3 Answers
♥বিসমিল্লাহির-রহমানির-রহীম ♥♥ ভাই, আপনি যে প্রশ্ন করেছেন সেটা অনেক বড় উত্তর ভাই ৷ বিধায় সংক্ষিপ্ত করে সহীহ হাদীস দ্বারা দিলাম ইনশাআল্লাহ্ ৷ ♥♥ এক নযরে ছালাতের পদ্ধতি : মুছল্লী ওযূ করার পর মনে মনে ছালাতের সংকল্প করবে। অতঃপর ক্বিবলামুখী হয়ে ছালাতে দাঁড়িয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে ‘তাকবীরে তাহরীমা’ সহ দু’হাত কান অথবা কাঁধ বরাবর উঠিয়ে বুকের উপর বাঁধবে।[1] এ সময় বাম হাতের উপরে ডান হাত কনুই বরাবর রাখবে অথবা বাম হাতের কব্জির উপরে ডান হাতের কব্জি রেখে বুকের উপরে হাত বাঁধবে।[2] জামা‘আতের সাথে ছালাত আদায় করলে কাতারের মাঝে পরস্পরের পায়ের সাথে পা, টাখনুর সাথে টাখনু এবং কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে।[3] সেই সাথে সিজদা বা তার এরিয়ার মধ্যে দৃষ্টি রাখবে।[4] অতঃপর ছানা পাঠ করবে- اَللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِىْ وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اَللَّهُمَّ نَقِّنِىْ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ اَللَّهُمَّ اغْسِلْ خَطَايَاىَ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَد. অনুবাদ : হে আল্লাহ! আপনি আমার ও আমার গোনাহ সমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেমন দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে পরিচ্ছন্ন করুন গোনাহ সমূহ হতে, যেমন পরিচ্ছন্ন করা হয় সাদা কাপড় ময়লা হতে। হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহ সমূহকে ধুয়ে ছাফ করে দিন পানি দ্বারা, বরফ দ্বারা ও শিশির দ্বারা’।[5] ছানা পাঠ শেষ করে ‘আ‘ঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্ব-নির রজীম মিন হামযিহী, ওয়া নাফখিহী ওয়া নাফছিহী[6] ও ‘বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম’ সহ সূরা ফাতিহা পাঠ করবে।[7] এভাবে পড়বে প্রথম রাক‘আতে। পরের রাক‘আতগুলো ‘বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম’ বলে সূরা ফাতিহা শুরু করবে। জেহরী ছালাতে ‘বিসমিল্লাহ’ নীরবে পড়বে[8] এবং ফাতিহা শেষে উচ্চৈঃস্বরে ‘আমীন’ বলবে।[9] জেহরী ছালাতে মুক্তাদীগণ ইমামের সাথে সাথে শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে।[10] ক্বিরাআত শেষে ইমাম আমীন বলা শুরু করলে মুক্তাদীও তার সাথে মিলে এক সঙ্গে আমীন বলবে।[11] উল্লেখ্য, ইমামের আমীন বলার আগেই মুক্তাদীর আমীন বলার যে অভ্যাস চালু তা বর্জন করতে হবে। ক্বিরাআত : সূরা ফাতিহা পাঠ শেষে ইমাম হলে কিংবা মুছল্লী একাকী হলে প্রথম দু’রাক‘আতে কুরআন থেকে অন্য সূরা বা কিছু আয়াত পাঠ করবে। তবে মুক্তাদী হলে জেহরী ছালাতে ইমামের সাথে সাথে শুধু সূরা ফাতিহা পড়বে। অতঃপর ইমামের ক্বিরাআত মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করবে।[12] আর যোহর ও আছরের ছালাতে ইমাম মুক্তাদী উভয়ে প্রথম দুই রাক‘আতে সূরা ফাতিহা সহ অন্য সূরা পড়বে।[13] আর শেষের দু’রাক‘আতে কেবল সূরা ফাতিহা পাঠ করবে।[14] রুকূ : ক্বিরাআত শেষে ‘আল্লা-হু আকবার’ বলে দু’হাত কান কিংবা কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে ‘রাফ‘উল ইয়াদায়েন’ করে রুকূতে যাবে।[15] হাঁটুর উপরে দু’হাতে ভর দিয়ে পিঠ ও মাথা সোজা রাখবে। এ সময় বাহুসহ দুই হাত ও হাঁটুসহ দুই পা শক্ত করে সোজা রাখবে।[16] অতঃপর রুকূর দু‘আ পড়বে।[17] কওমা : অতঃপর রুকূ থেকে উঠে সোজা হয়ে প্রশান্তির সাথে দাঁড়াবে এবং কান বা কাঁধ বরাবর দুই হাত উঠিয়ে ‘রাফ‘উল ইয়াদায়েন’ করবে।[18] এ সময় ‘সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ’ বলে দু‘আ পাঠ করবে।[19] তারপর বলবে- رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ ‘রববানা লাকাল হাম্দ’ বলবে। অথবা বলবে- رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُّبَارَكًا فِيْهِ ‘রববানা ওয়া লাকাল হাম্দু হাম্দান কাছীরান ত্বাইয়েবাম মুবা-রাকান ফীহি’।[20] সেই সাথে দুই হাত স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে দিবে।[21] সিজদা : অতঃপর ‘আল্লা-হু আকবর’ বলে প্রথমে দু’হাত ও পরে দু’হাঁটু মাটিতে রেখে সিজদায় যাবে ও দু‘আ পড়বে।[22] এ সময় হাত দু’খানা ক্বিবলামুখী করে মাথার দু’পাশে কাঁধ বরাবর মাটিতে রাখবে।[23] হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখবে।[24] কনুই উঁচু রাখবে ও বগল ফাঁকা রাখবে।[25] হাঁটু বা মাটিতে ঠেস দিবে না।[26] সিজদা লম্বা হবে ও পিঠ সোজা থাকবে। যেন নীচ দিয়ে একটি বকরীর বাচ্চা যাওয়ার মত ফাঁকা থাকে।[27] দুই পা খাড়া করে এক সঙ্গে মিলিয়ে রাখবে।[28] এ সময় আঙ্গুলগুলো ক্বিবলামুখী করে রাখবে।[29] অতঃপর سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى বলবে কমপক্ষে তিনবার বলবে।[30] সিজদাতে পঠিতব্য আরো দু‘আ আছে। সিজদা থেকে উঠে বাম পায়ের পাতার উপরে বসবে ও ডান পায়ের পাতা খাড়া রাখবে। এ সময় প্রশান্তির সাথে বসবে এবং বলবেاَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِىْ وَارْحَمْنِىْ وَاجْبُرْنِىْ وَاهْدِنِىْ وَعَافِنِىْ وَارْزُقْنِىْ ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার উপরে রহম করুন, আমার অবস্থার সংশোধন করুন, আমাকে সৎপথ প্রদর্শন করুন, আমাকে সুস্থতা দান করুন ও আমাকে রূযী দান করুন’।[31] অতঃপর ‘আল্লা-হু আকবর’ বলে দ্বিতীয় সিজদায় যাবে ও দু‘আ পড়বে। ২য় ও ৪র্থ রাক‘আতে দাঁড়ানোর সময় সিজদা থেকে উঠে শান্তভাবে বসবে। অতঃপর মাটিতে দু’হাত রেখে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।[32] উল্লেখ্য যে, রুকূ ও সিজদায় কুরআন থেকে কোন দু‘আ পড়বে না।[33] বৈঠক : ২য় রাক‘আত শেষ করার পর বৈঠকে বসবে। ১ম বৈঠক হলে কেবল ‘আত্তাহিইয়া-তু’ পড়বে।[34] তারপর মাটির উপর দুই হাত রেখে ভর দিয়ে ৩য় রাক‘আতের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে।[35] আর যদি শেষ বৈঠক হয়, তবে ‘আত্তাহিইয়া-তু’ পড়ার পরে দরূদ, দু‘আয়ে মাছূরাহ পড়বে।[36] ১ম বৈঠকে বাম পায়ের পাতার উপরে বসবে এবং শেষ বৈঠকে ডান পায়ের তলা দিয়ে বাম পায়ের অগ্রভাগ বের করে নিতম্বের উপরে বসবে এবং ডান পা খাড়া রাখবে ও আঙ্গুলগুলো ক্বিবলামুখী করবে।[37] এ সময় আঙ্গুলগুলো সাধারণভাবে খোলা রাখবে।[38] বৈঠকের সময় বাম হাতের আঙ্গুল বাম হাঁটুর উপর ক্বিবলামুখী করে রাখবে। আর ডান হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল মধ্যমা আঙ্গুলের পিঠে রেখে মুষ্টিবদ্ধ করে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত ইশারা করবে।[39] অন্য হাদীছে এসেছে, ৫৩-এর ন্যায় মুষ্টিবদ্ধ রেখে সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত শাহাদাত অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতে থাকবে।[40] এ সময় শাহাদাত আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টি রাখবে।[41] দুই তাশাহ্হুদেই ইশারা করবে।[42] ‘আত্তাহিইয়া-তু’, ‘দরূদ’, দু‘আ মাছূরা ও অন্যান্য দু‘আ পড়া শেষ করে ডানে ও বামে ‘আসসালামু আলায়কুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলে সালাম ফিরাবে।[43] উল্লেখ্য যে, প্রথম সালামের সাথে ‘ওয়া বারাকা-তুহু’ যোগ করা যায়।[44] সালাম ফিরিয়ে প্রথমে সরবে একবার ‘আল্লা-হু আকবর’ বলবে।[45] তারপর তিনবার বলবে ‘আস্তাগফিরুল্লা-হ’। সেই সাথে বলবে اَللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالْإِكْرَامِ. ‘হে আল্লাহ আপনিই শান্তি, আপনার থেকেই আসে শান্তি। বরকতময় আপনি, হে মর্যাদা ও সম্মানের মালিক’।[46] এ সময় ইমাম হলে প্রত্যেক ছালাতে ডানে অথবা বামে ঘুরে সরাসরি মুক্তাদীদের দিকে মুখ করে বসবে।[47] অতঃপর ইমাম মুক্তাদী সকলে সালামের পরের যিকির সমূহ পাঠ করবে।[48] সালাম ফিরানোর পর পরই দ্রুত উঠে যাবে না। এটা বদ অভ্যাস।[49] বরং এ সময় ‘আয়াতুল কুরসী’সহ অন্যান্য দু‘আ পাঠ করবে।[50] এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা দেখুন : লেখক প্রণীত ‘শারঈ মানদন্ডে মুনাজাত’ বই ৷ ♥রেফারেন্স: [1]. মুসলিম হা/৯১২, ১/১৭০ পৃঃ, (ইফাবা হা/৭৬৯); বুখারী হা/৬৬৬৭, ২/৯৮৬ পৃঃ; মিশকাত হা/৭৯০; বুখারী হা/৭৩৫; মিশকাত হা/৭৯৩; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৭৩৭, ২/২৫২ পৃঃ; ছহীহ মুসলিম হা/৮৯১; আবুদাঊদ হা/৭২৬, ৭৪৫; ইরওয়াউল গালীল হা/৩৫১, ২/৬৬ পৃঃ। [2]. ছহীহ বুখারী হা/৭৪০, ১/১০২ পৃঃ, (ইফাবা হা/৭০৪, ২য় খন্ড, পৃঃ ১০২); নাসাঈ হা/৮৮৯, ১/১০২ পৃঃ; আবুদাঊদ হা/৭২৭, ১/১০৫ পৃঃ; আহমাদ হা/১৮৮৯০; ছহীহ ইবনে খুযায়মাহ হা/৪৮০; ইবনু হিববান হা/১৮৬০, সনদ ছহীহ। [3]. আবুদাঊদ হা/৬৬৬, ১ম খন্ড, পৃঃ ৯৭, সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/১১০২, পৃঃ ৯৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/১০৩৪, ৩/৬১ পৃঃ; আবুদাঊদ হা/৬৬২, ১ম খন্ড, পৃঃ ৯৭, সনদ ছহীহ; ছহীহ বুখারী হা/৭২৫, ১ম খন্ড, পৃঃ ১০০, (ইফাবা হা/৬৮৯, ২/৯৫ পৃঃ); ত্বাবারাণী, আল-মু‘জামুল আওসাত্ব হা/৫৭৯৫; মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ হা/৩৮২৪; সনদ ছহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৮৯২। [4]. মুস্তাদরাক হাকেম হা/১৭৬১; বায়হাক্বী, সনানুল কুবরা হা/১০০০৮; ছিফাতু ছালাতিন নবী, পৃঃ ৮৯; সনদ ছহীহ, ইরওয়াউল গালীল হা/৩৫৪-এর আলোচনা দ্রঃ। [5]. বুখারী হা/৭৪৪, ১/১০২ পৃঃ, (ইফাবা হা/৭০৮, ২/১০৩ পৃঃ); মিশকাত হা/৮১২, পৃঃ ৭৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৭৫৬, ২/২৬৬ পৃঃ। [6]. আবুদাঊদ হা/৭৭৫, ১/১১৩ পৃঃ; তিরমিযী হা/২৪২, ১/৫৭ পৃঃ; সূরা নাহল ৯৮; ছিফাতু ছালাতিন নাবী, পৃঃ ৯৫। [7]. ছহীহ বুখারী হা/৭৫৬, ১/১০৪ পৃঃ, (ইফাবা হা/৭২০, ২/১০৯ পৃঃ), ‘আযান’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৯৫; ছহীহ মুসলিম ১/১৬৯ পৃঃ, মুসলিম হা/৯০০, ৯০১, ৯০২, ৯০৪, ৯০৬, ৯০৭ (ইফাবা হা/৭৫৮, ৭৫৯, ৭৬০, ৭৬২); মিশকাত পৃঃ ৭৮, হা/৮২২ ও ৮২৩; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৭৬৫, ২/২৭২ পৃঃ, ‘ছালাতে ক্বিরআত পাঠ করা’ অনুচ্ছেদ; দারাকুৎনী হা/১২০২; বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/২৪৮৬; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১১৮৩; ছহীহুল জামে‘ হা/৭২৯। [8]. বুখারী হা/৭৪৩, ১/১০৩ পৃঃ. (ইফাবা হা/৭০৭, ২/১০৩ পৃঃ); মুসলিম হা/৯১৪; মিশকাত হা/৮২৪ ও ৮২৩; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৭৬৭ ও ৭৬৬, ২/২৭৩ পৃঃ। [9]. বুখারী হা/৭৮০, ১ম খন্ড, পৃঃ ১০৭, (ইফাবা হা/৭৪৪ ও ৭৪৬, ২/১২১ পৃঃ); মুসলিম হা/৯৪২, ১ম খন্ড, পৃঃ ১৭৬; আবুদাঊদ হা/৯৩২ ও ৯৩৩, ১/১৩৫ পৃঃ; তিরমিযী হা/২৪৮, ১/৫৭ ও ৫৮ পৃঃ; ইবনু মাজাহ হা/৮৫৬। [10]. বুখারী হা/৭৫৬, ১/১০৪ পৃঃ, (ইফাবা হা/৭২০, ২/১০৯ পৃঃ); মুসলিম হা/৯০০, ৯০১, ৯০২, ৯০৪, ১/১৬৯, (ইফাবা হা/৭৫৮, ৭৫৯, ৭৬০, ৭৬২); ছহীহ ইবনু হিববান হা/১৮৪১; মুসনাদে আবী ইয়ালা হা/২৮০৫। [11]. বুখারী হা/৭৮০, ১ম খন্ড, পৃঃ ১০৭, (ইফাবা হা/৭৪৪ ও ৭৪৬, ২/১২১ পৃঃ); মুসলিম হা/৯৪২, ১ম খন্ড, পৃঃ ১৭৬; আবুদাঊদ হা/৯৩২ ও ৯৩৩, ১/১৩৫ পৃঃ; তিরমিযী হা/২৪৮, ১/৫৭ ও ৫৮ পৃঃ; ইবনু মাজাহ হা/৮৫৬। [12]. বুখারী হা/৭৫৬, ১/১০৪ পৃঃ, (ইফাবা হা/৭২০, ২/১০৯ পৃঃ); মুসলিম হা/৯০০, ৯০১, ৯০২, ৯০৪, ১/১৬৯, (ইফাবা হা/৭৫৮, ৭৫৯, ৭৬০, ৭৬২); ছহীহ ইবনু হিববান হা/১৮৪১; মুসনাদে আবী ইয়ালা হা/২৮০৫। [13]. ইবনু মাজাহ হা/৮৪৩, পৃঃ ৬১; সনদ ছহীহ, আলবানী, ইরওয়াউল গালীল হা/৫০৬, ২/২৮৮ পৃঃ। [14]. বুখারী হা/৭৭৬, ১/১০৭ পৃঃ; মিশকাত হা/৮২৮, পৃঃ ৭৯। [15]. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, ছহীহ বুখারী হা/৭৩৫, ১ম খন্ড, পৃঃ ১০২; এছাড়া হা/৭৩৬, ৭৩৭, ৭৩৮, ৭৩৯ দ্রঃ, (ইফাবা হা/৬৯৯-৭০৩, ২/১০০-১০১ পৃঃ); ছহীহ মুসলিম হা/৮৮৭, ৮৮৮, ৮৮৯, ৮৯০, ৮৯১, ১ম খন্ড, পৃঃ ১৬৮, (ইফাবা হা/৭৪৫-৭৪৯)। [16]. মুসলিম হা/১১৩৮; মিশকাত হা/৭৯১; বুখারী হা/৮২৮; মিশকাত হা/৭৯২; আবুদাঊদ হা/৮৫৯। [17]. বুখারী হা/৭৯৪ ও ৮১৭; ইবনু মাজাহ হা/৮৮৮; সনদ ছহীহ, ইরওয়াউল গালীল হা/৩৩৩। [18]. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, ছহীহ বুখারী হা/৭৩৫, ১ম খন্ড, পৃঃ ১০২; এছাড়া হা/৭৩৬, ৭৩৭, ৭৩৮, ৭৩৯ দ্রঃ; ছহীহ মুসলিম হা/৮৮৭, ৮৮৮, ৮৮৯, ৮৯০, ৮৯১, ১ম খন্ড, পৃঃ ১৬৮। [19]. বুখারী হা/৭৯৫। [20]. বুখারী হা/৭৯৯; মিশকাত হা/৮৭৭....
আপনি এভাবে নামাজ সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা লাভ করতে পারবেন না বরং বিভ্রান্ত হবেন* তাই আপনি আপনার পরিচিত কোনো লাইব্রেরী থেকে ভালো একটি নামাজ শিক্ষার বই কিনুন তাতে আপনি নামাজ পড়ার নিয়ম এবং সূরা পড়ার নিয়মসহ আরো অনেক কিছু পাবেন* ধন্যবাদ
নামাজের নিয়ম:নামাজ দাঁড়িয়ে পড়তে হয়। নামাজের ধাপ বা অংশকে রাকাত বলা হয়। প্রতি রাকাতের শুরুতে সুরা ফাতিহা ও অপর একটি সুরা পাঠের পর রুকু করতে হয় অর্থাৎ হাঁটুতে হাত রেখে ভর দিয়ে পিঠ আনুভূমিক করে অবনত হতে হয়। রুকু থেকে দাঁড়িয়ে তারপর সিজদা দিতে হয়। তিন বা চার রাকাতের নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদার পর বসে "আত্তাহিয়াতু" দোয়া পড়তে হয়। নামাজের শেষ রাকাতে সিজদার পর বসে "আত্তাহিয়াতু" দোয়ার সাথে "দরূদ শরীফ" পড়তে হয়। নামাজের শেষভাগে দুই দিকে সালাম ফেরাতে হয়। এর পর দলবদ্ধভাবে মুনাজাত বা প্রার্থনা করা হয়ে থাকে। নামাজের কিছু নিয়ম পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মাযহাবের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কিছু সুরা: সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ১ بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ উচ্চারণঃ বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। অর্থঃ শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ২ ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ উচ্চারণঃ আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন। অর্থঃ যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ৩ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ উচ্চারণঃ আররাহমা-নির রাহীম। অর্থঃ যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ৪ مَٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ উচ্চারণঃ মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন। অর্থঃ যিনি বিচার দিনের মালিক। সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ৫ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ উচ্চারণঃ ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন। অর্থঃ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ৬ ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ উচ্চারণঃ ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম। অর্থঃ আমাদেরকে সরল পথ দেখাও। সূরা আল ফাতিহা (الفاتحة), আয়াত: ৭ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ উচ্চারণঃ সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম । গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন। অর্থঃ সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। সূরা মাউন (الماعون), আয়াত: ১ أَرَءَيْتَ ٱلَّذِى يُكَذِّبُ بِٱلدِّينِ উচ্চারণঃ আরাআইতাল্লাযী ইউকাযযি বুবিদ্দীন। অর্থঃ আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে বিচারদিবসকে মিথ্যা বলে? সূরা মাউন (الماعون), আয়াত: ২ فَذَٰلِكَ ٱلَّذِى يَدُعُّ ٱلْيَتِيمَ উচ্চারণঃ ফাযা-লিকাল্লাযী ইয়াদু‘‘উল ইয়াতীম। অর্থঃ সে সেই ব্যক্তি, যে এতীমকে গলা ধাক্কা দেয়। সূরা মাউন (الماعون), আয়াত: ৩ وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلْمِسْكِينِ উচ্চারণঃ ওয়ালা-ইয়াহুদ্দু‘আলা-তা‘আ-মিল মিছকীন। অর্থঃ এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহিত করে না। সূরা মাউন (الماعون), আয়াত: ৪ فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ উচ্চারণঃ ফাওয়াইঁলুলিলল মুসাল্লীন। অর্থঃ অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাযীর, সূরা মাউন (الماعون), আয়াত: ৫ ٱلَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ উচ্চারণঃ আল্লাযীনাহুম ‘আন সালা-তিহিমি ছা-হূন। অর্থঃ যারা তাদের নামায সম্বন্ধে বে-খবর; সূরা মাউন (الماعون), আয়াত: ৬ ٱلَّذِينَ هُمْ يُرَآءُونَ উচ্চারণঃ আল্লাযীনা হুম ইউরাঊনা। অর্থঃ যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে সূরা মাউন (الماعون), আয়াত: ৭ وَيَمْنَعُونَ ٱلْمَاعُونَ উচ্চারণঃ ওয়া ইয়ামনা‘ঊনাল মা-‘ঊন। অর্থঃ এবং নিত্য ব্যবহার্য্য বস্তু অন্যকে দেয় না।