যদি কেউ আপন বোনের নাতনীকে বিয়ে করে ফেলে তাহলে কি করতে হবে?

আমার এক চাচা তার আপন বড় বোনের নাতনীকে বিয়ে করেছেন এবং তাদের দুটি সন্তানের ও জন্ম হয়েছে, এখন আমার গ্রামের লোকজন কোথা থেকে শুনেছে তাদের সাথে কথা বলা যাবে না, কথা বললে পাপ হবে, অযু নষ্ট হবে, তাদেরকে যে ব্যক্তি আলাদা করতে পারবে সে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে। এখন তাদের সাথে আর কেউ কথা বলতে চায় না। এমতাবস্থায় তাদের এখন কি করা উচিত? যদি তারা আলাদা হয় তাহলে তাদের সন্তানের দায়িত্ব কে নিবে?

আমার দিতীয় প্রশ্ন- আমরা কি তাদের সাথে কথা বলতে পারব, চলাফেরা করতে পারব, সম্পর্ক ঠিক রাখতে পারব নাকি তাদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে দিব এবং তাদেরকে আলাদা করে দিব ।
2518 views

1 Answers

ইসলামী বিধান অনুসারে যাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করা জায়েজ আছে, তাদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ নয়, হারাম৷ যাদের সাথে দেখা করা জায়েজ, বিয়ে করা হারাম, তাদের তালিকা হলো-

(১) মা। 

(২) আপন দাদি, নানি ও তাদের ঊর্ধ্বতন নারীরা। 

(৩) সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন। 

(৪) আপন মেয়ে, ছেলের মেয়ে, মেয়ের মেয়ে ও তাদের গর্ভজাত যেকোনো কন্যাসন্তান ও আপন ছেলেসন্তানদের স্ত্রী। 

(৫) যে স্ত্রীর সঙ্গে দৈহিক মিলন সংঘটিত হয়েছে, তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বামীর কন্যাসন্তান এবং স্ত্রীর মা—অর্থাৎ শাশুড়ি, নানি শাশুড়ি ও দাদি শাশুড়ি। 

(৬) ফুফু—অর্থাৎ পিতার সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন। (৭) খালা—অর্থাৎ মায়ের সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন।

(৮) ভাতিজি—অর্থাৎ সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে ও তাদের অধস্তন কন্যাসন্তান। 

(৯) ভাগ্নি—অর্থাৎ সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে ও তাদের অধস্তন কন্যাসন্তান। 

(১০) দুধসম্পর্কীয় মেয়ে, মেয়ের মেয়ে, ছেলের মেয়ে ও তাদের অধস্তন কোনো কন্যাসন্তান এবং দুধসম্পর্কীয় ছেলের স্ত্রী। 

(১১) দুধসম্পর্কীয় মা, খালা, ফুফু, নানি, দাদি ও তাদের ঊর্ধ্বতন মহিলারা। 

(১২) দুধসম্পর্কীয় বোন, দুধবোনের মেয়ে, দুধভাইয়ের মেয়ে এবং তাদের গর্ভজাত যেকোনো কন্যাসন্তান। 

(১৩) যৌনশক্তিহীন এমন বৃদ্ধা, যার প্রতি পুরুষের কোনো প্রকার আকর্ষণ নেই। 

(১৪) অপ্রাপ্তবয়স্ক এমন বালিকা, যার প্রতি পুরুষের এখনো যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়নি। 

উল্লেখ্য, ১৩ ও ১৪ নম্বরে বর্ণিত মেয়েদের সঙ্গে বিবাহ জায়েজ আছে। উপরোক্ত নারীরা ছাড়া পুরুষের জন্য অন্য কোনো মহিলার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ জায়েজ নয়। (সুরা নিসা : ২৩, তাফসিরে মাজহারি : ২/২৫৪)

সুতরাং তাদের জন্য অবিলম্বে পৃথক হয়ে যাওয়া জরুরি এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে কায়মনোবাক্যে তাওবা-ইস্তিগফার করা আবশ্যক।

2518 views Answered

Related Questions

Next steps