1 Answers
নারী পুরুষ সবার শরীরে কমবেশি লোম রয়েছে। তবে পুরুষ আর নারী ভেদে লোমের ধরনে রয়েছে ভিন্নতা। পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত ঘন কালো, মোটা লোম হয়ে থাকে। আর নারীর ক্ষেত্রে লোম হয় পাতলা ধরনের। তবে সব ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটি ঠিক থাকে না। আর তখনি তা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মেয়েদের মুখে যদি ছেলেদের মতো লোম গজাতে শুরু করে, তবে তা খুব বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। শরীরের অনেক রোগের কারণে এমন অবস্থা হতে পারে। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যই নয়, ভেতরকার অনেক সাধারণ বৈশিষ্ট্য নষ্ট করে দিতে পারে। তাই উপযুক্ত চিকিৎসা নেয়া জরুরি।

অবাঞ্ছিত লোমের কারণ
হরমোনের ভারসাম্যহীনতাই মূলত এর জন্য দায়ি। প্রত্যেক নারী ও পুরুষের শরীরে টেসটোসটেরন( testosteron) নামক এক ধরনের হরমোন রয়েছে। এই টেসটোসটেরন হরমোনকে পুরুষ হরমোন নামে অভিহিত করা হয়। পুরুষের পাশাপাশি মেয়েদের শরীরেও এই টেসটোসটেরন হরমোন সামান্য পরিমাণ থাকে। কিন্তু মেয়েদের শরীরে টেসটোসটেরন হরমোনের পরিমাণ বেশি থাকলে অথবা হরমোনের পরিমাণ বেড়ে গেলে মেয়েদের শরীরে পুরুষের মতো লোম গজাতে শুরু করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মেয়েদের এই শারীরিক সমস্যাটিকে হারসুটিজম (hirsutism) বলা হয়।
ইনসুলিন রেজিসটেন্স এবং পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের কারণেও নারীর মুখে অবাঞ্চিত লোম হতে পারে। মানুষের শরীরে দু’টি গ্রন্থির বৃদ্ধিকেও দায়ি করা হয়। তার একটি হল অ্যাডরেনাল গ্রন্থি, যা কিডনির উপরিভাগে অবস্থিত। আর একটি হল নারীর দেহের ডিম্বাশয় বা ওভারি। এই দু’টি গ্রন্থিতে কোনো রোগের কারণেও এ রকম অতিরিক্ত লোম গজিয়ে থাকে। অ্যাডরেনাল গ্রন্থি এবং ওভারির টিউমার অথবা ক্যানসার হলে বা অ্যাডরেনাল হাইপারপ্লাসিয়া হলেও অবাঞ্ছিত লোম হতে পারে। তবে যদি হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নেয়া হয়, সেক্ষেত্রে ও হারসুটিজম হতে পারে। অনেক সময় জেনেটিক কারণেও হারসুটিজম হতে পারে। এছাড়াও
– সাধারণত মেনোপজ হয়ে যাওয়া বা হচ্ছে এই সময়টা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। মেনোপজ হলে বা মাসিক একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে হরমোন পরিবর্তন হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তবে যে কোনো বয়সেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
– অবিবাহিত নারীদের মাসিকের অনিয়মিত অবস্থাও এই সমস্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
– বিবাহিত হলে অনিয়মিত মাসিকের সঙ্গে সন্তান হওয়া বা না হওয়ার সম্পর্ক জড়িত থাকতে পারে। সেক্ষেত্রেও রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিতে হবে।
চিকিৎসা
– লোম খুব দ্রুত হারে বাড়তে থাকলে, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, ব্রণ হওয়া, পিরিয়ডের সমস্যা, পেশি বেড়ে যাওয়া, ব্রেস্ট ছোট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে চিকিৎসা নিতে হবে।