2 Answers
এটি আসলে অমুসলিমদের আবিষ্কৃত একটি ঈদ। সুতরাং মুসলমানদের তা পালন করা বিদআত এবং সেই সাথে কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন ও অন্ধঅনুকরণও। মুসলিমদের বাৎসরিক ঈদ দুটি এবং সাপ্তাহিক ঈদ একটি। এ ছাড়া র কোন ঈদ বা পালনীয় “দিবস” নেই। বলা বাহুল্য কাফেরদের অনুকরণে অনুরূপ সকল ঈদ বর্জনীয়। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনে (নিজের পক্ষ থেকে) কোন নতুন কথা উদ্ভাবন করল---যা তাঁর মধ্যে নেই, তা প্রতাখ্যানযোগ্য।” ১০৪ (বুখারী ও মুসলিম)
মায়ের যে হোক আছে, তা বাৎসরিক একটি দিবসকে তাঁর নামে পালন করে, দু চারটি উপহার উপঢৌকন পেশ করে, পান ভোজনের অনুষ্ঠান করে আদায় হয়ে যায় না। মায়ের প্রতি কর্তব্য আছে প্রত্যহিক। মায়ের পদতলে আছে সন্তানের বেহেশত। মায়ের কথার অবাধ্য হয়ে মাতৃ দিবস পালন করে পার্থিব আনুষ্ঠানিক আনন্দোপভোগ ছাড়া আর কী হতে পারে? ১০৫(ইবনে ঊষাইমীন)
তথ্যসুত্রঃ হাদিস বিডি
মাতৃ দিবস পালন মুসলমানদের জন্য জায়েজ নয়। বর্তমানে এর জন্য মুসলমানেরা বিভ্রান্তির পথে ধাবমান হচ্ছে। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, কোন ব্যক্তি যেই জাতির অনুকরণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে। (আবু দাউদ) আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন (মদীনায়) আসলেন, তখন তাদের দুটো উৎসবের দিন ছিল। তিনি (সা.) বললেন, ‘এ দুটো দিনের তাৎপর্য কি?’ তারা বলল, ‘জাহিলিয়াতের যুগে আমরা এ দুটো দিনে উৎসব করতাম।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে এদের পরিবর্তে উত্তম কিছু দিয়েছেনঃ ইয়াওমুদ্দুহা ও ইয়াওমুল ফিতর । (সূনান আবু দাউদ)। এ হাদীস থেকে দেখা যাচ্ছে যে,ইসলাম আগমনের পর ইসলাম বহির্ভূত সকল উৎসবকে বাতিল করে দেয়া হয়েছে এবং নতুনভাবে উৎসবের জন্য দুটো দিনকে নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই সাথে অমুসলিমদের অনুসরণে যাবতীয় উৎসব পালনের পথকে বন্ধ করা হয়েছে। মদীনায় ইসলামপূর্বে দু’টি উৎসব চালু ছিল। নওরোয ও মেহেরজান নামে। সাহাবীগণ ওই দুটি উৎসব পালন করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তা পালনের অনুমতি দেননি। বরং এর উত্তম বিকল্প হিসেবে মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র দুটি ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপহার দিয়েছেন। এ থেকে এ সত্যটি অনুধাবন করা যায় যে যদি মুসলমানদের জন্য অন্যদের উৎসব পালন করার সুযোগ থাকতো তাহলে তিনি ওই উৎসব পালন করা থেকে সাহাবীদের বিরত করতেন না। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ)বলেছেন "যারা বিধর্মীদের মত উৎসব করবে, কিয়ামত দিবসে তাদের হাশর ঐ লোকদের সাথেই হবে।" (আস-সুনানুল কুবরা,হাদীস ১৫৫৬৩)। রাসূলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেছেন, "যে ব্যক্তি অন্য ধর্মাবলম্বীদের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করবে সে তাদের অন্তুর্ভূক্ত।" (আবূ দাউদ)। তাই, উক্ত হাদীসগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী বলা যায়, ইসলামে শুধু ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা ছাড়া সকল উৎসব-ই (দিবস) বাতিল বলে গণ্য হবে।