4 Answers
ভেঙ্গু জ্বর চেনার উপায়ঃ
তীব্র মাথা যন্ত্রণাঃ ডেঙ্গুর অন্যতম প্রধান লক্ষণ তীব্র মাথা যন্ত্রণা। অনেক সময়ে তা ব্রেন হ্য়ামারেজে পরিণত হয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
হঠাৎ জ্বরঃ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হঠাৎ হঠাৎ তীব্র জ্বর হয়। সাধারণত সেই জ্বরে তাপমাত্রা ১০২ ফারেনহাইটের উপরে উঠে যায় ও তা নামার লক্ষণ দেখা যায় না।
বমি ভাবঃ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে অল্প থেকে বেশি বমি বমি ভাব লেগেই থাকে।
গাঁটে ব্যথাঃডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির গাঁটে ও মাংসপেশি প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা ব্যথা নিরোধক ওষুধ দিয়ে থাকেন। প্যারাসিটামল ট্যাবলেটই সাধারণভাবে দেওয়া হয়ে থাকে।
ডিহাইড্রেশনঃ ডিহাইড্রেশনে শরীরে পানির মাত্রা কমে যায়। ডেঙ্গু জ্বরে বেশি তাপমাত্রায় শরীর শুকিয়ে গেলে অনেক সময়ই শরীরে ফ্লুইডের খামতি হয়। এক্ষেত্রে রোগীদের স্যালাইন পানি দেয়া হয়ে থাকে।
রক্তক্ষরণঃ ডেঙ্গুতে শরীরের নানা জায়গায় রক্তক্ষরণ হয়। শরীরের ভিতরে যেমন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে অনেক সময়ে তা ধরা পড়ে না ফলে মৃত্যুর দিরে এগিয়ে যায় রোগী।
প্লেটলেটঃ কমে যাওয়া ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের রক্তের প্লেটলেট নামতে থাকে হু হু করে। রক্তপরীক্ষার মাধ্যমেই একমাত্র তা নির্ণয় করা সম্ভব।
রক্তচাপঃ কমে যাওয়া রক্তে প্লেটলেট কমে যাওয়া ও অন্যান্য সমস্যায় রক্তচাপও অনেকটা কমে যায়। ফলে রোগীর বসতে, শুতে, চলাফেরা করতে সমস্যা হয়।
স্নায়ুর সমস্যাঃ ডেঙ্গু আক্রান্তরা স্নায়ুর সমস্যায় ভোগেন। অনেক সময়ে ব্রেন হ্য়ামারেজ বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঘটনাও ঘটে।
চামড়ার নানা সমস্যাঃ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে লাল লাল ছোপ পড়ে চামড়ায়। ডেঙ্গু হওয়ার দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম দিনের মধ্য়ে চামড়ার এমন সমস্যা দেখা দেয়।
এই সব লক্ষণ দেখতে পেলে অবশ্যই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্রঃ নয়া দিগন্ত
ডেংঙ্গু জ্বর হয়েছে কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই রক্ত পরিক্ষা করতে হবে।তাই পাশ্ববতী ডাক্তারের শরনাপন্ন হন
তীব্র জ্বর, মাথাব্যাথা, চোখ ব্যাথা, গিঁটে অথবা মাংসপেশিতে ব্যাথা, ক্ষুধামন্দা, শরীরে দুর্বলতা অনুভব, বমি, মুখ অথবা নাক দিয়ে রক্ত পড়া
।উপরিউক্ত লক্ষণগুলা দেখা দিলে, কখনোই বসে থাকবেন না । অতি দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন । চিকিৎসক লক্ষণ দেখে অথবা CBC, Dengue NS1 অথবা IgG IgM টেস্টের মাধ্যমে আপনার ডেঙ্গু শনাক্ত করবেন ।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণসমূহ
ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর ও সেই সঙ্গে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়ে থাকে। জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমড়, পিঠসহ অস্থি সন্ধি এবং মাংসপেশীতে তীব্র ব্যথা হয়। এছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পিছনে ব্যথা হয়। অনেক সময় ব্যথা এত তীব্র হয় যে মনে হয় বুঝি হাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। তাই এই জ্বরের আরেক নাম “ব্রেক বোন ফিভার”।
জ্বর হওয়ার ৪ বা ৫ দিনের সময় সারা শরীরজুড়ে লালচে দানা দেখা যায়, যাকে বলা হয় স্কিন র্যাশ, অনেকটা এলার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব, এমনকি বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়। সাধারণত ৪ বা ৫ দিন জ্বর থাকার পর তা এমনিতেই চলে যায় এবং কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে এর ২ বা ৩ দিন পর আবার জ্বর আসে। একে “বাই ফেজিক ফিভার”বলে।
ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর
এই অবস্থাটাই সবচেয়ে জটিল। এই জ্বরে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি আরো যে সমস্যাগুলো হয়, তা হল-
শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া শুরু হয়, যেমন চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত হতে, কফের সঙ্গে, রক্তবমি, পায়খানার সাথে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে এবং চোখের বাহিরে, মহিলাদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব অথবা রক্তক্ষরণ শুরু হলে অনেকদিন পর্যন্ত রক্ত পড়তে থাকা ইত্যাদি।
এই রোগের বেলায় অনেক সময় বুকে পানি, পেটে পানি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় লিভার আক্রান্ত হয়ে রোগীর জন্ডিস, কিডনীতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
ডেঙ্গু শক সিনড্রোম
ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ রূপ হল ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সাথে সার্কুলেটরী ফেইলিউর হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়। এর লক্ষণ হল-
রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া।
নাড়ীর স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।
শরীরের হাত পা ও অন্যান্য অংশ ঠাণ্ডা হয়ে যায়।
প্রস্রাব কমে যায়।
হঠাৎ করে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।