এই প্রশ্নটির উত্তর আপনারা ইসলামিক ভাবে দিবেন।আর হ্যাঁ এই রকম উত্তর আপনারা আমাকে ইউটিউব ভিডিও থেকে সংগ্রহ করে দিতে পারেন।
2692 views

2 Answers

পরীক্ষার হলে গিয়ে সিটের উপরে আল্লাহর কোনো গুণবাচক নাম বা অন্য কিছু লিখে আপনি কোনো উপকার পাবেন___এমন কথাগুলো একটা কুসংস্কার । ইসলাম কুসংস্কারকে আশ্রয় দেয় না ভাইয়া । এরপরও সিটের উপরে এসব লিখে তারপরে যদি আপনি তার উপরে বসেন তা অবশ্যই নিকৃষ্ট কাজ হবে এবং আল্লাহ অপমাণিত হতে পারেন । তার পরিণতি উপলব্ধি করতে পারবেন নিজেই ।

2692 views

প্রিয় প্রশ্নকর্তা ভাই!! এসব ভিত্তিহীন ও কুসংস্কার মাত্র।ইসলামে এসবের কোন স্থান নেই!

আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে,কুসংস্কার কি?/কাকে বলে?কুসংস্কার বলে নিছক ধারণা ও কল্পনা ভিত্তিক প্রমাণহীন বিশ্বাস এবং সেই বিশ্বাস-প্রসূত ভিত্তিহীন প্রথা ও কর্ম।অনুরূপ আপনার এই কথাটিও ইসলামের কোন দলিল ভিত্তিক নয়!এটা একটা ভিত্তিহীন কথা৷ 

যে হৃদয় ও মস্তিস্ক কুরআন-সুন্নাহর আলো থেকে বঞ্চিত তা-ই নানাবিধ বিভ্রান্তি ও কুসংস্কারের প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়। একারণে দেখা যায়, পার্থিব শিক্ষা দীক্ষায় অগ্রসর হওয়ার পরও আজব আজব বিভ্রান্তি ও কুসংস্কারে মানুষ লিপ্ত থাকে। এমনকি ঐসবকেই গৌরবের বিষয় মনে করে।

আরব জাহেলিয়াতের মতো এখনও অনেক নারী-পুরুষ কুলক্ষণে বিশ্বাস করে। জপতপ, তন্ত্রমন্ত্রে আস্থা রাখে। জটাধারী ফকিরের   পিছনে পিছনে ঘোরে। মূর্খ বে-শরা লোকদের অশ্লীল কথাবার্তাকে শিল্প-সংস্কৃতি গণ্য করে, এদের ‘জীবন’ ও ‘আদর্শ’ উদঘাটনের পিছনে লেগে থাকে!! 

আলোকিত ধর্ম-ইসলামের প্রধান শিক্ষা ঈমান। ঈমানের বিপরীত হচ্ছে কুফর। ঈমান হচ্ছে আলো আর কুফর হচ্ছে অন্ধকার। সুতরাং কুফরের অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে হলে ঈমানের দিকে আসতে হবে।

ঈমানের অন্যতম প্রধান বিষয় ‘তাওহীদ’। তাওহীদের বিপরীত বিষয়টি শিরক। তাওহীদ হচ্ছে আলো আর শিরক হচ্ছে অন্ধকার। সুতরাং অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে হলে তাওহীদের আলোই গ্রহণ করতে হবে।

ইসলামের আরেক প্রধান শিক্ষা ‘সুন্নাহ’। সুন্নাহ হচ্ছে বিদআ’র বিপরীত। সুন্নাহ হচ্ছে আলো আর বিদআ হচ্ছে অন্ধকার। সুতরাং বিদআর অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে হলে সুন্নাহর দিকে আসতে হবে।

ইসলামের অন্যতম প্রধান শিক্ষা ‘আদাবে হাসান’ অর্থাৎ সুরুচি ও সুনীতি। এর বিপরীতে আছে ‘ফাওয়াহিশ’ অর্থাৎ অনাচার ও অশ্লীলতা,কুসংস্কার । ‘আদাবে হাসান’ হচ্ছে আলো আর ‘ফাওয়াহিশ’ হচ্ছে অন্ধকার। সুতরাং ‘ফাওয়াহিশ’কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে হলে ‘আদাবে হাসানে’র দিকেই আসতে হবে।

মানবজাতির সর্ববিধ অন্ধকার থেকে মুক্ত করার জন্যই কুরআনের আগমন। মহান আল্লাহ কত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন-(তরজমা) এটি সেই কিতাব যা আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি যেন তুমি মানুষকে বের করে আন অনেক অন্ধকার থেকে এক আলোর দিকে।-সূরা ইবরাহীম (১৪) : ০১

আলোর স্রষ্টা মহান আল্লাহ যেন আমাদের সকল অন্ধকার থেকে মুক্তি দান করেন-এই প্রার্থনা।


2692 views

Related Questions