1 Answers
নবী (সাঃ) হাই তোলার সময় মুখে হাত দিতে বলছেন। নবী (সাঃ) বলেন, আল্লাহ হাঁচি পছন্দ করেন কিন্তু হাই তোলা অপছন্দ করেন। কারো হাই উঠলে যেন নিজ মুখে হাত দেয়। আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ হাই তুলবে, তখন সে যেন আপন হাত দিয়ে নিজ মুখ চেপে ধরে রাখে। কেননা, শয়তান (মুখে) প্রবেশ করে থাকে। রিয়াযুস স্বা-লিহীন, হাদিস নম্বরঃ ৮৮৯, মুসলিমঃ ২৯৯৫, আবূ দাউদঃ ৫০২৬, হাদিসের মানঃ সহিহ। হাঁচির মাধ্যমে হাঁচি দাতার জন্য বিরাট নিয়ামাত অর্জিত হয়। এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভাল। কেননা এর মাধ্যমে শরীরে আটকে পড়া ধোঁয়া ও গ্যাস বের হয়ে যায়, যা শরীরের জন্য উপকারী। হাঁচি দেয়ার পর শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত যায়। তাই এই নিয়ামাতটি অর্জিত হওয়ার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করার বিধান নির্ধারিত হয়েছে। রাসূল (সাঃ) এর যখন হাই আসত, তখন মুখে হাত অথবা কাপড় রাখতেন এবং আওয়াজ নীচু রাখার চেষ্টা করতেন। সমকালীন ডাক্তারগণ বলেনঃ হাই তোলার সময় মুখ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী পরিমাণ উন্মুক্ত হয় এবং প্রচন্ড বেগে বাতাস ভিতরের দিকে আসা-যাওয়া করে। অথচ নাকের ন্যায় বাতাস গ্রহণ ও বর্জনের জন্য মুখ সব সময় প্রস্ত্তত থাকে না, মুখের মূল কাজও এটি নয়। তাই হাই তোলার সময় যখন মুখের স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যায় এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী পরিমাণ খুলে যায় তাই বাতাসের সাথে বিভিন্ন প্রকার রোগ জীবাণু, ময়লা এবং ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে। এ জন্যই পবিত্র সুন্নাতে হাই তোলার সময় মুখ ঢেকে রাখতে বলা হয়েছে। হাঁচি এর বিপরীত। এর মাধ্যমে মুখ ও নাক দিয়ে শ্বাসযন্ত্র থেকে প্রচন্ড বেগে বাতাস বের হয়ে যায়। সেই সাথে শ্বাসযন্ত্রে প্রবেশকারী ধুলোবালি, ময়লা এবং বিভিন্ন রোগ জীবাণু বের হয়ে যায় এবং শরীর পরিষ্কার হয়। তাই এটি আল্লাহর পক্ষ হতে হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ এতে শরীরের উপকার রয়েছে। অপর পক্ষে হাই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে বলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এ জন্যই সাধ্যানুযায়ী তা ঠেকাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।