1 Answers
দু'টি শর্তে হায়েয প্রতিরোধ করে এমন ঔষধ ব্যবহার করা জায়েয:
১ম শর্ত: ঔষধ ব্যবহারে কোন রকম ক্ষতির আশঙ্কা না থাকা। যদি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তাহলে ব্যবহার করা জায়েয হবে না। কেননা পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
وَلاَ تُلْقُواْ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ১৯৫) سورة البقرة
"তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে পতিত করো না।" [সূরা আল-বাকারাহ: ১৯৫]
এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করেছেন:
وَلاَ تَقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا ২৯) سورة النساء
"তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।" [সূরা আন-নিসা: ২৯]
২য় শর্ত: হায়েয বা রক্তস্রাবের সাথে স্বামীর যদি কোন হক সম্পৃক্ত থাকে তাহলে অবশ্যই তার অনুমতি নিয়েই ঔষধ ব্যবহার করতে হবে। যেমন স্ত্রী তালাক প্রাপ্তা হওয়ার পর ইদ্দত পালন করে চলছে এবং ইদ্দত পালনকালে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ স্বামীর উপর ওয়াজিব। এমতাবস্থায় ইদ্দতকাল দীর্ঘ করে ভরণ-পোষণ বেশী পাওয়ার উদ্দেশ্যে যদি স্ত্রী হায়েয প্রতিরোধ করার জন্য ঔষধ ব্যবহার করতে চায় তাহলে এক্ষেত্রে অবশ্যই স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। স্বামী অনুমতি দিলে করতে পারবে, অন্যথায় পারবে না।
এমনিভাবে যখন প্রমাণিত হবে যে, হায়েয রোধ করলে স্ত্রীর গর্ভ ধারণ করা সম্ভব নয় তাহলে তখনও ঔষধ ব্যবহারের জন্যে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে।
উপরোক্ত দু'টি শর্ত মোতাবেক হায়েয প্রতিরোধক ঔষধ ব্যবহার করা জায়েয। মনে রাখতে হবে, জায়েয হওয়ার পরেও বিশেষ প্রয়োজন ব্যতিরেকে ব্যবহার না করাই উত্তম। কেননা প্রাকৃতিক বিষয়কে তার গতিতে ছেড়ে দেয়া শারীরিক সুস্থতার পক্ষে খুবই মঙ্গল জনক।
3123 views
Answered