মুসলমানদেরকে কেন সন্ত্রাসী বলা হয়?
1 Answers
বিছানায় শুয়ে মোবাইলে অাপনার প্রশ্নটা দেখলাম অার বিবেকের তাড়নায় উঠে ল্যাপটপ খুলতে বাধ্য হলাম কারন মোবাইলে বেশি বাংলা লিখতে অামার অসহ্য লাগে।
এবার প্রসঙ্গে অাসিঃ
মুসলমানদেরকে কেন সন্ত্রাসী বলা হয়?
কথাটা স্বঠিক নয়, অাসলে মুসলমান নাম অার লেবাসধারী কিছু উগ্র কূশিক্ষিত কুসংস্কারাচ্ছন্ন পশ্চাদপদ গোষ্ঠিদের কর্মকান্ডকে সমস্ত মুসলমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে কিছু জ্ঞান পাপীরা সমগ্র মুসলিম জাতীকে হেয় করার জন্য এধরনের অপপ্রচারনা চালায়।
পৃথিবীতে যেহেতু একাধীক ধর্ম তাই তাদের মধ্যে প্রতিযোগীতা থাকাটাই স্বাভাবিক অার যার যার ধর্ম তার তার কাছেই শ্রেষ্ঠ।
এখানে অামাদের ইসলাম ধর্ম যদি অন্যদের কাছে সর্ব শ্রেষ্ঠ হিসাবে প্রমান করতে চাই তাহলে সেটা করতে হবে উন্নত জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, ভাল অাচার-অাচরন, ন্যায়-নীতি, সততা অার মহানুভবতার মধ্য দিয়ে যেটা করতে অামরা বার বার ব্যর্থ হচ্ছি।
একবার নিজের কাছে প্রশ্ন করে দেখুন কেন সমগ্র পৃথিবীর মুসলিম দেশগুলোর মানুষেরা ইউরোপ, অামেরিকা, কানাড বা অষ্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে চলে যাবার জন্য মুখিয়ে থাকে?
কেন বিপদগ্রস্ত মুসলমানরা অপর কোন মুসলিম দেশে অাশ্রয় নিতে অাগ্রহী হয় না? বউ, বাচ্চা ও পরিবার নিয়ে জীবন বাজী রেখে হাজার হাজার মাইল খোলা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যেতে চায় ইউরোপ কিনবা অষ্ট্রেলিয়ার মত অমুসলিম দেশগুলোতে?
পৃথিবীতে মাত্র দুইটা মুসলিম দেশ মালয়শিয়া অার তুর্কিতে অামি অসংখ্য উৎবাস্তু অাশ্রয়প্রার্থী দেখেছি কারন একটাই তারা উদারপন্থি অাধুনিক মুসলিম সমাজ প্রতিষ্ঠা করছে।
কেন মাওবাদী বা এল.টি.টি সন্ত্রাসীদের হিন্দু সন্ত্রাসী বলা হয় না? কেন আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি বা আই.আর.এ কে খ্রিস্টান সন্ত্রাসী বলা হয়না? কেন মিয়ানমার চরম মৌলবাদী উগ্র বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বৌদ্ধ সন্ত্রাসী বলা হয় না?
পৃথিবীর ইতিহাসে সবথেকে বড় গণহত্যার নায়ক হিটলার একজন খ্রিস্টান, তিনি সর্বমোট প্রায় 6কোটিরও বেশি মানুষ হত্যা করেছিলেন।
1950 সালে চীনে গনহত্যা করা হয় প্রায় 50লক্ষ সেটার নায়ক একজন বুদ্ধিষ্ট।
1944-1948 সালে সৌভিয়েত ইউনিয়নে গণহত্যা করা হয় প্রায় 8লক্ষ যেটার নায়ক একজন নাস্তিক।
1975-1979 ক্যাম্বোডিয়ার গণহত্যায় মারা যায় প্রায় 30লক্ষ যেটার নায়ক একজন বুদ্ধিষ্ট।
1967-1970 সালে নাইজেরিয়ার গণহত্যায় মারা যায় প্রায় 30লক্ষ যেটার নায়ক একজন খ্রিস্টান।
1984 সালে ভারতে প্রায় 3হাজার শিখদের প্রকাশ্যে গণহত্যা করা হয় যেটার নায়ক একজন হিন্দু।
এরকম অারো এক ডজন উদাহরন দিতে পারব কিন্তু এত কিছুর পরও অমুসলিমরা মুসলমানদের সন্ত্রাসী জাতী বলে কটাক্ষ করে ! যে কোন সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে দুই-একজন তথাকথিত মুসলমানের সম্পর্ক পেলেই সমগ্র মুসলিম জাতীকে কটাক্ষ করা হয়। ওসামা কিনবা অাবু বকরদের সমগ্র মুসলিম জাতীর অাদর্শ হিসাবে তুলে ধরে ব্যাপক প্রচারনা করে মুসলমানদের অপদস্ত করা হয়।
অামার মতে এর কারনটা হচ্ছে বর্তমানে অামরা জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা, মানবতায় বা ন্যায়বিচারের কোন দৃষ্টান্তই তৈরি করতে পারছি না পৃথিবীর কাছে। ইহুদি, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা নাস্তিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি করা বিভিন্ন কারিগরী জিনিস, নিত্যপ্রয়োজনীয় বা বিলাসী পণ্য শুধু ভোগ করে যাচ্ছি কিন্তু নিজেদের উন্নয়নে নিজেরা কোন ভুমিকা রাখার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারছি না। শিয়া, সুন্নি, অাহলেহাদিস, মাঝহাব, পীর এসব নিয়ে নিজেরাই তর্ক-বিতর্ক অার ঝগড়া-বিবাদ করে মূল্যবান সময় নষ্ট করছি অার বিধর্মিদের কাছে হাসির পাত্র হচ্ছি।
বর্তমানে মিডিয়া, যোগাযোগের মাধ্যম সহ সকল অাধুনিক প্রযুক্তি অমুসলিমদের দখলে কারন তারা পরিশ্রম অার মেধা দিয়ে এগুলো অর্যন করেছে তাই তারা তাদের পছন্দের খবর/তথ্যগুলো অতি সহজেই তুলে ধরতে পারে বিশ্বের কাছে অার তাদের দূর্বলতাগুলো সহজেই ঢেকে রাখে যেটা অামরা পারি না।
অামাদের যেখানে কুশিক্ষা, অজ্ঞতা অার কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এগিয়ে যাবার কথা সেখানে অামরা ভাইয়েরা-ভাইয়েরা ঝগড়া অার মারামারি করে নীচে নেমে যাচ্ছি।
অামরা অনেকেই নামে ও পোষাকে মুসলিম কিন্তু ইসলামের নিয়মগুলো স্বঠিকভাবে মানিনা যদিও কিছু মানি তাতে অাবার অসংখ্য গোজামিল দেয়ার চেষ্টা করি কিন্তু অমুসলিমরা অামাদের থেকে বেশি ইসলামের নিয়ম মানছে কারন তারা মিথ্যা বলেনা, ভেজাল করে না, পরচর্চা করে না, সময় অপচয় করে না, অপরকে সন্মান করে, লোক ঠকায় না, অবান্তর অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা করে না, অায়ের থেকে বেশি ব্যয় করে না অার মানব কল্যানে কাজ করে।
অাশা করি অামার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার এই বিশ্লেষন অাপনার কাছে পরিষ্কার হয়েছে, ভুল-ত্রুটি থাকলে মার্জনা করবেন অার যিনি অাপনাকে ঐ প্রশ্নটা করেছেন তাকে গুছিয়ে উত্তরটাও দিতে পারবেন।
দূঃখিত কোন ভিডিও দিতে পারলাম না।
ধন্যবাদ।