এটা কি তালাক হয়ে যাবে.. ইসলামিক শরিয়তের অনুসারে?
2 Answers
কোন ব্যক্তি মনে মনে তালাকের নিয়ত করেছে, অতপর মুখে উচ্চারণ করেনি, তাহলে সকলের মতে তালাক হবে না। কেননা, মনে মনে তালাকের কথা ভাবলে তা মুখে উচ্চারণ না করা পর্যন্ত এর কোন আইনগত কার্যকারিতা নেই।
যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে মুখে উচ্চারণ করে বলে আমি তোমাকে সজ্ঞানে পরিস্কার করলাম অথবা ছেড়ে দিলাম। তাহলে এতে তালাক হবে।
কেননা, প্রকৃতপক্ষে অথবা ঠাট্টাচ্ছলে তালাক দেওয়া হলেও তা পতিত হয়।
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে প্রকৃতপক্ষে বললেও এবং ঠাট্টাচ্ছলে বললেও যথার্থ বলে বিবেচিত হবেঃ বিয়ে, তালাক ও রাজআত (তালাক প্রত্যাহার)
তালাকের ক্ষেত্রে মনের নিয়তের বিবেচনা করা হয় না বরং মুখে উচ্চারিত শব্দের বিবেচনা করা হয়।
কেননা হাদিসে এসেছে, আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে পর্যন্ত আমার উন্মত কোন মনের কথা প্রকাশ না করে অথবা সে অনুযায়ী কাজ না করে, সে পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তা উপেক্ষা করেন (ক্ষমা করেন)।
(সূনান আত তিরমিজী, হাদিস নম্বরঃ ১১৮৩ ইবনে মাজাহঃ ২০৪০, হাদিসের মানঃ সহিহ)।
সুতরাং মুখে উচ্চারণ না করে শুধু চিন্তা করলে তালাক পতিত হয় না। (উমদাতুল কারী, শরহুল বুখারিঃ ২০/২৫৬)
আমাদের সমাজে তোমাকে ছেড়ে দিলাম বাক্যটি তালাকের জন্যই ব্যবহার হয়ে থাকে। সুতরাং উক্ত স্বামী যদি 'আমি তোমাকে সজ্ঞানে ছেড়ে দিলাম' কথাটি মুখে উচ্চারণ করে থাকে, তাহলে ঐ মহিলার উপর এক তালাকে রজয়ী পতিত হয়েছে। এখন স্বামী পুণরায় সুষ্ঠুরূপে ঘর-সংসার করতে চাইলে ইদ্দতের মধ্যে রজআত অর্থাৎ স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। রজআতের উত্তম পদ্ধতি হচ্ছে, ইদ্দতের ভিতরে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করা। যেমন, এ কথা বলবেন যে, তোমাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করলাম। এর দ্বারাই তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পুণঃবহাল হয়ে যাবে। আর যদি স্বামী ইদ্দতের ভিতরে (ঋতুমতী মহিলার জন্য তিনটি হায়েয অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত আর অন্তঃসত্তা মহিলার জন্য সন্তান প্রসব পর্যন্ত) রজআত না করেন তবে ইদ্দত শেষ হওয়ার সাথে সাথে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আবার ঘর-সংসার করতে চাইলে নতুন মোহর ধার্য করে দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন করে বিবাহ করতে হবে। প্রকাশ থাকে যে, এই স্ত্রীকে ইদ্দতের ভিতরে কিংবা ইদ্দত শেষ হয়ার পর পুণরায় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলে পরবর্তীতে ঐ স্বামী দুই তালাকের অধিকারী থাকবে। তাই পরবর্তীতে এই স্ত্রীকে কখনো দুই তালাক দিলে পূর্বের এক তালাকের সাথে মিলে তিন তালাক হয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে নতুন করে বিবাহ করেও একত্রিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তাই সামনে থেকে তালাক বিষয়ে সতর্ক থাকবে। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালাক দেওয়া অন্যায়। অনেক ক্ষেত্রে তালাক স্ত্রী-সন্তানের উপর এবং নিজের উপরও জুলুমের কারণ হয়। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা কর্তব্য। -বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৪৩১; আলবাহরুর রায়েক ৩/৩০০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৪৬৩; রদ্দুল মুহতার ৩/২৯৯; আলবাহরুররায়েক ৪/৫০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৮৮
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy