ব্যক্তিত্ববান পুরুষ বলতে কি বুঝায়?
5 Answers
ব্যাক্তিত্ববান পুরুষ তারাই যারা অকারনে কোন কিছুর প্রশংসা করে না, যারা আচরনে ও পোষাকে মার্জিত, যারা অযথা সমালোচনা বা কূতর্ক করে না, যারা নিজের সীমারেখাটা জানে, আত্মমর্যাদা বজায় রাথে আর অপরকে যথাযথ মূল্যায়ন ও সন্মান করে। এই নিয়মগুলি মানতে পারলে আপনিও ব্যাক্তিত্ববান হতে পারবেন সহজেই।
আসলে যখন কেউ নিজে আগ্রহী হয়ে একটা কাজ করে তখনই সে ব্যক্তিত্ববান হতে পারে। যখন মানুষের মন তাকে বলে দেয় এই কাজটি করা উচিত বা এই কাজটি করা উচিত নয়,তখনই তার ব্যক্তিত্ব এর প্রকাশ পায়,যা সবার থাকে না।আবার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন ইত্যাদি মানুষের ব্যক্তিত্ব বহন করে।
ব্যক্তিত্ববান মানুষ বলতে বুঝায় যে মানুষটি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।অন্যের অপর নিবর নয়।নিজেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় করতে পারে। কথাবার্তায় শালীনতা বা মধুরতা আছে।অন্যর প্রতি সম্মান দেখায়। প্রতিটি মানুষকে ভালোবাসা দিতে পারে এবং মমত্ববোধ বুদ্ধিমত্বা রয়েছে এমন মানুষই ব্যক্তিত্ববান বলে দরে নেওয়া হয়। আপনার ভিতর কি এ গুন গুলো আছে না থাকলে চেষ্টা করুন।
ব্যক্তিত্বঃ বরং ব্যক্তিত্বই একজন পুরুষের সবচাইতে মূল্যবান সম্পদ। শুধুমাত্র ব্যক্তিত্ব দিয়েই একজন পুরুষ সকলের মন জয় করে নিতে পারেন খুব সহজেই। যদি তিনি নজরকাড়া সুন্দর নাও হন, তবুও। একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ সব সময়েই অনেক বেশি আকর্ষনীয়। আর তাই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ হয়ে ওঠার স্বপ্ন সব পুরুষেরই থাকা উচিত। কম বেশি থাকে। কীভাবে হয়ে উঠবেন একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ? জেনে নিন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ হয়ে ওঠার কিছু সহজ কৌশল। ব্যক্তিত্ব একজন মানুষের জন্য ব্যক্তিস্বাতন্ত্র বিষয়ও হতে পারে। সেটা পজেটিভ হতে পারে। ব্যক্তি যদি যেদিকে চাঁদ সেইদিকেই সালাম দেয় মানে জুহুকুম জাহাপনা তাহলে তাকে ব্যক্তিত্বহীন বলা যেতে পারে। সিদ্ধান্তে অবিচলঃ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন পুরুষ সিদ্ধান্তে অবিচল। যাকে বলে ভাংবেন তবু মচকাবেন না।যারা বিশ্বাস করে হেরে যাবেন তবুও অবিশ্বাস করে জিতবেন না। কথা ও কাজে মিলঃ ব্যক্তিত্ববান মানুষের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো কথা ও কাজের মিল থাকা। তাই একজন পুরুষ নিজেকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হিসেবে সবার কাছে মেলে ধরতে চাইলে তার কথা ও কাজের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। যে কাজটি আপনার পক্ষে করা সম্ভব না সেটার ক্ষেত্রে কখনই কাউকে আশ্বাস দেয়া উচিত না। সব সময় চেষ্টা করুন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলে সেটা ভঙ্গ না করতে। পাছে লোকে কিছু বলেঃ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ কখনো পাছে লোকে কিছু বলে এ নিয়ে ভাবে না। নিজে যা তাই প্রকাশ করে। অর্থাৎ নিজেই নিজের একটি উদাহরণ। আত্মবিশ্বাসের সাথে পোশাক পরিধানঃ ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবোধ থেকেই ব্যক্তিত্ব বিষয়টির বহিপ্রকাশ। ব্যক্তিত্ব অনেকাংশেই পোশাকের উপর নির্ভর করে। নিজেদের দেহের গড়ন ও বয়সের সাথে বেমানান পোশাক পরলে ব্যক্তিত্ব ক্ষুণ্ণ হয় এবং দেখতে দৃষ্টিকটু দেখায়। আবার কোন যায়গায় কেমন পোশাক পরলে মানাবে সেটাও মাথায় রাখা উচিত। নিজের সাথে মানানসই শালীন পোশাকে পুরুষের ব্যক্তিত্ব আরো বেশি ফুটে ওঠে।নিজের প্রতি নিজের স্বচ্ছ ধারণা থাকা। নিজে যা করছেন তা সঠিক এবং সিদ্ধান্তে অবিচল থাকার নাম আত্মবিশ্বাস। আত্মবিশ্বাস একজন মানুষকে খুব সহজেই ব্যক্তিত্ববান বানিয়ে তোলে। যে কোনো কাজে নিজের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে পারলে সেটা কথাবার্তা ও ব্যক্তিত্বে ফুটে ওঠে। আত্মবিশ্বাস কম থাকলে একজন মানুষ কখনোই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হয়ে উঠতে পারে না। সামাজিক অনুষ্ঠানেঃ যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে নিজেকে গুটিয়ে না রেখে সামাজিকতা পালন করুন। মানুষজনের সাথে পরিচিত হয়ে নিন, কুশলাদি জিজ্ঞাসা করুন এবং অন্যান্য সামাজিক দ্বায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করুন। সামাজিকতা পালন না করে নিজেকে গুটিয়ে রাখলে আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পাবে না এবং নতুন নতুন মানুষদেরকে জানার সুযোগ হারাবেন আপনি। তাই ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন পুরুষ হতে চাইলে সামাজিকতা বাড়িয়ে তুলুন। চিন্তা ভাবনায় ইতিবাচকঃ একজন নেতিবাচক চিন্তার মানুষ সারাক্ষণই হতাশা, দুঃখ ও বিষণ্ণতায় ভোগে যা একজন মানুষের ব্যক্তিত্বকে ক্ষুন্ন করে। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ হয়ে উঠতে চাইলে নিজের নেতিবাচক মনোভাব কে দূর করে চেষ্টা করুন সকল পরিস্থিতিতেই ইতিবাচক চিন্তা করার। বাচনভঙ্গির সুন্দর বহিপ্রকাশঃ একজন পুরুষের বাচনভঙ্গির মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। আর তাই ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষ হতে চাইলে বাচন ভঙ্গির দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত সকল পুরুষের। সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলা, স্পষ্ট উচ্চারন, কথা বলার সময় চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা এবং ভাবপ্রকাশের দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। সৎ, সুন্দর চরিত্রঃ সৎ, সুন্দর চরিত্র মানুষকে ব্যক্তিত্বের মর্যাদা এনে দেয়। ব্যক্তিত্বই হলো মানুষটির আসল সম্মানের জায়গা। ব্যক্তিত্ব না থাকলে তার অর্থ সম্পদের মূল্যায়ন সত্যিকারের মূল্যায়ন নয়।
ব্যক্তিত্ববান পুরুষ হল তারাই যারা কথা, কাজে, ব্যবহারে সবসময় সঠিক থাকে তারাই হল ব্যক্তিত্ববান পুরুষ।যে কোন কাজ থাকলে সে তা হাসি খুশি সাহসীকতার সহিত দ্রুত কাজটি করে দেয় সেই হল ব্যক্তিত্ববান পুরুষ।ব্যক্তিত্ববান পুরুষ সবসময় নিজেকে তৈরি করার কাজে লিপ্ত থাকে তাই তার দ্বারা কোন বেঠিক কাজ হয় না।ব্যক্তিত্ববান পুরুষের আত্বসম্মানবোধ প্রবল থাকে যা তার কাজ কর্মের মাধ্যমে সহজে অনুধাবন করা যায়।আরও অনেক গুনের সমন্বয়ে ব্যক্তিত্ববান পুরুষ গঠিত হয়।তবে আপাতত এগুনগুলি থাকলে আপনি ব্যক্তিত্ববান পুরুষ হতে পারবেন।