতিহাস থাকবে সাধারণত এক চোখে কিন্তু দুই চোখেও হতে পারে চোখে ব্যথা হবে চোখের দৃষ্টি শক্তি কমে যেতে পারে চিকিৎসা উভয় চোখে প্যাড ব্যান্ডেজ করে বিশেষজ্ঞের নিকট রেফার করতে হবে। চোখ দিয়ে পানি পড়া চোখ সব সময় ভিজিয়ে রাখার জন্য চোখের গ্রন্থি থেকে পানি তৈরী হয়। এই পানি নীচের পাতায় নাকের দিকে অবস্থিত একটি নালা দিয়ে নাকের ভিতর গিয়ে পড়ে। কোন কারণে ঐ নালী বন্ধ হয়ে গেলে পানি নাকে না গিয়ে পাতায় গড়িয়ে পড়তে থাকে। দীর্ঘদিন এই নালি বন্ধ থাকলে সেখানে জীবাণু দ্বারা সংক্রমণ হয়ে প্রদাহ হয় এবং চোখের কোনে পুজ হয়। অনেক সময় চোখ দিয়ে পুজ পড়ে। করণীয় পানি পড়া দেখলেই চক্ষু চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে। ট্যারা চোখ যখন কোন বস্তুর দিকে তাকাতে গিয়ে এক চোখ সোজা থাকে এবং অন্য চোখ বেকে যায় তখন সেই বাকা চোখকে ট্যারা চোখ বলে। যেই চোখ ট্যারা থাকে সেই চোখে রোগী কিছুই দেখে না। এক চোখ দিয়ে কোন রকমে কাজ চালিয়ে নেয়। ট্যারা চোখ বালক বালিকাকে মানুষ লক্ষ্ণী ট্যারা বলে থাকে। তাদের ধারণা ট্যারা চোখ মঙ্গলের লক্ষণ। এটি মস্ত বড় ভুল ধারণা কেননা সময় মত চিকিৎসা না করলে চোখের দৃষ্টিশক্তি একেবারেই নষ্ট হয়ে চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। লক্ষণ ১.প্রয়োজনে বস্তুর দিকে ঠিকমত চোখ ঘুরাতে পারে না বরং মাথা ও মুখ বস্তুর দিকে ঘুরিয়ে নেয় ২. একটি বস্তুকে দুইটি দেখে ৩. কান ভোঁ- ভোঁ করে অনেক সময় রোগী বমি করে চিকিৎসা জন্ম থেকে যদি ট্যারা হয় তবে ৬ মাস থেকে ১ বৎসর বয়সের মধ্যে অপারেশনে ভাল হয়। দুই থেকে ৮ বৎসর বয়সের শিশুদের চশমা দিয়ে, চোখের ব্যয়াম দিয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়। চশমা, চোখের ব্যায়াম দিয়ে ভাল ফল না হলে অপারেশন করে ভাল করা যায়। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি দীর্ঘমেয়াদী অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিক রোগের কারণে উক্ত রোগীদের রেটিনায় প্রদাহের ফলে যে জটিলতার সৃষ্টি হয় তাকে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বলে। রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ দৃষ্টি ক্রমেই ঝাপসা হবে এবং সময় মত ব্যবস্থা না নিলে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে স্থায়ীভাবে অন্ধ হয়ে যাবে। চিকিৎসা প্রতিরোধই এই রোগের প্রধান চিকিৎসা। প্রতিরোধের উপায় জনগণের মধ্যে ডায়াবেটিক রোগ এবং এর ফলে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে ডায়াবেটিক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে মেডিসিনের দ্বারা চিকিৎসা লেজার থেরাপি অপারেশন সেবাদান কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জেলা হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিশেষায়িত সরকারী/বেসরকারী হাসপাতাল সচরাচর জিজ্ঞাসা প্রশ্ন.১.চোখে কোন কিছু পড়লে কি করতে হবে? উত্তর. চোখে ঘষা দেওয়া যাবে না। সহজ ভাবে কিছু পড়ে থাকলে তুলা দিয়ে আলতো ভাবে তুলে নিতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের জীবাণুনাশক মলম ও প্যাড দিয়ে ব্যান্ডেজ দিয়ে একদিন অপেক্ষা করতে হবে। কিছু ফুটে বা লেগে থাকলে চক্ষু হাসপাতালে রেফার করতে হবে। প্রশ্ন.২.সদ্যজাত শিশুর চোখে প্রদাহের লক্ষণ গুলো কি কি? উত্তর. চোখের পাতা ফুলে যায় প্রচুর ময়লা/ পুঁজ দিয়ে দুই পাতা লেগে থাকে মা বলেন জন্মের পর থেকেই পুঁজ পড়ছে শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে প্রশ্ন.৩.সদ্যজাত শিশুর চোখে প্রদাহ হলে কি করতে হবে? উত্তর. ঘন্টায় ঘন্টায় চোখ পরিষ্কার করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতাল বা চক্ষু চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে। বেশিরভাগ শিশুর ক্ষেত্রে চোখ এর কোনায় হালকাভাবে মালিশ করলে এটা এমনিতেই সেরে যায়। তবে মালিশের সময় হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে। প্রশ্ন.৪.কি কারনে চোখ লাল হয়? উত্তর. দুটি কারনে চোখ লাল হয় ১.কনজাংটিভায় রক্তক্ষরণ ২.চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ প্রশ্ন.৫.চোখের ভিতর রক্তক্ষরণ হলে কি করতে হবে? উত্তর. উভয় চোখে প্যাড ব্যান্ডেজ করে বিশেষজ্ঞের নিকট রেফার করতে হবে। প্রশ্ন.৬.চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন? উত্তর. চোখ সব সময় ভিজিয়ে রাখার জন্য চোখের গ্রন্থি থেকে পানি তৈরী হয়। এই পানি নীচের পাতায় নাকের দিকে অবস্থিত একটি নালা দিয়ে নাকের ভিতর গিয়ে পড়ে। কোন কারণে ঐ নালী বন্ধ হয়ে গেলে পানি নাকে না গিয়ে পাতায় গড়িয়ে পড়তে থাকে। প্রশ্ন.৭.চোখ দিয়ে পানি পড়লে কি করতে হবে? উত্তর. পানি পড়া দেখলেই চক্ষু চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে। প্রশ্ন.৮.চোখ ট্যারার চিকিৎসা কি? উত্তর. জন্ম থেকে যদি ট্যারা হয় তবে ৬ মাস থেকে ১ বৎসর বয়সের মধ্যে অপারেশনে ভাল হয়। দুই থেকে ৮ বৎসর বয়সের শিশুদের চশমা দিয়ে, চোখের ব্যয়াম দিয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়। চশমা, চোখের ব্যায়াম দিয়ে ভাল ফল না হলে অপারেশন করে ভাল করা যায়। মনে রাখতে হবে চোখ ট্যারা ভাল লক্ষণ নয়, এটার অবশ্যই চিকিৎসা করাতে হবে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy