1 Answers

ঠান্ডার কারনে দুই দিন পর্যন্ত ফরজ গোসল না করা শরীয়ত সম্মত কোন ওজর নয়। ঠান্ডার সময় কেউ যদি নাপাক হয়, সে তায়াম্মুম করবে। তবে শর্ত হচ্ছেঃ

নাপাক হলেই গোসল করা ওয়াজিব। কেননা আল্লাহ বলেন, “তোমরা যদি অপবিত্র হও, তবে পবিত্রতা অর্জন কর।” (সূরা মায়িদাঃ ৬)

কিন্তু যদি শীত প্রচন্ড হয় এবং ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে সক্ষম না হয়, তবে সম্ভব হলে পানি গরম করে নিবে। আর পানি ব্যবহারে যদি রোগ বৃদ্ধির আশংকা থাকে, যদি কোন বিপদ বা জীবনের ঝুঁকি থাকে ইত্যাদি। উক্ত কারণ সমূহের প্রেক্ষিতে ফরজ গোসলের পরিবর্তে প্রয়োজনে দীর্ঘদিন যাবৎ একটানা ‘তায়াম্মুম’ করা যাবে।

অবস্থার আলোকে যদি পানি না পাওয়া যায় বা কেউ অসুস্থ হয়ে পানি ব্যবহারে একেবারে অপারগ হয়, সে সময়ে গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করবে। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন,

অর্থ : যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করো, অতঃপর পানি না পাও, তাহলে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও। আল্লাহ তোমাদের অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদের পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ করো। (সুরা মায়িদাঃ ৬)।

সব সময়ই মনে রাখতে হবে, গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও বিনা ওজরে গোসল না করে অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়া মারাত্মক গোনাহ।

এক্ষেত্রে শীত, তীব্র লজ্জা কিংবা গোসলের পরিবেশ নাই মনে করা শরিয়তসম্মত ওজর নয়। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/১৫১)।

হজরত নওফেল বিন মুআবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যার নামাজ কাজা হয়ে গেল, যেন তার পরিবার ও সম্পদ সবই ধ্বংস হয়ে গেল। (মুসনাদে আহমাদঃ ২৩৬৪২)।

2640 views

Related Questions