3 Answers

এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভ্রান্ত একটি ধারণা।

ইসলামে ব্যক্তির স্বাবলম্বী ও সক্ষমতার বিভিন্ন ধরণসাপেক্ষে বিয়েকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

ওয়াজিব বিয়ে : যখন শারীরিক চাহিদা থাকে এবং এই পরিমাণ সামর্থ্য থাকে যে তার এবং স্ত্রীর প্রতিদিনের খরচ বহন করতে পারবে, তখন বিয়ে করা ওয়াজিব। এ অবস্থায় বিয়ে থেকে বিরত থাকলে গুনাহগার হবে।

ফরজ বিয়ে : যদি সামর্থ্য থাকার সাথে সাথে চাহিদা এতো বেশি থাকে যে, বিয়ে না করলে ব্যাভিচার বা হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তখন বিয়ে করা ফরজ। মানব জীবনে বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ইসলামে বিয়েকে ঈমানের অর্ধেক বলা হয়েছে। বিয়ের মাধ্যমেই ঈমানের পূর্ণতা পাওয়া যায়। বিয়ে মানব জীবনের অন্যতম চাহিদাও বটে। বিয়ে শুধু শারীরিক চাহিদা বা ঈমাণ পূর্ণ করে তাই নয়, পুরুষের ব্যক্তিত্বেরও বিকাশ ঘটায়। সমাজে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে। এজন্য সময়মতো বিয়ে করাকে গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। যারা বিয়ের উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে করে না, তাদেরকে শয়তানের দলভূক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবাই নারী সংক্রান্ত ফেৎনায় জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু যারা বিয়ে করেছে তারা নারীর ফেৎনা থেকে পবিত্র। নোংড়ামি থেকে মুক্ত। তারপর বলেন, আক্কাফ! তোমার ধ্বংস হোক। তুমি বিয়ে কর নতুবা তুমি পশ্চাৎপদ মানুষের মধ্যে থেকে যাবে। [মুসনাদে আহমদ, জমউল ফাওয়ায়েদ, ইমদাদুল ফাতওয়া : ২/২৫৯]। ইসলামে ব্যক্তির স্বাবলম্বী ও সক্ষমতার বিভিন্ন ধরণসাপেক্ষে বিয়েকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

সুন্নত বিয়ে : যদি শারীরিক চাহিদা প্রবল না থাকে, কিন্তু স্ত্রীর অধিকার আদায়ের সামর্থ্য রাখে তখন বিয়ে করা সুন্নত। এ অবস্থায় খারাপ কাজের প্রতি ঝোঁকার আশঙ্কা না থাকলে বিয়ে না করলে কোনো অসুবিধা নেই।

নিষিদ্ধ বিয়ে : যদি কারো আশঙ্কা হয় সে স্ত্রীর অধিকার আদায় করতে পারবে না। চাই তা দৈহিক হোক বা আর্থিক। তার জন্য বিয়ে করা নিষিদ্ধ। সামর্থ্য না থাকলে।

রোজা রাখা : অনেকের বিয়ের ইচ্ছে আছে, সক্ষম পুরুষও কিন্তু স্ত্রীকে ভরণ পোষণ দেয়ার ক্ষমতা নেই। এ অবস্থায় বিয়ে না করে রোজা রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে হাদিসে। কারণ রোজা দৈহিক কাম উত্তেজনা দূর করে দেয়। এ সময় সক্ষমতা অর্জনের জন্য বেশি বেশি কাজ ও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে।

2800 views

হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একবার তিন ব্যক্তির একটি দল নবীজী (সা)এর ইবাদত পদ্ধতি জানার উদ্দেশ্যে তাঁর স্ত্রীদের গৃহে এলেন। তাদেরকে এ ব্যাপারে জানানো হলে তারা এগুলিকে সামান্য মনে করলেন। তারা বললেন, কোথায় নবী করীম (সা) আর কোথায় আমরা? আল্লাহ তো তাঁর পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাদের একজন বললেন আমি আজীবন সারা রাত সালাত আদায় করব। দ্বিতীয়জন বললেন, আমি সারা জীবন প্রতিদিন রোজা রাখব। কখনো দিনের বেলা রোজা ভাঙবও না, খাবও না। তৃতীয়জন বললেন, আমি নারী সংশ্রব বর্জন করব এবং সারা জীবন অবিবাহিত থাকব। এমন সময় নবীজী (সা) এসে পড়লেন। তিনি বললেন, এই ধরনের কথাগুলি কি তোমরাই বলছিলে? শুনে রাখ, আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের চেয়ে বেশী আল্লাহকে ভয় করি এবং অতি সতর্কতার সাথে তাঁর হুকুম মেনে চলি। কিন্তু এরপরও আমি দিনের বেলা রোজা রাখি, আবার রোজা ভেঙ্গেও থাকি। আমি রাত জেগে সালাত আদায় করি, আবার ঘুমাইও। আর আমি বিয়ে- শাদীও করেছি। কাজেই যারা আমার নীতি থেকে বিচ্যুত হবে তারা আমার দলভুক্ত নয়।” (বুখারী ও মুসলিম) অন্য হাদীসে রাসূল (সা) আরো বলেছেন, “বিয়ে করা আমার আদর্শ ও স্থায়ী নীতি, যে লোক আমার এ সুন্নত অনুযায়ী আমল করবে না, সে আমার দলভুক্ত নয়।” ( ইবনে মাযা) তিনি আরো বলেছেন, “যে লোক বিয়ে করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে করে না, সে আমার উম্মতের মধ্যে শামিল নয়।”(দারেমী) এথেকে বোঝা যায় কথাটা সত্যি। সুতরাং, বৌ বাচ্চার দায়িত্ব পালনের সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই বিয়ে করতে হবে।

2800 views

এটার কোন প্রমান নেই যে বিয়ে না করলে নবির উম্মত থেকে বন্চিত হবো আল্লাহর ওলি শাহ জালাল তিনি চির কুমার ছিলো

2800 views

Related Questions