আপনাকে ধন্যবাদ।ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম।ইসলাম ই নারীকে পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা দিয়েছে।আমার স্বামী রাগের মাথায় আমাকে ১তালাক ২তালাক ৩তালাক বলে ফেলেছে।হুজুর রা বলছে ১সাথে ৩তালাক বললে ১তালাক গণ্য হয়।যেহেতু আমাকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলেছে তাই এটা হয়ে গেছে।আমার স্বামীর ভুল হয়ে গেছে।সে খুবই অনুতপ্ত।হুজুররা বলছে আল্লার কাছে তওবা করলেও এই ভুলের ক্ষমা নেই।আমরা তো আলাদা হতে চাইনা।তাছাড়া আমিতো কোন দোষ করিনি।যদি তালাক হয়, তবে কি আমার প্রতি অবিচার হচ্ছে না।আল্লাহ কি একজনের ভুলের শাস্তি অন্যজনকে দিতে বলছে।অনেক হুজুর থেকে সঠিক তথ্য পাচ্ছিনা তাই আপনাদের কাছে শরনাপন্ন হলাম।যদি কেউ সঠিক ব্যাখ্যা জেনে থাকে৭ তবে এই বোনের উপকার করুন।আমার প্রশ্ন হল একসাথে ৩তালাক না বলে রেগে গিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ১তালাক ২তালাক ৩তালাক বলে তবে তা ধর্ম অনুসারে তালাক হয়ে যাবে কী?
2917 views

1 Answers

ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক স্ত্রীর উপর তালাক আরোপিত হওয়া সম্পর্কে শরীয়তে তিনটি পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। (১) তালাকে আহ্সান। (২) তালাকে হাসান বা সুন্নত এবং (৩) তালাকে বিদ্য়ী বা বিদ্য়াত। তালাকে আহসান হলো : বিবাহিতা স্ত্রীকে এক তুহুর বা পবিত্রতাকালে (যাতে জেমা ও ওতি হয়নি) এক তালাক দিয়ে ইদ্দত পর্যন্ত রেখে দেয়াকে তালাকে আহসান বলে। তালাকে হাসান বা সুন্নত তালাক হলো : বিবাহিতা আহলিয়াকে তিন তুহুরে তিন তালাক দেয়া আর নাবালেগা, ছন্নে আয়েছা, হামেলদার বা গর্ভবতী আহলিয়াকে তিন মাসে তিন তালাক দেয়া। এটাকেও হাসান তালাক বলে। আর যে স্ত্রীর সাথে জেমা ও ওতি করা হয়নি তাকে তুহুরে অথবা অপবিত্রাবস্থায় এক তালাক দেয়াকে হাসান তালাক বলে। তালাকে বিদয়ী হলো : এক কথায় তিন তালাক দেয়াকে তালাকে বিদয়ী বলে। আর এক তুহুর বা এক অপবিত্রতার মধ্যে তিন তালাক দেয়াকে তালাকে বিদয়ী বলে। হাদিসে এসেছে ابغض الحلال الى الله الطلاق অর্থ : মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট হালালের মধ্যে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হালাল হচ্ছে তালাক দেয়া। (মিশকাত শরীফ) অতএব, ইসলামি শরীয়ত কখনো কাউকে তালাক দেয়ার জন্য উৎসাহিত করেনা। হ্যাঁ, যদি স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে কোন অবস্থাতেই একত্রে বসবাস করা সম্ভব না হয় তাহলে পরস্পর পরস্পর থেকে আলাদা বা জুদা হবে। এই জুদা হওয়াকেই তালাক বলা হয়। এই তালাক দেয়ার মধ্যে উত্তম পদ্ধতি হচ্ছে আহসান তালাক দেয়া অথবা হাসান তালাক দেয়া যা তালাকে বিদয়ী নয়। হ্যাঁ, এক সঙ্গে তিন তালাক দিলে তিন তালাকই পতিত হবে। চাই তা রাগ হয়ে দিক বা খুশি হয়ে দিক অথবা ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় দিক। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে ثلث جدهن جد هزلـهن جد النكاح والطلاق والرجعة অর্থ : তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যা গোস্বায় হোক বা হাসি ঠাট্টায় হোক সর্বাবস্থায় কার্যকরী হয়ে থাকে। বিবাহ্, তালাক ও রজয়াত।” (তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ/২৮৪) এ বিষয়ে সম্মানিত চার ইমামই একমত পোষণ করেছেন। অনেকে বলে থাকে যে, গোস্বা হয়ে তালাক দিলে তালাক হয়না। এর জাওয়াবে বলতে হয়, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে কখনোই খুশি হয়ে তালাক দেয়না। কারণ কেউ যখন বিবাহ করে তখন সে খুশি মনেই করে। আর তালাক দেয়ার নিয়তে কেউ বিয়ে করেনা। কারণ এসেছে, তালাক দেয়ার নিয়তে বিবাহ করলে তার প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার লানত বর্ষিত হয়। কাজেই কেউ যখন তার স্ত্রীকে তালাক দেয় তখন সে রাগ হয়েই তালাক দিয়ে থাকে। অর্থাৎ মনমালিন্য হওয়ার কারণেই তালাক দিয়ে থাকে। তাই এ কথা বলার অবকাশ নেই যে, গোস্বা হয়ে তালাক দিলে তালাক বর্তাবেনা ।

2917 views

Related Questions