2 Answers
জবাবে বলব, এর পেছনে অনেক রহস্য নিহিত আছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: ১. আল্লাহ তওবাকারীকে ভালবাসেন। পাপ না থাকলে সেটি সম্ভব হত না। ২. আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি অনুগ্রহ করতে চান। তিনি পাপীকে ক্ষমা করেন, তার কৈফিয়ত শোনেন। কিন্তু পাপ না থাকলে সেটি সম্ভব হত কি? ৩. পাপ থাকার কারণে বান্দা আল্লাহ কর্তৃক তার নিজের হেফাযতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে। কেননা আল্লাহ যদি তাকে পাপাচার থেকে রক্ষা না করেন, তাহলে তার বাঁচার কোন উপায় নেই, তার ধ্বংস অনিবার্য। ৪. এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ্র অনুগ্রহ, গোপনীয়তা রক্ষা, অসীম ধৈর্য্যের কথা জানতে পারে। কারণ আল্লাহ চাইলে বান্দার গোপন পাপাচার ফাঁস করে দিতে পারেন, তাকে দ্রুত শাস্তি দিয়ে ধ্বংস করে দিতে পারেন। ৫. পাপের মাধ্যমে বান্দা তওবা কবূলের ক্ষেত্রে আল্লাহ্র অনুগ্রহের কথা জানতে পারে। কেননা আল্লাহই তাকে তওবা করার তাওফীক্ব দান করেছেন; অতঃপর তার তওবা কবূলও করেছেন। আল্লাহ্র ক্ষমা, অনুগ্রহ ছাড়া বান্দার মুক্তির কোন পথ নেই। ৬. পাপ থাকার কারণে বান্দা শয়তানের সাথে সার্বক্ষণিক যুদ্ধ করতে পারে এবং সে তাকে ক্রোধাণ্বিত করতে পারে। কারণ শয়তান বান্দাকে দিয়ে সর্বদা পাপ কাজ করিয়ে নিতে চায়; কিন্তু বান্দা যখন পাপ বর্জন করে চলতে পারে, তখন শয়তান রাগাণ্বিত এবং ব্যর্থ হয়ে যায়। ইবনুল ক্বাইয়িম (রহেমাহুল্লাহ) এছাড়াও আরো অনেকগুলি হিকমতের কথা উল্লেখ করেছেন।[120] [120]. ইবনুল ক্বাইয়িম, মিফতাহু দারিস সা‘আদাহ, (বৈরূত: দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ, প্রকাশকাল: ১৯৯৮ ইং), ২/২৯৭-৩১২।
নেকের মূল্য বৃদ্ধির জন্য পাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কেননা অন্ধকার না থাকেল আলোর মূল্য বুঝা যেত না।