2 Answers
এর উত্তর হল, অবশ্যই জিন মানুষকে আছর করতে পারে। স্পর্শ দ্বারা পাগল করতে পারে। মানুষের উপর ভর করতে পারে। তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তার জীবনের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম ব্যাহত করতে পারে। এটা বিশ্বাস করতে হয়। তবে এ বিষয়টি কেহ অবিশ্বাস করলে তাকে কাফের বলা যাবে না। সে ভুল করেছে, এটা বলা হবে।জিন যে মানুষকে আছর করে তার কিছু প্রমাণ: আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: “যারা সুদ খায়, তারা তার ন্যায় দাড়াবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দেয়।” [সূরা আল বাকারা: ২৭৫]
এ আয়াত দ্বারা যে সকল বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝা যায়:
- যারা সূদ খায় তাদের শাস্তির ধরণ সম্পর্কে ধারণা।
- শয়তান বা জিন মানুষকে স্পর্শ দ্বারা পাগলের মত করতে পারে।
- মানুষের উপর শয়তান বা জিনের স্পর্শ একটি সত্য বিষয়। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।
- জিন-শয়তানের এ স্পর্শ দ্বারা মানুষ যেমন আধ্যাত্নিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেমনি শারীরিক দিক দিয়েও অস্বাভাবিক হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর যে পরম করুণাময়ের জিকির থেকে বিমুখ থাকে আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করি, ফলে সে হয়ে যায় তার সঙ্গী।” [সূরা যুখরুফ: ৩৬]
এ আয়াত দ্বারা যা স্পষ্ট হল : মহান রাহমান ও রহীম আল্লাহ তাআলার জিকির থেকে বিরত থাকা জিন শয়তানের স্পর্শ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একটি কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর স্মরণ কর আমার বান্দা আইউবকে, যখন সে তার রবকে ডেকে বলেছিল, শয়তান তো আমাকে কষ্ট ও আযাবের ছোঁয়া দিয়েছে।” [সূরা সাদ: ৪১]
এ আয়াত দ্বারা আমরা স্পষ্টভাবে বুঝলাম:
- শয়তান নবী আইউব আলাহিস সালামকে স্পর্শ করে শারীরিক রোগ-কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছিল।
- তিনি শয়তানের স্পর্শ থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছেই প্রার্থনা করেছিলেন।
জীন মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। তাঁর প্রমাণ স্বরূপ উলামাগণ বিভিন্ন দলীল উল্লেখ করেন। মহান আল্লাহ বলেন, “যারা সুদ খায় তারা (কিয়ামত) সেই ব্যক্তির মত দণ্ডায়মান হবে, যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল ক’রে দিয়েছে।” ( বাকারাহঃ ২৭৫) মহানবী (সঃ) বলেছেন, “শয়তান মানুষের রক্ত-শিরায় প্রবাহিত হয়।” ২৫ এ ছাড়া মহানবী (সঃ) ‘উখরুজ আদুওয়াল্লাহ’ বলে মুখে থুথু দিয়ে জীন বিতাড়িত করেছেন। ২৬ (বুখারী ২০৩৮, মুসলিম ৫৮০৭ নং) | ২৬ (আহমাদ, ইবনে মাজাহ ৩৫৪৮ নং)