1 Answers
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় রোববার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস- বিসিএস পরীক্ষার নতুন বিধিমালা জারি করেছে। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ‘প্রিলিমিনারি’ (বাছাই) পরীক্ষা হবে ২০০ নম্বরের। পরীক্ষা চলবে ২ ঘণ্টা। এতে আবেদনের ফি’র পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।
পরিবর্তীত বা নতুন পরীক্ষা পদ্ধতির সিলেবাস কী হবে- তা জানার জন্য দেশের হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিত বেকার ব্যাকুল। তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এ ব্যাপারে অনেকেই সংবাদপত্রের অফিসেও ফোন করছেন। কিন্তু নতুন বিধিমালায় এ ব্যাপারে বিস্তারিত নেই। এটা নির্ধারণের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে সরকারি কর্মকমিশনকে (পিএসসি)।
জানতে চাওয়া হলে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘শুনেছি পরীক্ষা পদ্ধতির বিধিমালার গেজেট জারি হয়েছে। এখনও তা হাতে পাইনি। পাওয়ার পর কমিশনের সভায় তা পর্যালোচনা করে দু’চারদিনের মধ্যে ৩৫তম বিসিএসের সার্কুলার জারি করা হবে।’ এ সময় তিনি জানান, এই বিধিমালার ফলে ক্যাডার সার্ভিস আগের চেয়ে অনেক দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা পাবে। এর ফলে সার্বিকভাবে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।
তিনি নিশ্চিত করেন, প্রস্তাবিত বিধিমালায় প্রিলিমিনারি পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পূর্ণ নম্বর আগের মতোই থাকবে। তিনি আরও বলেন, তবে লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে অনেক স্পষ্টতা আনা হয়েছে। প্রিলিমিনারি এবং লিখিত উভয় পরীক্ষার ব্যাপারে বিস্তারিত সিলেবাস প্রকাশ করা হবে। আগে শিক্ষার্থীদের সীমাহীন লেখাপড়া করতে হতো। এখনও অনেক পড়তে হবে। তবে একজন পরীক্ষার্থী জানতে পারবে তাকে কী কী পড়তে হবে।
সরকারি ক্যাডার সার্ভিসের জন্য যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের উদ্দেশ্যে বিসিএস পরীক্ষা এতদিন ১৯৮২ সালের বিধিমালা অনুযায়ী নেয়া হচ্ছিল। পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংশোধন এনে রোববার ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪’ শীর্ষক গেজেট জারি করা হয়।
বর্তমানে বিসিএসের বাছাই পরীক্ষা হয় এমসিকিউ পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরে। এক ঘণ্টার এই পরীক্ষায় প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর দেয়া হয় এবং প্রতি দুটি ভুল উত্তরের জন্য ১ নম্বর কাটা হয়। নতুন বিধিমালায় পূর্ণ নম্বর ২০০ করা হয়েছে। এমসিকিউ প্রশ্নের ক্ষেত্রে ভুল উত্তরের জন্য নেতিবাচক নম্বর প্রদানের বিষয়টিও রয়েছে। এছাড়া লিখিত পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের কম পেলে প্রার্থী শূন্য পেয়েছেন বলে ধরা হবে। আগের বিধিমালায় এটা ছিল ২৫। আর মৌখিক পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় পরীক্ষার আবেদনপত্রের মূল্য ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত তথা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীদের জন্য ২৫০ টাকা থেকে কমিয়ে আবেদনপত্রের মূল্য ১০০ টাকা করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিসিএসের নিয়োগ বিধি সংশোধনের প্রস্তাব প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদনের পর নিয়ম অনুযায়ী পিএসসির মতামত নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য পাঠানো হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেয়া হয়। এরপরই তা গেজেট আকারে জারি করা হয়।
সাধারণত প্রতিটি বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় গড়ে দেড় লাখের বেশি প্রার্থী অংশ নেন। এরপর লিখিত পরীক্ষায় একসময়ে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার চাকরিপ্রার্থী অংশ নিত। ঝামেলা কমাতে গত কয়েক বিসিএসে অবশ্য এই সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। যদিও এ ক্ষেত্রে কোটার প্রার্থীদের প্রিলিমিনারিতেই আলাদাভাবে নির্বাচন করে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদের শুরু থেকেই সুযোগ করে দেয়া হচ্ছিল। এক সময়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর সমানসংখ্যক মেধাবীদের মধ্য থেকে কোটার প্রার্থী নির্বাচিত করা হতো।
পিএসসি সাধারণত প্রতি বছর একটি করে বিসিএস পরীক্ষা নেয়। কিন্তু নতুন নিয়োগ বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ার কারণে দেড়বছরেরও বেশি দিন ধরে ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হচ্ছে না। সর্বশেষ গত বছরের ৭ ফেব্র“য়ারি ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এই বিলম্বের কারণে বেকার চাকরি প্রার্থীরা সার্কুলারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
গত ৯ ফেব্র“য়ারি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বেগম ইসমাত আরা সাদেক জাতীয় সংসদে বলেন, ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৭৪৯ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে। সার্বিক ব্যাপারে রোববার সন্ধ্যায় পিএসসির চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেও যদি সরকার নতুন করে পদের চাহিদা পাঠায়, তাহলে তারা পদের সংখ্যা বাড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি দেবেন। এমনিতে ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি তারা প্রস্তুত করে রেখেছেন।
সুত্রঃ যুগান্তর
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy