4 Answers
ভালো মানুষ হতে হলে প্রথমে ঈমান ঠিক করতে হব।পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বেন।সত্য কথা বলবেন।পরোপকার করবেন।কখনো খারাপ আচরণ করবেন না।তা হলে ইনশাআল্লাহ ভালো মানুষ হতে পারবেন।
ভালো-খারাপ মিলিয়ে মানুষ! আমরা মনের অজান্তে অনেক সময় ভুল করলেও ভালো মানুষ হতে চাই”।কারণ - যারা ভালো, আদর্শবান, শ্রেষ্ঠ মানুষ তাদের জীবনের সৌন্দর্যের আলোতেই আলোকিত হয় পরিবার, সমাজ, জাতি, রাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্ব। তারা সমাজ, জাতি, রাষ্ট্রের মণিমুক্তাতুল্য অমূল্য রত্ন, যারা হবে সকলের জন্য অনুকরণীয়, অনুসরণীয়, মডেল বা আদর্শ।
ভালো-মন্দের ধারণা অনেকটা আপেক্ষিক, আমার কাছে যা ভালো, অন্যজনের কাছে তা ভালো নাও হতে পারে। আমার কাছে যা মন্দ তা আরেকজনের কাছে মন্দ নাও হতে পারে। তারপরও নৈতিকতার সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য একটা সংজ্ঞা আছে।
ভালো মানুষের সংজ্ঞায় বলা যায়, “নিজের বিবেককে কাজে লাগিয়ে যে ব্যক্তি বা সত্তা তার নৈতিক দায়িত্ব-কর্তব্যগুলো যথাযথভাবে পালন করেন, চরিত্রের ভালো উপাদানগুলো গ্রহণ ও মন্দ উপাদানগুলো বর্জন করেন তিনিই প্রকৃত বা ভালো মানুষ”।
ভালো মানুষের পরিচয় দিতে গিয়ে হাদিসে বিভিন্ন বক্তব্য এসেছে, যেমন -
★আবু হোরায়রা(রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা)কে প্রশ্ন করা হলো, ভালো মানুষ কে? মহানবী(সা) বলেন, ভালো মানুষ তিনিই যে আল্লাহকে বেশি ভয় করে। (বুখারী : ৪৬৮৯)
★ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সেই, যার চরিত্র সবচেয়ে বেশি সুন্দর। (বুখারী: ৩৫৫৯)
★আবু হোরায়রা(রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যে নিজ পাওনাদারের পাওনা উত্তমভাবে পরিশোধ করে। (বোখারী : ২৩০৫)
★ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) এর নিকট আরজ করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল সর্বোত্তম মানুষ কে? তিনি বললেন- ঐ ব্যক্তি, যার অন্তর পাপমুক্ত, পরিষ্কার, কারো প্রতি কোন আক্রোশ ও বিদ্বেষ নেই এবং যে সত্যবাদী হয়। (ইবনে মাজাহ : ৪২১৬)
★আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবীকে (সা) বলতে শুনেছি, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলো যাকে দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। (ইবনে মাজাহ : ৪১১৯)
অবশ্য হাদিসগুলোতে রাসূল (সা) স্থান, কাল, অবস্থা, প্রেক্ষাপটের আলোকে সর্বোত্তম মানুষ বা ভালো মানুষের পরিচয় তুলে ধরেছেন।
অতএব,বলা যায় কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ভালো মানুষ তিনিই- যিনি কুরআন-হাদিসে ঘোষিত আল্লাহ প্রদত্ত আদেশাবলি পালন এবং নিষেধাবলিকে পরিত্যাগ করে একনিষ্ঠভাবে নৈতিক দায়-দায়িত্বগুলো পরিপূর্ণভাবে পালন করেন। ভালো মানুষ গুনাহসমূহ থেকে হবেন মুক্ত। গুনাহ দুই প্রকার ১. কবিরা ২. সগিরাহ। কুরআন ও হাদিসে কবিরা গুনাহর সঠিক সংখ্যা উল্লেখ নেই। কুরআন ও হাদিসের আলোকে উল্লেখযোগ্য কবিরা গুনাহ হলো- শিরক, হত্যা, যাদু, নামাজ ত্যাগ, জাকাত অনাদায়, বিনা কারণে রোজা ভংগ করা, সামর্থ্য থাকা সত্তেও হজ্ব না করা, আত্মহত্যা, পিতা-মাতার অবাধ্যতা, ব্যভিচার, সমকামিতা, সুদের লেনদেন, ইয়াতীমদের সম্পদ আত্মসাৎ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, অহংকার, মিথ্যা সাক্ষ্যদান, মদপান, জুয়া, সতী নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ, চুরি, ডাকাতি, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর মিথ্যারোপ, মিথ্যা শপথ, জুলুম-নির্যাতন, মিথ্যা কথা, ঘুষ খাওয়া, অশ্লীলতা, খিয়ানত করা, চোগলখুরী করা, গালি দেয়া, ওয়াদা ভংগ করা, অহংকার, প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া, ওজনে কম দেয়া, ধোকাবাজি, কৃপণতা, বিচারে দুর্নীতি করা ইত্যাদি। ভালো মানুষ কবিরা ও সগিরা গুনাহ থেকে মুক্ত হবেন।
আল্লাহ আমাকেও আপনাকে, আমাদের সবাইকে ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তাওফিক দিন৷ (আমিন)
আপনি সবদা সৃষ্টিকতার প্রতি বিশ্বাস রাখুন এবং সৃষ্টিকতাকে ভয় করুন।আর ভালো মানুষ হতে গেলে শিক্ষার বিকল্প নেই**ধন্যবাদ*