বেগানা মেয়ের সাথে বেগানা পুরুষের প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া কি ইসলামে জায়েজ?
2 Answers
অবশ্যই না। শারীরিক সম্পর্কতো দূর, মেলামেশা এমনকি অপ্রয়োজনে কথাবার্তাও নাজায়েজ। কেনো'র উত্তর দিতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে ইসলাম নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল, যে কেউ এসে প্রেম করবে, শারীরিক সম্পর্ক করবে তারপর চলে যাবে এরুপ অবমাননাকর পরিস্থিতিতে নারীরা যেন পতিত না হয় এটা তারই পক্রিয়া। এছাড়া নারীপুরুষের অবাধ মেলামেশা যায়েজ থাকলে দিনে দিনে তা এমন পর্যায়ে পৌছাত যে পরিবার বলে কিচ্ছু থাকতো না, মানুষ বন্য জানোয়ারের মত অবৈধ সম্পর্ক করতো, পৃথিবীর জনসংখ্যাও হয়তো তাহলে এতদিনে ৭ এর জায়গায় ২১'শ কোটি হয়ে যেতো। আপনি আজ যাকে বাবা ডাকছেন তাকেই হয়তো জিবনেও খুজে পেতেননা। আরও হাজারটা কারন দর্শাতে পারি, আশা করি তার আর প্রয়োজন নেই।
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রেম করা কি জায়েজঃ বেগানা পুরুষের সাথে বেগানা নারীর প্রেম পিরিত হারাম। ইসলামে প্রেম জায়েজ তবে সেটা আপনার বিবাহিত স্ত্রীর সাথে। কিন্তু সেই প্রেম হতে হবে বাবার প্রতি সন্তানের যে প্রেম থাকে, প্রতিবেশির প্রতি প্রতিবেশির যে প্রেম থাকে। যদি আপনার কোন যুবতী মেয়ের প্রতি যৌন উত্তেজিত প্রেম থাকে তাহলে সেই প্রেম একেবারেই জায়েজ নয়। বিবাহ পূর্ব প্রেম হারাম। “স্বাধীনভাবে লালসা পূরণ কিংবা গোপনে লুকিয়ে প্রেমলীলা করবে না” (সূরা আল মায়িদা: ৫) এরপর সূরা নূর এর ৩০ নং আয়াতে পুরুষদের চোখ নীচু রাখতে এবং লজ্জা স্থান হিফাজত করতে বলা হয়েছে। ৩১ নং আয়াতে নারীদেরও একই কথা বলা হয়েছে, পর্দা করার কথা বলা হয়েছে আর নারীরা কাদের সাথে সাক্ষাত করতে পারবে তাদের একটা তালিকা দেওয়া হয়েছে। সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে পর্দা করার নির্দেশ আরো পরিস্কার ভাষায় বলা হয়েছে। যেখানে দৃষ্টি নীচু ও সংযত রাখা, লজ্জা স্থান হিফাজত করার কথা এবং পর্দা করার কথা বলা হয়েছে আর সূরা মায়িদাতে গোপন প্রেমলীলাকে নিষেধ করা হয়েছে সেখানে বিবাহ পূর্ব প্রেম বৈধ হতে পারে কি করে? এটা হারাম। জিনা তথা অবৈধ শারীরীক সম্পর্ক হারাম। (সূরা ইসরা আয়াতঃ ৩২) (সূরা ফুরকানঃ ৬৮) জিনার নিকট যাওয়াই নিষেধ অর্থাৎ যে সকল জিনিস জিনার নিকটবর্তী করে দেয় তার কাছে যাওয়াই নিষেধ। বিবাহ পূর্ব প্রেম নর- নারীকে জিনার নিকটবর্তী করে দেয় আর জিনা মারাত্মক একটি কবিরা গুণাহ। বিবাহপূর্ব প্রেম অনেক সময় বান্দাহকে শিরকের নিকটবর্তী করে দেয়। কারণ অনেক সময় তারা একে অপরকে এতটাই ভালবাসা শুরু করে দেয় যে প্রকার ভালবাসা পাওয়ার দাবীদার একমাত্র আল্লাহ। (সূরা বাকারাঃ১৬৫) শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শুত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখন ও কি নিবৃত্ত হবে? সূরা আল মায়েদাহ, আয়াত নং ৯০ থেকে ৯১। আসলে ইসলাম এমন একটি ধর্ম যা মানুষকে গুনাহ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন উপায় বলে দেয়।প্রেম করলে শয়তান অবশ্যই জিনা করতে প্রলুব্ধ করবে। ইসলামে বিয়ের আগে প্রেম করা হারাম।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy