4 Answers
কাঁচা রসুন খাওয়া (খালি পেটে) দেহের জন্য ভীষণ স্বাস্থ্যকর একটি ব্যাপার। বরং খালি পেটে রসুন খেলে এমন কিছু উপকার হয়, যেটা অন্য খাবারের সাথে রান্না করা করা অবস্থায় খেলে হয় না। চলুন, জেনে নিই খালি পেটে রসুন কীভাবে খাবেন ও কেন খাবেন। কীভাবে খাবেন? খালি পেটে রসুন অবশ্যই খেতে হবে সকালে, নাস্তা করার আগে। চিবিয়ে খেতে না চাইলে পানি দিয়ে গিলে ফেলুন দুই কোয়া রসুন। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই টুকরো করে নেবেন। কেন খাবেন? খালি পেটে রসুন খেলে রসুনের কার্যকারিতা আরো বেড়ে যায়, এটি পরিণত হয় একটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকে। গবেষকদের মতে খালি পেটে রসুন খাওয়া হাইপারটেনশন ও স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে, অন্যদিকে হজমের গণ্ডগোল রোধ করে। স্ট্রেস থেকে পেটে গ্যাসের সমস্যা হলে সেটাও প্রতিরোধ করে খালি পেটে রসুন। অন্যদিকে পেটের গণ্ডগোল জনিত অসুখ, যেমন ডায়রিয়া হলে এই খালি পেটে রসুন দ্রুত তা সারিয়ে দেয়। সকালে খালি পেটে রসুন খাওয়া শরীরের রক্ত পরিশুদ্ধ করে ও লিভারের ফাংশন ভালো রাখতেও সহায়তা করে। সূত্র-healthyfoodteam.com See What Happens When You Eat Garlic On an Empty Stomach.
কাঁচা রসুনের উপকারিতাঃ১) হৃদপিণ্ডের সুস্থতায় কাজ করে। কোলেস্টেরল কমায়। এতে করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। ২) শিরা উপশিরায় প্লাক জমতে বাঁধা প্রদান করে। রক্ষাকরে শিরা উপশিরায় মেদ জমার মারাত্মক রোগ অথেরোস্ক্লেরোসিসের হাত থেকে। ৩) উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা দূর করে। ৪) গিঁট বাতের সমস্যা থেকে রক্ষা করে। ৫)ফ্লু এবং শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। ৬) অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দেহে খারাপ ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ, জন্ম এবং বংশবিস্তারে বাঁধা প্রদান করে। ৭) যক্ষ্মা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। ৮) দেহের বিভিন্ন অংশের পুঁজ ও ব্যথাযুক্ত ফোঁড়ার যন্ত্রণা কমায়। ৯) যৌনমিলনের অসাবধানতা বশত রোগ ট্রিকোমোনিয়াসিসের হাত থেকে রক্ষা করে। ১০) হজমশক্তি বাড়ায় ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। ১১) কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ১২) গলব্লাডার ক্যান্সার মুক্ত রাখে। ১৩) স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। ১৪) রেক্টাল ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করে।
রসুনের ঔষধি গুন অনেক। রান্না করে খাওয়ার চেয়ে রসুন কাচা খেলেই উপকার বেশি। সেইজন্য আপনাকে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে তিন চার কোয়া রসুন চিবিয়ে বা গিলে খেতে হবে। রসুন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে ব্লাডপ্রেশার থেকে মুক্তি দেয় এবং বহু রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরিল সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
রসুন রান্না করে অথবা কাঁচা ও খাওয়া যায়, তবে কাঁচা রসুন প্রতিদিন ২ কোয়ার বেশি খাওয়া মোঠেই ঠিক নয়, তবে রসুনের উপকারিতাই সবচেয়ে বেশি। এটি শরিরে এন্টিবায়োটিকের মতোই কাজ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে অনেক অসুখ-বিসুকের সাথে লড়াই করে। তাই নিয়মিতভাবে খাদ্য তালিকায় রসুন রাখা উচিত।