2 Answers

সন্ধ্যা এবং রাতের বেলায়ই বেশি দেখা যায়।

2766 views

কোরআনে কারিমে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, জিনরা মানুষদের দেখতে পায়, কিন্তু মানুষরা জিনদের দেখতে পায় না। কিন্তু কখনো কখনো তারা যে মানুষের সুরত অবলম্বন করে থাকে বা কোনো প্রাণীর বেশ ধরে, তখন মানুষ তাদের দেখতে পায়। আর এটা সন্ধার পর বেশি দেখা যায়। মূল সুরতে তাদের কখনো দেখতে পায় না। দেখলে মানুষ ভীত হতো, ভয় পেত। আল্লাহ তায়ালা মানুষদের তা থেকে মুক্ত রেখেছেন। এজন্য হাদীসে সন্ধ্যার আগে বাচ্চাদের বাড়ি ফেরার জন্য বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হজরত জাবের (রাঃ) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, সূর্য ডুবে অন্ধকার যখন নেমে আসতে থাকে তখন বাচ্চাদের তোমাদের কাছে নিয়ে এসো। বাহিরে যেতে দিও না। কেননা, ঐ সময় শয়তানের আনাগোনা বেড়ে যায়। তারপর যখন রাতের কিছু অংশ চলে যায় তখন (প্রয়োজনে) তাদের বাহিরে যেতে দাও। এবং আল্লাহর নামে ঘরের দরজা বন্ধ করে দাও। (সহীহুল বুখারিঃ ৩২৮০) এই হাদীস সহ আরো বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণীত যে, সূর্য ডুবার সঙ্গে সঙ্গে শয়তান ও তার অনুসারী জিনদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘উমদাতুল কারী’ তে এই হাদীসের ব্যাখ্যায়, লেখা হয়েছে ঐ সময়টাতে বাচ্চাদের ব্যাপারে শঙ্কা করা হয়েছে। কারণ, শয়তান নাপাকি পছন্দ করে। আর ছোট বাচ্চাদের শরীর সাধারণত নাপাক থাকে। তাছাড়া, বাচ্চারা শয়তান থেকে রক্ষার দোয়া-কালামও তেমন জানে না। সন্ধ্যায় শয়তান বের হয়ে, যার পেছনে লাগা সম্ভব হয় তার পেছনেই লেগে যায়। শয়তানের দলের ঐ সময় বের হওয়ার কারণ হলো তাদের জন্য দিনের আলোর তুলনায় রাতের অন্ধকারে ঘোরাফেরা করা অনেক সহজ। এরকমভাবে প্রত্যেক অন্ধকারই ওদের চলাফেরার বেশি উপযোগী। এজন্য কেউ কেউ বলেন শয়তানের দল অন্ধকার থেকে সাহায্য নেয়। আর আলোকে অপছন্দ করে ও কুলক্ষণ মনে করে। (উমদাতুল কারী, শরহে সহীহিল বুখারী, খন্ড-১২. পৃষ্ঠা-৩৮১)।

2766 views

Related Questions