6 Answers
হিমোগ্লোবিন একটি অক্সিজেনবাহী লৌহসমৃদ্ধ মেটালোপ্রোটিন যা মেরুদণ্ডী প্রাণিদের লোহিত কণিকা এবং কিছু অমেরুদণ্ডী প্রাণিকলায় পাওয়া যায়। মূলত হিমোগ্লোবিন হলো এক ধরনের প্রোটিন। এটি মানুষের শরীরে লোহিত রক্তকণিকার মধ্যে থাকে। এটা আমাদের শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে। মানুষের শরীরের ভিতরে প্রত্যেক জায়গায় অক্সিজেন পৌঁছে দেবার কাজ হলো হিমোগ্লোবিনের । অর্থাৎ হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে অক্সিজেন পরিবহনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ যদি কমে যায় তাহলে অক্সিজেন সরবরাহও কমে যাবে। তখন অ্যানিমিয়ার লক্ষণসমূহ দেখা দিবে। অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা : আমাদের শরীরে রক্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লোহিত রক্তকণিকা, আর লোহিত রক্তকণিকার প্রাণ হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। এই হিমোগ্লোবিনের কাজ হলো ফুসফুস থেকে দেহকোষে অক্সিজেন পরিবহন করা। আবার আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন অক্সিজেন। কোনো কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বা পরিমাণ কমে গেলে সেই অবস্থাকে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা বলা হয়। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে শারীরিক সমস্যা : বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই অ্যানিমিয়ার নির্দিষ্ট লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না, কিংবা লক্ষণ দেখে অ্যানিমিয়া রোগী চিহ্নিত করা যায় না। তবে এ ক্ষেত্রে বেশকিছু লক্ষণ প্রায় একই সঙ্গে থাকলে রক্ত পরীক্ষা করা খুবই জরুরী ১. শরীর ফ্যাকাসে থাকবে ও প্রচুর ঘাম হবে। ২. বুক ধড়পড় করবে। ৩. নাড়ির স্পন্দন দ্রুত হবে। ৪. মাথা ঘোরার সঙ্গে মাথা ব্যথাও থাকবে। ৫. চোখে ঝাপসা কিংবা কম দেখবে। ৬. মুখের কোণে ও জিহ্বায় ঘা। ৭. লৌহের অভাবজনিত সমস্যা কইলোনশিয়া। ৮. দুর্বলতা ও ক্লান্তিভাব। ৯. হজমে সমস্যা। ১০. পুরো শরীর ফুলে যাওয়া। ১১. পা ফুলে যাওয়া। ১২. শ্বাসকষ্ট। ১৩. অনিদ্রা কিংবা ঘুম কম হওয়া। ১৪. এনজাইনা। ১৫. হৃৎপিন্ড বড় হয়ে যাওয়া। ১৬. দ্রুত হার্টবিট। অ্যানিমিয়ার কারণ : দেহের হিমোগ্লোবিনে বিদ্যমান আয়রনই ফুসফুসে অক্সিজেন সংগঠিত করে ও দেহ কোষে এনার্জি বা শক্তির জন্য সেই অক্সিজেন ছড়িয়ে দেয়। তাই আয়রনের অভাবকে অ্যানিমিয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। কারণগুলো হচ্ছে : - অপর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন উৎপাদন। - অতিমাত্রায় লোহিত রক্তকণিকার ধ্বংস। - কৃমি, বিশেষ করে হুকওয়ার্মের কারণে সৃষ্ট আয়রনের অভাব ও রক্তক্ষরণ। - অতিরিক্ত মাসিক স্রাব। - ঘন ঘন গর্ভধারণ ও স্তন্যদান। - ফলিক এসিড, ভিটামিন এ ও ভিটামিন বি-১২ এর অভাব। - থ্যালাসেমিয়া অর্থাৎ জন্মগতভাবে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সমস্যা। - গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি। - হাইপোথইরয়ডিজম। - লিভার সমস্যা। - ম্যালেরিয়া জ্বর। - অ্যালকোহল পানীয় গ্রহণ। - মলের সঙ্গে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।
মানবদেহে রক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান৷ এই রক্তের উপাদানগুলোর মধ্যে লোহিত রক্ত কনিকা বা RBC (Red blood cell) এর ভিতরে রয়েছে হিমোগ্লোবিন নামক এই প্রোটিন যার গুরুত্ব অপরিসীম ৷ এটি ফুসফুস হতে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে বয়ে নিয়ে যায়৷ স্বাভাবিকভাবে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ পুরুষের জন্য ১৩.৫ থেকে ১৭.৫ এবং মহিলাদের জন্য ১২ থেকে ১৫ mg/dl৷ কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মহিলাদের ১০ বা তার বেশি হলেই আমরা তা স্বাভাবিক বলে ধরে নিই৷ কিন্তু যখনি তা ১০ এর কমে নামতে থাকে তা আমাদের জন্য ভাবনার কারণ৷ রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে যেসব সমস্যা দেখা দেয় তা হল : - যদি খুব কম পরিমাণ কমে তাহলে তেমন একটা পরিবর্তন দেখা যায় না, শুধু ঝিমঝিম ভাব থাকবে আর মাথা ঘুরাবে৷ - মাঝামাঝি পর্যায়ের কমলে আলসে ভাব হবে সব সময়, মাথাব্যথা করবে ঘনঘন, মনোযোগ কমে যাবে, দুর্বল লাগবে৷ - যদি খুব বেশি পরিমাণ কমে যায় তাহলে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, নাড়ি স্পন্দন বেড়ে যাবে, হৃদকম্পনও বেড়ে যাবে এবং সাথে বুকে ব্যথা ও বুক ধড়ফড় করবে৷ এছাড়া শরীর দেখেও বোঝা যায় যে হিমোগ্লোবিন কমে যাচ্ছে কিনা৷ এসময় হাতের তালু, নখ, মাড়ি এবং শরীর ফ্যাকাসে হয়ে যাবে৷ হাত পা ফুলে যাবে৷ অনেক ঘাম দিবে, বুক জ্বালাপোড়া করবে, বমি, পায়খানা দিয়ে রক্ত পড়বে৷ এ সমস্ত লক্ষণ যদি আপনার এবং আপনার পরিবার পরিচিত কারো দেখা দেয় তাহলে অতি দ্রুত আপনার নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্র বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন৷ সময়মত চিকিৎসা করালে রোগের ভয়াবহতা কমে যায়৷ ধন্যবাদ
হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন কে অঙ্গে বয়ে নিয়ে যায়। এর অভাব হলে ঝিমঝিম ভাব থাকবে আর মাথা ঘুরাবে, আলসে ভাব হবে সব সময়, মাথাব্যথা করবে ঘনঘন, মনোযোগ কমে যাবে, দুর্বল লাগবে৷ যদি খুব বেশি কমে যায় তাহলে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, হৃদকম্পন ও বেড়ে যাবে এবং সাথে বুকে ব্যথা ও বুক ধড়ফড় করবে৷
রক্তের সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে হিমোগ্লোবিন। আমরা শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে যে অক্সিজেন গ্রহন করি তা পুরো দেহে বহন করে নিয়ে যায় রক্তের হিমোগ্লোবিন। হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় দুটি প্রোটিন দিয়ে যার নাম আলফা প্রোটিন ও বিটা প্রোটিন। যখন এই প্রোটিন গুলোর উৎপাদন দেহে কমে যায় তখন দেহে হিমোগ্লোবিনের উৎপাদনও কমে যায়। এবং থ্যালাসেমিয়া রোগটি দেখা দেয়। আলফা ও বিটা প্রোটিন প্রধানত তৈরী হয় মানুষের জীন হতে। যখন বাবা মায়ের জীনে থ্যালাসেমিয়ার বাহক থাকে তখন বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানেরা বংশানুক্রমে একই জীন পায়। এবং তখনই মূলত থ্যালাসেমিয়া হতে দেখা দেয়। সুতরাং থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। এবং এটি প্রতিরোধের কোনো উপায় নেই। কারো কারো ক্ষেত্রে জীনের ত্রুটি খুবই সামান্য থাকে যে থ্যালাসেমিয়ার কোন লক্ষণই দেখা যায় না। তারা থ্যালাসেমিয়ার রোগী নন কিন্তু তাদেরকে থ্যালাসেমিয়ার বাহক বলা হয়। এক্ষেত্রে কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়না। কিন্তু, ভবিষ্যতে বিয়ের ব্যাপারে অনেক বেশি সাবধান থাকতে হয়। কেননা দুইজন থ্যালাসেমিয়া বাহকের বিয়ে হলে সন্তানকে এই রোগ নিয়ে জন্মাতে দেখা যায়। থ্যালাসেমিয়ার লক্ষন সমূহ - রোগী অবসাদ অনুভব করে থাকেন। - রোগী সাধারণত শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগে থাকেন। - অন্যান্য কোনো কারণ ছাড়াই পেট ফুলে যায় থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীর। - হিমোগ্লোবিনের অভাবে রক্তাভ ভাব কমে যায় এবং মুখ-মন্ডল ফ্যাকাশ হয়ে যায়। - ত্বক হলদেটে হয়ে যায় এবং গাঢ় রঙের প্রস্রাব হয়। অর্থাৎ জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দেয়। - শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কমে যেতে থাকে। এবং মাত্রাতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়েন রোগী। - মুখের হাড়ের বিকৃতি ঘটে। নাকের হাড় বসে যায় ভেতরের দিকে। বাংলাদেশে এর পরীক্ষা : যদি কারো মধ্যে এই ধরণের লক্ষণ দেখা দেয় এবং এর সাথে অন্য কোনো রোগের সংযোগ না থাকে তবে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। প্রথমে রক্ত পরীক্ষা করান। এতে যদি অ্যানিমিয়া অর্থাৎ রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন এটি আসলেই থ্যালাসেমিয়া কিনা। থ্যালাসেমিয়া শনাক্তকরণের জন্য যে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে তার নাম হচ্ছে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস। চট্টগ্রামের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই পরীক্ষাটি ৮০০-১০০০ টাকার মধ্যে করা হয়।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy