আমি রাতে ঘুমালে বোবা ধরে। আমি শব্দ করে গোংাই। কি করবো?

আমি ছোটবেলা থেকেই এমন হয়। ঘুমালেই বোবা ধরে। জানিনা এর সঠিক ব্যখ্যা কি। একটু সমাধান চাই।
3344 views

3 Answers

বোবায় ধরাকে (Sleep Paralysis) আমাদের দেশে (ঐতিহাসিক ভাবে বহু জায়গাতেই) জিনের উপদ্রব হিসেবে চিহ্নিত করা হয় প্রায়শয়ই। এর পেছনে একটি কারণ হলো এর কিছু সিমটম থেকে এরকম মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। যেমন ঘরে কোনও কারণ ছাড়া শব্দ শুনতে পাওয়া, কালো ছায়া দেখতে পাওয়া বিছানার আশেপাশে বা এরকম বোধ হওয়া যে কিছু একটা আপনার বুকের ওপর চেপে বসেছে। যেহেতু সমস্যাটি খুব কমন সম্ভবত অনেকেরই একবার বা একাধিকবার সমস্যাটি হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে ভালো করে জেনে রাখুন। বোবায় ধরা আসলে কি? বোবায় ধরা হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যখন একজন ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়া বা ঘুম থেকে জেগে উঠার সময়ে শরীরের কোন অংগ-প্রত্যংগ নাড়াতে না পারার একটি অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যায়। অন্যভাবে, যখন কাউকে বোবায় ধরে, তখন সে তার শরীরের কোন অংগ-প্রত্যংগ নাড়াতে পারে না, অসাড়তা অনুভব করে। এটি ঘটে একজন ব্যক্তির ঘুমিয়ে পড়া বা জেগে উঠার আগমুহুর্তে। বোবায় ধরা হচ্ছে ঘুমন্ত অবস্থা এবং জাগরণের মধ্যবর্তী একটি অবস্থান। এটি ঘুমোনর মুহুর্তে অথবা ঘুম থেকে জেগে উঠার আগমুহুর্তে হতে পারে। বোবায় ধরা ব্যক্তিটি প্রায়ই একটি ভয়ের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যায়, ভয়ের কোন দৃশ্য দেখতে পারে (যেমন, ঘরের ভেতরে কারো অনাকাংখিত উপস্থিতি)।এবং সেই মুহুর্তে বোবায় ধরা ব্যক্তিটি নড়তে পারে না। বোবায় ধরার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাঃ বোবায় ধরার শারীরিক কারণটা খুব সিম্পল। আপনি যখন ঘুমিয়ে পড়েন আপনার মস্তিষ্ক আপনার মাস্লে সিগন্যাল পাসিং বন্ধ করে দেয় যাতে আপনি স্বপ্ন টপ্ন দেখে শারীরিক ভাবে সেটা অ্যাক্ট করা শুরু না করে দেন। এতে আপনি আহত হতে পারেন। কারও কারও ক্ষেত্রে ঘুম ভাঙার পরও মস্তিষ্ক সাথে সাথে মাস্লে সিগন্যাল পাসিং শুরু করে না। ফলে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পরও আপনি সাথে সাথে মাস্ল মুভ করাতে পারেন না। সাধারণত ঘুমের রুটিন অনিয়মিত হলে এটি হতে পারে। ধরে নেওয়া হয় REM sleep এ বিঘ্ন ঘটার কারণে বোবায় ধরা ব্যপারটি ঘটে। বোবায় ধরার সাথে কিছু মানসিক রোগ যেমন narcolepsy, migraines, anxiety disorders, and obstructive sleep apnea এর যোগসুত্র আছে বলে ধরা হয়। তবে, এসব মানসিক রোগ না থাকলেও একজন ব্যক্তি বোবায় ধরা এ আক্রান্ত হতে পারে। যখন অন্য কোন রোগের সাথে যোগসূত্র থাকে, বোবায় ধরা সাধারণত স্নায়বিক ব্যাধি narcolepsy এর কারণে হতে পারে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে, আরামদায়ক পোশাক পরে ঘুমাতে চেষ্টা করবেন, ডানপাশে কাত হয়ে ঘুমাবেন, সূরা ফাতিহা ১বার এবং ইখলাস ৩বার সাথে আয়তুল কুরসি পাঠ করে ঘুমাবেন, রাতে যতটা সম্ভব পানি পান করবেন, অতিরিক্ত চিন্তা বাদ দিন এইসব মেনেশুনে চললে এমন সমসা থেকে রেহাই পাববেন। সংগৃহীত :

3344 views Answered

এই সমস্যাটা আমারও হতো।অবশ্যই এখন হয় না। আপনি একজন ভালো খনারের কাছ থেকে তাবিজ নিতে পারেন। আর "আয়াতুল কুরসী" পড়ে ঘুমান।

3344 views Answered

বোবায় ধরা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তি চাইলে করণীয়: ১) ঘুমানোর আগে অযু করে শোয়া। ২) পুরোপুরি উপুড় হয়ে না শোয়া। ৩) ডান কাত হয়ে শোয়া। ৪) কারও উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস সহজে না গেলে, কাঁথা, চাদর বা কম্বল দ্বারা মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে তারপর উপুড় হয়ে শোয়া। তবে ৩ নং আমলটিই অধিকতর শ্রেয় এবং সুন্নত সম্মত। ৪) ঘুমের দোয়াসমূহ পড়ে তারপর ঘুমানো। কি দোয়া পড়ছেন, তার অর্থ জানা থাকলে ভাল। ঘুমের একটি সহজ এবং অধিক পঠিতব্য দোয়া হচ্ছে, “আল্লাহুম্মা বি-ইস্‌মিকা আমূওতু ওয়া আহ্‌ইয়া।” অর্থঃ হে আল্লাহ ! তোমারই নামে মৃত্যুবরণ করি, আবার তোমারই নামে জীবন ধারন করি। ৫) দুঃস্বপ্ন দেখে আকস্মাৎ জেগে উঠলে বাম দিকে ফিরে তিনবার “আউযুবিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইত্বনির্‌ রাজীম” বলে তিন বার থুথু দেয়া। থুথু দিলে পাশের জায়গা ভিজে যাবার আশংকা থাকলে থুথুর মত করে ফুঁ দেয়া। ৬) শোবার সময় দশ বার করে “লা- হাওলা ওয়ালা- কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্‌” পাঠ করা। ৭) দুঃস্বপ্ন বা বোবায় ধরার কাহিনী কোনটাই কাউকে না বলা। আর প্রকাশ করলে এমন কারও কাছেই তা করা উচিত যিনি এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেন এবং প্রতিকার বাতলে দিতে পারেন। ৮) ঘরে লেবু রাখা, কেননা যে ঘরে লেবু থাকে জ্বীন সেখানে প্রবেশ করে না।

3344 views Answered

Related Questions

Next steps