2 Answers

আমাদের পেটের কিছু অংশ আছে যেগুলো আশেপাশের অংশ থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল থাকে৷ অনেকের জন্মগতভাবে এ অংশগুলো দুর্বল থাকে৷ পেটের ভিতরের চাপ যদি বেশি হয়, যেমন-অনেক দিনের পুরানো হাঁচি, কাশি বা কোষ্ঠকাঠিন্য আছে, তাদের বেলাতেও ক্ষুদ্রান্ত্র এই দুর্বল অংশগুলো দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে৷ উদর এবং উরুর সংযোগ স্থলে হার্নিয়া হতে পারে৷ এটা সাধারণত পুরুষদের হয়৷ মহিলাদের বেলাতে উরুর ভেতরের দিকে স্ফীত দেখা যায়৷ নাভির চারপাশে বা কোনো একপাশে ফুলে যায়৷ এটাকে নাভির হার্নিয়া বলা হয়৷ পূর্বে অস্ত্রোপাচার করা হয়েছে এমন জায়গাতেও হার্নিয়া হতে পারে৷ এটাকে ইনসিশনাল হার্নিয়া বলা হয়৷ ভারী জিনিস তুলতে গিয়ে হতে পারে৷ পুরুষদের প্রস্টেটের অসুখ, মুত্রাশয়ের অসুখের কারণে হতে পারে৷ চাপ দিয়ে প্রস্রাব করলে হতে পারে৷ প্রসবের পর ভারি কাজ বা অনবরত সিঁড়ি ভাঙলে হার্নিয়া হতে পারে৷

চিকিৎসাঃ

যদি হার্নিয়া ছোট থাকে এবং কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে তাহলে চিকিৎসকরা অনেক সময পর্যবেক্ষণ করার কথা ও অপেক্ষা করা কথা বলেন। কিন্তু হার্নিয়া যদি বড় হতে থাকে এবং ব্যথা হয় তাহলে অস্বস্তি দূর করতে ও মারাত্মক জটিলতা প্রতিরোধ করতে চিকিৎসকরা সাধারণত অপারেশন করে থাকেন।

হার্নিয়ার দু’ধরনের সাধারণ অপারেশন করা হয়ঃ যথা হার্নিয়োর‌্যাফি ও হার্নিয়োপ্লার্স্টি

হার্নিয়োর‌্যাফি

এ পদ্ধতিতে সার্জন কুঁচকিতে একটা ইনসিশন দিয়ে বেরিয়ে আসা অন্ত্রকে ঠেলে পেটের মধ্যে ফেরত পাঠান। তারপর দুর্বল বা ছেঁড়া মাংসপেশি সেলাই করে ঠিক করে দেন। অপারেশনের পর স্বাভাবিক কাজ কর্মে ফিরে যেতে চার থেকে ছ’সপ্তাহ সময় লাগে।

হার্নিয়োপ্লার্স্টি

এ পদ্ধতিতে সার্জন কুঁচকি এলাকায় এক টুকরো সিনথেটিক মেশ লাগিয়ে দেন। সেলাই, ক্লিপ অথবা স্টাপল করে এটাকে সাধারণত দীর্ঘজীবী রাখা হয়। হার্নিয়ার ওপরে একটা একক লম্বা ইনসিশন দিয়েও হার্নিয়াপ্লাস্টি করা যেতে পারে। বর্তমানে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে, ছোট ছোট কয়েকটি ইনসিশন দিয়ে হার্নিয়োপ্লাস্টি করা হয়। তবে হার্নিয়া বড় হলে ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে করা যায় না।

10730 views

যদি কোন কারণে পেটের অভ্যন্তরে চাপের পরিমাণ বেড়ে যায় (Increase Internal pressure), তাহলে আমাদের অন্ত্রের (Intestinal) বিভিন্ন অংশ ঐ চাপে স্থানচ্যূত হয়ে সেই দুর্বল যায়গা দিয়ে প্রবেশ(penetrate) করে ফেলে তখন নাভী, উদর (Abdomen) ও উরুর সংযোগস্থল (Inguinal region), অণ্ডকোষ (Testes) ইত্যাদি এলাকা ফুলে ওঠে। এটিই হল হার্নিয়া। হার্নিয়া থেকে আরোগ্য লাভ করতে হলে হার্নিয়া নির্মূলের কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। যে ধরনের হার্নিয়াই হোক না কেন হোমিও চিকিৎসায় আক্রান্ত অঙ্গটি ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে পূনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসে। কাজেই কয়েক মাস সময় লাগলেও ধৈর্য্য ধরে হোমিও চিকিৎসা নেয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। কেননা অপারেশান করলে সাধারণত কয়েক বছরের মধ্যে রোগটি আবার ফিরে আসতে দেখা যায়। তাই হার্নিয়া যে পর্যায়েই থাকুক না কেন অভিজ্ঞ একজন হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং যথাযথ ট্রিটমেন্ট নিন। কয়েক মাসের হোমিও চিকিৎসায় পুরুপুরি সেরে উঠবেন ইনশাল্লাহ।

10730 views

Related Questions