রোগ-নিরাময়?
4 Answers
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ১০ টি উপায়
শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মানবদেহকে নানাবিধ রোগ ব্যাধি থেকে রক্ষা করে। শুধু তাই নয়, ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হলে দ্রুত আরোগ্য লাভ করতেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে রাখা চাই সক্রিয় ও সবল। কিভাবে?
নিয়মিত ঘুমান।
আমাদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে যা ঘুমের সময় সবচেয়ে বেশি কাজ করে। সুতরাং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া গ্রহণ করুন ।
প্রিবায়োটিক এবং প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া আমাদের খাদ্য হজমে সহায়তা করে। টক দই এর মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে টক দই খান।
পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহন করুন!
প্রোটিন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করে। সুতরাং শরীরে প্রয়োজনীয় মাত্রার প্রোটিন থাকা জরুরী। ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়লে বুঝবেন আপনার শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি আছে। প্রোটিনের অভাব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রধান অন্তরায়।
খুব বেশি দুশ্চিন্তা করছেন?
যখন আমরা চিন্তা করি তখন করটিসল এবং অ্যাড্রেনালীন নামক দুটি হরমোন নিঃসৃত হয়। যদিও এই হরমোনগুলো মাংসপেশী বৃদ্ধিতে সাহায্য করে তবে এদের মাত্রা বেশি হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই নিজেকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখুন।
হাঁটাচলা করুন নিয়মিত!
নিয়মিত হেঁটে আপনি অনেক বড় বড় রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন। নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে শরীরের অ্যান্টিবডি এবং শ্বেত রক্ত কনিকা সচল থাকে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং কোন রোগ সহজে আপনাকে আক্রমণ করতে পারেনা।
অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবারকে না বলুন!
রান্নায় অতিরিক্ত সয়াবিন তেল ব্যবহার করা উচিৎ নয়। সয়াবিন তেল অলিভ অয়েল বা ক্যানোলা অয়েলের থেকে তিন গুন বেশি খারাপ কোলেস্টেরল বহন করে। সয়াবিন তেল না খেয়ে রাইস ব্যান অয়েল বা অলিভ অয়েল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
লিভার পরিস্কার রাখুন।
কিছু এসেনশিয়াল অয়েল শরীরে এক্সপেক্টোর্যান্ট হিসেবে কাজ করে লিভারে থাকা মিউকাস নিঃসরণ করে যকৃত পরিস্কার রাখে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে সক্রিয়।
বেশি বেশি সবুজ এবং পাতাজাতীয় শাকসবজি খান।
শাকসবজির মধ্যে থাকে খাদ্যআঁশ এবং প্রোটিন যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সুতরাং খাদ্যাভাসে শাকসবজির পরিমাণ বাড়ানো উচিত।
মাদক বা সিগারেট জাতীয় পণ্য বর্জন করুন।
রোগ প্রতিরোধ করার জন্য ডেনড্রিক কোষের কার্যক্ষমতা বাড়াতে হবে। সিগারেট বা মদ জাতীয় পণ্য গ্রহণ করলে এই কোষের কার্যক্ষমতা কমে যায়। দিনে ২-৩ পেগ মদ খেলে শরীরের ইনফেকশন রোধের ক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে থাকে এবং ঠাণ্ডা ও ফ্লু ভাইরাস দেখা দেয়।
ভিটামিন এবং মিনারেল গ্রহণ করুন।
শরীরে ভিটামিন এবং মিনারেল সঠিক মাত্রায় রাখা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরী। ভিটামিন এ যেমন দরকার তেমনি অতিরিক্ত ভিটামিন এ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও।
আমরা অনেক আগে থেকে জেনে এসেছি, কমলার রস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ভিটামিন ‘সি’ ছাড়াও আরও অনেক উপায়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়। উপরে উল্লিখিত টিপস্গুলো মেনে চললে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় থাকবে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তোলার ১০ টি কার্যকরী কৌশল। ১) খাবারে অতিরিক্ত চিনি যোগ করবেন না শরীরের যেসব কোষ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সক্ষম, তাদের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় চিনি। এ কারণে খাবারে অতিরিক্ত চিনি মেশাবেন না। কোমল পানীয় খাওয়া বন্ধ করুন, এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। এর বদলে চিনি ছাড়া ফলের রস, চা এবং সাধারণ পানি দিয়ে তৃপ্তি মেটান। এতে যেমন শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন পাবে, তেমনি থাকবে ভেতর থেকে পরিষ্কার। ২) স্ট্রেস নেবেন না কিছু পরিমাণ স্ট্রেস জীবনেরই অংশ। কিন্তু এই স্ট্রেস যদি আপনাকে অসুস্থ করে ফেলে তবে বুঝতে হবে জীবন থেকে স্ট্রেস ঝেঁটিয়ে বিদায় দেবার সময় এসেছে। খুব বেশি স্ট্রেসের মাঝে থাকলে মানুষ ঠাণ্ডা, সর্দি, জ্বর এমনকি আরও গুরুতরস অব অসুখে পড়তে পারে। ক্রমাগত স্ট্রেস নিতে থাকলে শরীর কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিনে ভরে যায়, যাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। স্ট্রেস বেশি নেবেন না, ধ্যান করুন, বুক ভরে শ্বাস নিন এবং যে সব কাজ বা মানুষ আপনার স্ট্রেস বাড়িয়ে চলেছে তাদেরকে জীবন থেকে ছাঁটাই করে দিন। ৩) আদা-রসুন আদা একটি আয়ুর্বেদিক ঔষধ, যা শরীরকে রাখে উষ্ণ এবং ক্ষতিকর টক্সিন দেহে জমতে বাধা দেয়। বিশেষ করে ফুসফুস এবং সাইনাসের ক্ষতি হতে দেয় না আদা। আর রসুন কাঁচা খেতে পারলে তা খুবই উপকারি। ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস দূর করতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই মশলাটি। ৪) ভিটামিন সি এই ভিটামিনটা যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় তা আমাদের সবারই জানা। অনেক তাজা ফল-মূলে পাওয়া যায় ভিটামিন সি। খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি রাখুন নিয়মিত। ৫) খাদ্যতালিকায় রাখুন কপি ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকোলি এসব সবজি মূলত আমাদের যকৃৎ ভালো রাখতে সাহায্য করে। সুস্থ যকৃৎ শরীরের মাঝে থাকা বিষাক্ত পদার্থকে বের করে দেয়। এ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এসব কপি খেয়ে যকৃৎ সুস্থ রাখাটা খুবই জরুরী। শুধু তাই নয়, অন্যান্য সব তাজা সবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন। তাজা মানে তাজা, ফ্রিজে এক সপ্তাহ রেখে খাদ্যগুণ কমানো সবজি নয়। যতটা সম্ভব তাজা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাবেন। ৬) শরীর রাখুন সচল সারা দিন ডেস্কে বসে কাজ করলে অথবা অলসতা করে শরীর অচল করে রাখাটা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ইওপরে রাখতে পারে নেতিবাচক প্রভাব। শরীর সচল থাকলে বেশি পরিমাণে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং লিউকোসাইট (রোধ প্রতিরোধের এক ধরণের কোষ) এর পরিমাণ বাড়ায়। এর অর্থ এই নয় যে আপনাকে নিয়ম করে জিমে যেতে হবে। সে সময়টুকু না পেলে অন্তত ৩০ মিনিটের জন্য হাঁটতে যান, বাচ্চাদের সাথে খেলা করুন এমনকি টিভির সামনে নাচুন। ৭) আরাম করে ঘুমান ক্লান্তি থেকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা কমে যায়। শুধু তাই নয়, ইনসমনিয়া হতে পারে স্ট্রেস হরমোন বৃদ্ধির কারণ। প্রতি রাতে সময়মত ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমান, রোগে ভোগার সম্ভাবনা কমবে। ৮) স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন বেশি ওজন যেমন খারাপ তেমনি খুব কম ওজনও কিন্তু খারাপ। নিজের শরীরের গঠন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর একটি ওজন বজায় রাখুন সঠিক খাদ্যভ্যাস, ব্যায়াম এবং স্ট্রেসমুক্ত জীবনযাপনের মাধ্যমে। ৯) প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্যে থাকুন পরিবারের মানুষ এবং বন্ধুদের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকলে তা শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে- এটা পরীক্ষিত সত্য। একাকী থাকেন যারা, তাদের চাইতে বন্ধুদের মাঝে থাকা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হয় শক্তিশালী। ১০) মনকে রাখুন সুস্থ মন সুস্থ রাখুন, শান্ত রাখুন, শরীর নিজেই নিজেকে সারিয়ে তোলার শক্তি পাবে। এর জন্য ধ্যান করতে পারেন। শুধুহ তাই নয়, নিয়মিত প্রাণ খুলে হাসার অভ্যাসটাও আপনার উপকারে আসবে। এতে আপনার শরীর ধরে নেয় আপনি সুখি, এবং তাতেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক ভালো থাকে। বিশ্বাস না হলে নিজেই চেষ্টা করে দেখুন না!
ভাই আপনি বেশি করে ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খান।।আর নিয়মিত ঘুমান এবং বিশ্রাম নিন।।ইনশাআল্লাহ সমস্যার সমাধান হবে।।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এমন ১৫ টি খাদ্যাভ্যাস। কোন ধরনের খাবার খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা সম্ভব এবং কোন ধরনের খাবার পরিহার করাই শ্রেয়। 1 ♦ ভিটামিন ই ও ভিটামিন সি জাতীয় সব্জিগুলোতে আছে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাবারে টমেটো, লেবু, নারকেল, পেয়ারা, কালোজামের মতো খাবার রাখুন। 2 ♦ রসুনে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবেও রসুন খুব ভালো কাজ করে। কাঁচা অথবা অল্প সিদ্ধ রসুন নিয়মিত খাওয়ার চেষ্টা করুন। চাটনি বা সসের সাথে রসুন কুচি মিশিয়ে খেতে পারেন। 3 ♦ ওমেগা ৩ ও ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ ইমিউন সিস্টেম বাড়াতে সাহায্য করে। সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ দিন মাছ খান। 4 ♦ জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ ও দই রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। দুধ হজম না হলে দুধের তৈরি খাবার খান। দিনে অন্তত ১০০ গ্রাম দই আর ১ কাপ দুধ খাবার চেষ্টা করুন। 5 ♦ ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার রোগ প্রতিরোধে খুব সাহায্য করে। গাজর, টোমাটো, কুমড়া বেশি করে খান। সারাদিনে ১ কাপ গাজরের জুস খেতে পারলে দারুন উপকার পাবেন। গাজরের জুস দুধের থেকে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর। 6 ♦ প্রিজারভেটিভ দেয়া খাবার ও রঙ মেশানো খাবার এড়িয়ে চলুন। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে। 7 ♦ মধু ও দারচিনি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। 8 ♦ প্রতিদিন নিয়ম করে ফল ও সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন । মনে রাখবেন যতই ভিটামিন ট্যাবলেট খান না কেন, প্রাকৃতিক খাবারের ভিটামিন অনেক বেশি কার্যকর হয়। 9 ♦ আমলকীর সাথে অল্প আদা ও খেজুর বেটে নিন। ভিটামিন সিতে ভরপুর আমলকীর এই চাটনি শরীরের জন্য দারুন উপকারী। 10 ♦ সারাদিনে প্রচুর পানি পান করুন। এছাড়া হারবাল চাও খেতে পারেন, কেননা তা শরীরকে নীরোগ রাখতে সহায়তা করে। সফট ড্রিঙ্ক কম খান। 11 ♦ সালাদ ও মাছ মাংসে ভিনেগারের বদলে লেবুর রস ব্যবহার করুন। চিনির বদলে মধু ও গুড় ব্যবহার করুন যা অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনকে কিছুটা মেটায়। 12 ♦ খাবার পানি সর্বদা ফুটিয়ে পান করুন। অনিরাপদ পানি শরীরের নানান রকম সমস্যার প্রাথমিক উৎস। 13 ♦ সপ্তাহে একদিন সয়া দুধের তৈরি ছানা বা সয়া আটার রুটি খান। সয়াবিন জাতীয় খাবারে এমন উপাদান থাকে যা ইস্টজেনের ঘাটতি পূরণ করে। 14 ♦ সল্টেড চিপস বাদ দিয়ে ঘরে তৈরি চিপস খান। মিষ্টি ক্রিমের বদলে খান ঘরে তৈরি খিরশা। 15 ♦ একই তেলে বার বার তৈরি ভাজাভুজি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। খাবার পর আমলকী খেলে উপকার পাবেন ।